ঢাকা ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

এখনই মাথা গরম থাকলে চৈত্র এলে কী করবেন?- জামায়াত আমিরের প্রশ্ন


নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৮:২৭:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২১০০ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও হানাহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, একদিকে সরকার ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে, অন্যদিকে মা-বোনদের ওপর হাত তোলা হচ্ছে। সহিংসতায় জড়িতদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “এখনই যদি মাথা এত গরম থাকে, চৈত্র এলে কী করবেন?”

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করতে চাই না। তবে কেউ ঝগড়া করতে এলে ছেড়ে কথা বলব না।” আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি বড় দল পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা সৃষ্টি করতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ফ্যামিলি কার্ড বা বেকার ভাতার পরিবর্তে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার করে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সবার জন্য কাজের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে অপমান করতে চাই না, তাদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই।” জুলাই বিপ্লবে যুবসমাজের ভূমিকার কথা স্মরণ করে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সেই অবদানের ঋণ শোধ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

খুলনার শিল্প ও কৃষি খাতের অবনতির জন্য বিগত সরকারের ভুল নীতি ও লুটপাটকে দায়ী করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একের পর এক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। জামায়াত আল্লাহর ইচ্ছা ও জনগণের রায়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে বন্ধ মিল-কারখানা চালুর পাশাপাশি নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

দুপুর ২টা থেকে শুরু হওয়া জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও খুলনা মহানগর আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। জনসভাকে ঘিরে নগরজুড়ে ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায়। নির্ধারিত সময়ের আগেই সার্কিট হাউস মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।

জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভোটের পাহারাদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিটি নর-নারীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, “ভোট যার যেখানে ইচ্ছা সেখানে দেবে। আমরা শুধু ভোটারকে নিরাপদে ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছে দিতে চাই।” আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি একটি ‘অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

এ সময় তিনি দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামল এবং ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার ঘটনায় নিহত শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। পাশাপাশি আহত, পঙ্গু, কারানির্যাতিত, গুমের শিকার ও দেশান্তরী হতে বাধ্য হওয়া সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর অতীতের নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর প্রতিহিংসার পথে না গিয়ে দলের নেতাকর্মীরা শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় পাহারাদারের ভূমিকা পালন করেছেন। এর মাধ্যমেই জনগণের কাছে প্রমাণিত হয়েছে, কারা দেশ ও মানুষের জন্য নিরাপদ। জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে মন্ত্রী-এমপিদের ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, বরং বাংলাদেশকে মর্যাদাশীল রাষ্ট্র ও শক্তিশালী অর্থনীতির ওপর দাঁড় করানো হবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সন্ত্রাস, গুজব ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে কেউ কেউ জোর করে ক্ষমতায় যেতে চাইছে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের রাজনীতিতে জড়িতদের জনগণ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আগামী নির্বাচনে জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি নতুন মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি খুলনা অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশেষায়িত হাসপাতাল আধুনিকায়ন, বন্ধ মিল-কারখানা চালু, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ, বন্দরনগরী খুলনায় আধুনিক বিমানবন্দর স্থাপন এবং বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্প বিকাশের প্রতিশ্রুতি দেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

এখনই মাথা গরম থাকলে চৈত্র এলে কী করবেন?- জামায়াত আমিরের প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৮:২৭:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও হানাহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, একদিকে সরকার ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে, অন্যদিকে মা-বোনদের ওপর হাত তোলা হচ্ছে। সহিংসতায় জড়িতদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “এখনই যদি মাথা এত গরম থাকে, চৈত্র এলে কী করবেন?”

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করতে চাই না। তবে কেউ ঝগড়া করতে এলে ছেড়ে কথা বলব না।” আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি বড় দল পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা সৃষ্টি করতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ফ্যামিলি কার্ড বা বেকার ভাতার পরিবর্তে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার করে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সবার জন্য কাজের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে অপমান করতে চাই না, তাদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই।” জুলাই বিপ্লবে যুবসমাজের ভূমিকার কথা স্মরণ করে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সেই অবদানের ঋণ শোধ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

খুলনার শিল্প ও কৃষি খাতের অবনতির জন্য বিগত সরকারের ভুল নীতি ও লুটপাটকে দায়ী করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একের পর এক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। জামায়াত আল্লাহর ইচ্ছা ও জনগণের রায়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে বন্ধ মিল-কারখানা চালুর পাশাপাশি নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

দুপুর ২টা থেকে শুরু হওয়া জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও খুলনা মহানগর আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। জনসভাকে ঘিরে নগরজুড়ে ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায়। নির্ধারিত সময়ের আগেই সার্কিট হাউস মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।

জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভোটের পাহারাদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিটি নর-নারীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, “ভোট যার যেখানে ইচ্ছা সেখানে দেবে। আমরা শুধু ভোটারকে নিরাপদে ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছে দিতে চাই।” আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি একটি ‘অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

এ সময় তিনি দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামল এবং ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার ঘটনায় নিহত শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। পাশাপাশি আহত, পঙ্গু, কারানির্যাতিত, গুমের শিকার ও দেশান্তরী হতে বাধ্য হওয়া সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর অতীতের নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর প্রতিহিংসার পথে না গিয়ে দলের নেতাকর্মীরা শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় পাহারাদারের ভূমিকা পালন করেছেন। এর মাধ্যমেই জনগণের কাছে প্রমাণিত হয়েছে, কারা দেশ ও মানুষের জন্য নিরাপদ। জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে মন্ত্রী-এমপিদের ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, বরং বাংলাদেশকে মর্যাদাশীল রাষ্ট্র ও শক্তিশালী অর্থনীতির ওপর দাঁড় করানো হবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সন্ত্রাস, গুজব ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে কেউ কেউ জোর করে ক্ষমতায় যেতে চাইছে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের রাজনীতিতে জড়িতদের জনগণ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আগামী নির্বাচনে জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি নতুন মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি খুলনা অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশেষায়িত হাসপাতাল আধুনিকায়ন, বন্ধ মিল-কারখানা চালু, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ, বন্দরনগরী খুলনায় আধুনিক বিমানবন্দর স্থাপন এবং বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্প বিকাশের প্রতিশ্রুতি দেন।