ঢাকা ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

সুন্দরবনে ‘ডন বাহিনী’ পরিচয়ে ১৮ জেলেকে অপহরণের অভিযোগ


জয়নাল হোসেন, ক্রাইম রিপোর্টার, সাতক্ষীরা
  • আপডেট সময় : ০৭:৩০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২০৯৮ বার পড়া হয়েছে

সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে মাছ ধরতে গিয়ে ‘ডন বাহিনী’ পরিচয় দেওয়া একদল সশস্ত্র বনদস্যুর হাতে অন্তত ১৮ জন জেলে অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সুন্দরবননির্ভর জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

অপহৃত জেলেদের সঙ্গে থাকা ফিরে আসা সহযোগীরা জানান, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সুন্দরবনের অভ্যন্তরীণ মামুন্দো ও মালঞ্চ নদীর বিভিন্ন খালে মাছ ধরার সময় সশস্ত্র বনদস্যুরা নিজেদের ‘ডন বাহিনী’ পরিচয় দিয়ে প্রতিটি নৌকা থেকে একজন করে জেলেকে জিম্মি করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

জেলেদের দাবি, দস্যু দলের মধ্যে তারা ২০১৮ সালে আত্মসমর্পণকৃত বনদস্যু শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের আটিরউপর গ্রামের শাহাজান এবং একই গ্রামের শফিকুল ইসলাম ওরফে ভেটে শফিকুলকে চিনতে পেরেছেন। তাদের দুজনকে ‘ডন বাহিনীর’ প্রধানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ জেলেদের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মামুন্দো নদীর মাইটেভাঙা খাল থেকে তিনটি নৌকার তিনজন জেলেকে তুলে নেওয়া হয়। এ সময় দস্যুরা দুইটি নৌকা ছেড়ে দিয়ে একটি নৌকা নিয়ে যায়। এছাড়া মালঞ্চ নদীর মাইশারকোল খাল থেকে দুইটি নৌকার দুইজন, একই নদীর উলোবাড়ি খাল থেকে দুইটি নৌকার দুইজন এবং মামুন্দো নদীর রাজাখালী খাল থেকে তিনটি নৌকার তিনজন জেলেকে অপহরণ করা হয়। কলাগাছি এলাকা থেকেও তিনটি নৌকার তিনজন জেলেকে জিম্মি করা হয়। পরবর্তীতে আরও আটজন জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। নিরাপত্তার কারণে অপহৃত জেলেদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

অপহৃত জেলেদের অধিকাংশের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর, কদমতলা, মথুরাপুর, মৌখালী ও ছোট ভেটখালী এলাকায়।

জেলেদের অভিযোগ, বন বিভাগের সব নিয়ম মেনে মাছ ধরলেও তারা বনদস্যুদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় অনেক জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরা বন্ধ করে লোকালয়ে ফিরে আসতে শুরু করেছেন।

ভুক্তভোগী জেলেরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং সুন্দরবনে নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ সহযোগী মো. ফজলুল হক জানান, শুক্রবার দুপুরে তারা বিষয়টি জানতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছেন। জেলে জিম্মি হওয়ার ঘটনাটি কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তবে তিনি অভিযোগ করেন, কোস্টগার্ড তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না পাওয়ার অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছে, যা জিম্মি জেলেদের পরিবারকে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে ফেলেছে।

অন্যদিকে, কোস্টগার্ড মংলার মিডিয়া বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। তবে চলমান অভিযান সফলভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া সম্ভব নয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

সুন্দরবনে ‘ডন বাহিনী’ পরিচয়ে ১৮ জেলেকে অপহরণের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:৩০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে মাছ ধরতে গিয়ে ‘ডন বাহিনী’ পরিচয় দেওয়া একদল সশস্ত্র বনদস্যুর হাতে অন্তত ১৮ জন জেলে অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সুন্দরবননির্ভর জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

অপহৃত জেলেদের সঙ্গে থাকা ফিরে আসা সহযোগীরা জানান, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সুন্দরবনের অভ্যন্তরীণ মামুন্দো ও মালঞ্চ নদীর বিভিন্ন খালে মাছ ধরার সময় সশস্ত্র বনদস্যুরা নিজেদের ‘ডন বাহিনী’ পরিচয় দিয়ে প্রতিটি নৌকা থেকে একজন করে জেলেকে জিম্মি করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

জেলেদের দাবি, দস্যু দলের মধ্যে তারা ২০১৮ সালে আত্মসমর্পণকৃত বনদস্যু শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের আটিরউপর গ্রামের শাহাজান এবং একই গ্রামের শফিকুল ইসলাম ওরফে ভেটে শফিকুলকে চিনতে পেরেছেন। তাদের দুজনকে ‘ডন বাহিনীর’ প্রধানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ জেলেদের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মামুন্দো নদীর মাইটেভাঙা খাল থেকে তিনটি নৌকার তিনজন জেলেকে তুলে নেওয়া হয়। এ সময় দস্যুরা দুইটি নৌকা ছেড়ে দিয়ে একটি নৌকা নিয়ে যায়। এছাড়া মালঞ্চ নদীর মাইশারকোল খাল থেকে দুইটি নৌকার দুইজন, একই নদীর উলোবাড়ি খাল থেকে দুইটি নৌকার দুইজন এবং মামুন্দো নদীর রাজাখালী খাল থেকে তিনটি নৌকার তিনজন জেলেকে অপহরণ করা হয়। কলাগাছি এলাকা থেকেও তিনটি নৌকার তিনজন জেলেকে জিম্মি করা হয়। পরবর্তীতে আরও আটজন জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। নিরাপত্তার কারণে অপহৃত জেলেদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

অপহৃত জেলেদের অধিকাংশের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর, কদমতলা, মথুরাপুর, মৌখালী ও ছোট ভেটখালী এলাকায়।

জেলেদের অভিযোগ, বন বিভাগের সব নিয়ম মেনে মাছ ধরলেও তারা বনদস্যুদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় অনেক জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরা বন্ধ করে লোকালয়ে ফিরে আসতে শুরু করেছেন।

ভুক্তভোগী জেলেরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং সুন্দরবনে নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ সহযোগী মো. ফজলুল হক জানান, শুক্রবার দুপুরে তারা বিষয়টি জানতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছেন। জেলে জিম্মি হওয়ার ঘটনাটি কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তবে তিনি অভিযোগ করেন, কোস্টগার্ড তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না পাওয়ার অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছে, যা জিম্মি জেলেদের পরিবারকে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে ফেলেছে।

অন্যদিকে, কোস্টগার্ড মংলার মিডিয়া বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। তবে চলমান অভিযান সফলভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া সম্ভব নয়।