ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যের সরকারে যাবে না বিএনপি: রয়টার্সকে তারেক রহমান


নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৪২:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২১০৬ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনে বিজয়ী হলে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্যের সরকার গঠনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, জামায়াতকে সরকারে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই; বরং তাদেরকে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে দেখতে চান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে সরকার গঠন করলে সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা থাকবে না—এমন প্রশ্ন থেকেই এই সিদ্ধান্ত। তাঁর ভাষায়, বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠনে সক্ষম এবং এ বিষয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জামায়াত কতটি আসন পাবে সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, তাহলে দায়িত্বশীল ও কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা বিএনপির।

তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বিএনপি। দলটি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তাদের জোট শরিকরা।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের নির্বাচন ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকায় এবং দলটির নেতৃত্ব ছত্রভঙ্গ অবস্থায় থাকায় দীর্ঘদিনের বিএনপি–আওয়ামী লীগ দ্বৈরথ ভেঙে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মধ্যে। যদিও ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছিল, তবে এবার সেই রাজনৈতিক সমীকরণে ফিরতে নারাজ তারেক রহমান।

এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও আগেই জানিয়েছেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে জামায়াত থাকবে না।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে একমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে হাঁটবে না বিএনপি। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক, চীনের আগ্রহ—সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিই হবে সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

শেখ হাসিনার পরিবার ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ফিরতে পারবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণ যদি কাউকে গ্রহণ করে, তবে রাজনীতি করার অধিকার সবারই রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অবস্থান করতে পারবে। তবে সরকারের মূল লক্ষ্য থাকবে তাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যের সরকারে যাবে না বিএনপি: রয়টার্সকে তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০১:৪২:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনে বিজয়ী হলে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্যের সরকার গঠনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, জামায়াতকে সরকারে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই; বরং তাদেরকে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে দেখতে চান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে সরকার গঠন করলে সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা থাকবে না—এমন প্রশ্ন থেকেই এই সিদ্ধান্ত। তাঁর ভাষায়, বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠনে সক্ষম এবং এ বিষয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জামায়াত কতটি আসন পাবে সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, তাহলে দায়িত্বশীল ও কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা বিএনপির।

তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বিএনপি। দলটি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তাদের জোট শরিকরা।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের নির্বাচন ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকায় এবং দলটির নেতৃত্ব ছত্রভঙ্গ অবস্থায় থাকায় দীর্ঘদিনের বিএনপি–আওয়ামী লীগ দ্বৈরথ ভেঙে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মধ্যে। যদিও ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছিল, তবে এবার সেই রাজনৈতিক সমীকরণে ফিরতে নারাজ তারেক রহমান।

এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও আগেই জানিয়েছেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে জামায়াত থাকবে না।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে একমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে হাঁটবে না বিএনপি। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক, চীনের আগ্রহ—সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিই হবে সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

শেখ হাসিনার পরিবার ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ফিরতে পারবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণ যদি কাউকে গ্রহণ করে, তবে রাজনীতি করার অধিকার সবারই রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অবস্থান করতে পারবে। তবে সরকারের মূল লক্ষ্য থাকবে তাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন।