ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

আব্দুল আউয়াল মিন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়নি ইসি: হাসনাত


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৬:১৯:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২০৯৯ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল শুনানি চলাকালে বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর আচরণকে অশোভন ও অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব অভিযোগ করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক চলাকালে হঠাৎ করে আব্দুল আউয়াল মিন্টু উত্তেজিত হয়ে এক প্রার্থীর দিকে তেড়ে যান এবং আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, একপর্যায়ে তার ছেলে তাবিথ আউয়াল তাকে কমিশন কক্ষ থেকে বাইরে নিয়ে যান।

এই আচরণের সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে এলিট মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ গ্রহণযোগ্য নয়। কাউকে অবমাননাকর ভাষায় সম্বোধন করে আবার জনগণের কাছে ভোট চাওয়ার বিষয়টি পরস্পরবিরোধী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী একটি শ্রেণি বিদেশে অর্থ পাচারসহ নানা অনিয়মে জড়িত থেকে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করে আসছে। তিনি বলেন, রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যারা ব্যবসায়িক সুবিধা নেয় এবং সংকটের সময় নিরাপদ প্রস্থান করে, তাদের নতুন বাংলাদেশে স্থান হওয়া উচিত নয়।

শুনানি চলাকালে নির্বাচন কমিশনের সামনেই একজন প্রার্থীকে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। তার ভাষ্য, ইসির উপস্থিতিতে এমন ঘটনা ঘটলে অন্যান্য প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কীভাবে সম্ভব—সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

কমিশন ঘটনাটিকে ‘বিচ্ছিন্ন’ বলে উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছে—এমন দাবি করে তিনি বলেন, এতে কমিশনের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাই ফুটে উঠেছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কমিশনের পক্ষ থেকে রুলিং দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তা মানা হয়নি।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, নির্বাচনকালীন পরিবেশ সুষ্ঠু ও নিরাপদ রাখতে কমিশনকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। অন্যথায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মানুষের ত্যাগ ও আন্দোলন অর্থহীন হয়ে পড়বে। নির্বাচনে অর্থ ও প্রভাবের মাধ্যমে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি আর চলতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

আব্দুল আউয়াল মিন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়নি ইসি: হাসনাত

আপডেট সময় : ০৬:১৯:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল শুনানি চলাকালে বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর আচরণকে অশোভন ও অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব অভিযোগ করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক চলাকালে হঠাৎ করে আব্দুল আউয়াল মিন্টু উত্তেজিত হয়ে এক প্রার্থীর দিকে তেড়ে যান এবং আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, একপর্যায়ে তার ছেলে তাবিথ আউয়াল তাকে কমিশন কক্ষ থেকে বাইরে নিয়ে যান।

এই আচরণের সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে এলিট মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ গ্রহণযোগ্য নয়। কাউকে অবমাননাকর ভাষায় সম্বোধন করে আবার জনগণের কাছে ভোট চাওয়ার বিষয়টি পরস্পরবিরোধী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী একটি শ্রেণি বিদেশে অর্থ পাচারসহ নানা অনিয়মে জড়িত থেকে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করে আসছে। তিনি বলেন, রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যারা ব্যবসায়িক সুবিধা নেয় এবং সংকটের সময় নিরাপদ প্রস্থান করে, তাদের নতুন বাংলাদেশে স্থান হওয়া উচিত নয়।

শুনানি চলাকালে নির্বাচন কমিশনের সামনেই একজন প্রার্থীকে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। তার ভাষ্য, ইসির উপস্থিতিতে এমন ঘটনা ঘটলে অন্যান্য প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কীভাবে সম্ভব—সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

কমিশন ঘটনাটিকে ‘বিচ্ছিন্ন’ বলে উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছে—এমন দাবি করে তিনি বলেন, এতে কমিশনের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাই ফুটে উঠেছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কমিশনের পক্ষ থেকে রুলিং দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তা মানা হয়নি।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, নির্বাচনকালীন পরিবেশ সুষ্ঠু ও নিরাপদ রাখতে কমিশনকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। অন্যথায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মানুষের ত্যাগ ও আন্দোলন অর্থহীন হয়ে পড়বে। নির্বাচনে অর্থ ও প্রভাবের মাধ্যমে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি আর চলতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।