ঢাকা ০২:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

নতুন চোরদের হাত অবশ করতে পারলেই উন্নয়ন হবে লাফিয়ে লাফিয়ে: জামায়াত আমির


নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:১২:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২০৯৯ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

নতুন চোরদের হাত অবশ করতে পারলেই দেশের উন্নয়ন দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এসএস হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বড় কাজ নয়, বড় মন ও ভিশনের প্রয়োজন। চুরি হওয়া অর্থ যদি ফিরিয়ে আনা যায় এবং নতুন চোরদের প্রতিহত করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের উন্নয়ন লাফিয়ে লাফিয়ে হবে।”

উত্তরবঙ্গের নদীগুলোর অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, “উত্তরবঙ্গের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলো আল্লাহর বড় নিয়ামত। কিন্তু গত ৫৪ বছরে এসব নদী সংরক্ষণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একসময় যে নদীতে জাহাজ চলত, সেখানে এখন সাধারণ নৌকাও চলাচল করতে পারে না। তিস্তা, ধরলা, করতোয়া ও ব্রহ্মপুত্র—সব নদীরই একই দশা।”

নদী মরে যাওয়ার অর্থ মাটি মরে যাওয়া উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “সবার ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে উত্তরবঙ্গের মরা নদীগুলো পুনরুজ্জীবিত করাই হবে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। পুরো উত্তরাঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক রাজধানীতে পরিণত করতে চাই।”

তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের সব নদীকে পুনর্জীবিত করার একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।

কারও চাপ বা আধিপত্যকে ভয় পান না জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশে কোনো আধিপত্যের ছায়া দেখতে চাই না। বিশ্বের সব সভ্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই, কিন্তু কারও খবরদারি মেনে নেব না। ৫৪ বছরে গড়ে ওঠা ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।”

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের পথ দেখায়। তারা চেয়েছিল দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ। শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাই।”

যুবসমাজের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা দেব না, বরং তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলব। উত্তরবঙ্গকে এমনভাবে গড়ে তুলব, যাতে মানুষকে কাজের সন্ধানে রাজধানীতে ছুটতে না হয়।”

কৃষকদের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণ হিসেবে মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজদের দায়ী করে তিনি বলেন, “আমরা চাঁদাবাজি নির্মূল করব এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করব।”

নদী ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “নদী শাসনের নামে ধ্বংস নয়, আমরা নদীগুলোকে আপন করে নেব। সন্তানের মতো লালন-পালন করেই নদীগুলোকে জীবিত করে তুলতে চাই।”

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

নতুন চোরদের হাত অবশ করতে পারলেই উন্নয়ন হবে লাফিয়ে লাফিয়ে: জামায়াত আমির

আপডেট সময় : ০১:১২:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন চোরদের হাত অবশ করতে পারলেই দেশের উন্নয়ন দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এসএস হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বড় কাজ নয়, বড় মন ও ভিশনের প্রয়োজন। চুরি হওয়া অর্থ যদি ফিরিয়ে আনা যায় এবং নতুন চোরদের প্রতিহত করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের উন্নয়ন লাফিয়ে লাফিয়ে হবে।”

উত্তরবঙ্গের নদীগুলোর অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, “উত্তরবঙ্গের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলো আল্লাহর বড় নিয়ামত। কিন্তু গত ৫৪ বছরে এসব নদী সংরক্ষণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একসময় যে নদীতে জাহাজ চলত, সেখানে এখন সাধারণ নৌকাও চলাচল করতে পারে না। তিস্তা, ধরলা, করতোয়া ও ব্রহ্মপুত্র—সব নদীরই একই দশা।”

নদী মরে যাওয়ার অর্থ মাটি মরে যাওয়া উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “সবার ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে উত্তরবঙ্গের মরা নদীগুলো পুনরুজ্জীবিত করাই হবে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। পুরো উত্তরাঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক রাজধানীতে পরিণত করতে চাই।”

তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের সব নদীকে পুনর্জীবিত করার একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।

কারও চাপ বা আধিপত্যকে ভয় পান না জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশে কোনো আধিপত্যের ছায়া দেখতে চাই না। বিশ্বের সব সভ্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই, কিন্তু কারও খবরদারি মেনে নেব না। ৫৪ বছরে গড়ে ওঠা ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।”

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের পথ দেখায়। তারা চেয়েছিল দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ। শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাই।”

যুবসমাজের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা দেব না, বরং তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলব। উত্তরবঙ্গকে এমনভাবে গড়ে তুলব, যাতে মানুষকে কাজের সন্ধানে রাজধানীতে ছুটতে না হয়।”

কৃষকদের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণ হিসেবে মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজদের দায়ী করে তিনি বলেন, “আমরা চাঁদাবাজি নির্মূল করব এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করব।”

নদী ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “নদী শাসনের নামে ধ্বংস নয়, আমরা নদীগুলোকে আপন করে নেব। সন্তানের মতো লালন-পালন করেই নদীগুলোকে জীবিত করে তুলতে চাই।”