ই-রির্টান আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতিফলন–সিনিয়র সচিব
- আপডেট সময় : ০২:৪৯:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২০৯০ বার পড়া হয়েছে
একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ.এস.এম. সালেহ আহমেদ। তিনি বলেন, এই দুই নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা এবং তা ই-রিটার্ন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা একটি সাহসী ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ।
রবিবার ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মরত ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য ব্যক্তি করদাতাগণের ইলেকট্রনিক মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল’ শীর্ষক একটি লার্নিং সেশনে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিনিয়র সচিব বলেন, ই-রিটার্ন বা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল কেবল প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, এটি একটি আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিফলন। এই পদ্ধতির মাধ্যমে একদিকে কর প্রশাসন আরও সহজ ও স্বচ্ছ হয়েছে, অন্যদিকে সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের সুযোগ থাকায় আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য শনাক্ত করা সহজ হচ্ছে, যা দুর্নীতি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তা মানেই রাষ্ট্রের প্রতিনিধি। তাঁদের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা শুধু আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব। সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার একটি ইতিবাচক উদাহরণ। এতে সাধারণ জনগণের মধ্যেও কর প্রদানের আগ্রহ ও আস্থা বাড়বে। কারণ নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাই যখন কর প্রদানে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন, তখন তা সমাজে একটি শক্ত বার্তা দেয়।
সিনিয়র সচিব বলেন, ই-রিটার্ন ব্যবস্থা প্রকৃত অর্থেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে, যা পুরো কর ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দাখিল করা তথ্য সংরক্ষিত থাকায় প্রয়োজনে সেগুলো যাচাই করা সম্ভব—এটাই এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুফল।
লার্নিং সেশনে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের সহকারী কমিশনার এ.কে.এম. মনিরুজ্জামান। সভায় ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ. জে. এম. সালাহউদ্দিন নাগরীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সব আইন ও অধ্যাদেশ একত্রে সংকলনের বিষয়েও একটি পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়।


























