ইরানে চলতি সপ্তাহেই হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন
- আপডেট সময় : ০১:৫১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২০৯০ বার পড়া হয়েছে
চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ইরানে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন দাবি করেছে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই। তবে এই সময়সীমা পরিবর্তিত হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়ে একটি ‘বিশাল নৌবহর’ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ সহায়ক যুদ্ধজাহাজগুলো ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই নৌবহরটি সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর থেকেই ইরানে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে গালফ অঞ্চলের কর্মকর্তাদের বরাতে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে এবং এতে দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন।
তবে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে মতপার্থক্য রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য অভিযানের সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আলোচনায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইসলামী দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় প্রতিবেশী কোনো দেশের ভূমি, আকাশ বা জলসীমা ব্যবহার করা হলে তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একইসঙ্গে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করলে তা লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলেও সতর্ক করেছে বাহিনীটি।
একই সুরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। তারা বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হলে তারা নীরব থাকবে না। এছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকিকে নিজেদের বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলেও জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।
এদিকে ইরানে সরকার পতনের সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে তুরস্ক। মিডল ইস্ট আই-এর আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে ‘যেকোনো কিছু’ ঘটতে পারে—এই আশঙ্কায় আঙ্কারা নিজেদের সীমান্তে একটি বাফার জোন তৈরির পরিকল্পনা করছে।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক তুর্কি সাংসদ বলেন, ‘ইরানে সরকার পতন হলে সেখান থেকে যেন কোনো শরণার্থী তুরস্কে প্রবেশ করতে না পারে—সে বিষয়টি নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’



























