ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি সাদিক কায়েমের


নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:১০:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২০৮৮ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেছেন, বিএনসিসি প্রত্যাহারের পর এবার মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের মাধ্যমে আরেকটি ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে সাদিক কায়েম প্রশ্ন তোলেন, “কার ইশারায়, কার প্রভাবে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে?”

তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা হলে সাধারণ ভোটারদের মোবাইল ঘরে রেখে কেন্দ্রে যেতে হবে। এতে মোবাইল সাংবাদিকতা ও নাগরিক সাংবাদিকতার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে ভোটকেন্দ্রে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও তার তথ্য বা ভিডিও ভুক্তভোগীর কাছেই থাকবে না। তিনি একে ‘নব্য ফ্যাসিজম’ আখ্যা দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর ভর করে জাতির ওপর এই পরিস্থিতি কারা চাপিয়ে দিচ্ছে—তা স্পষ্ট হওয়া দরকার।

দেশের তরুণদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে ডাকসু ভিপি বলেন, “কারা তরুণদের ভয় পায়, কারা নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার সীমিত করতে চায়—সেই প্রশ্ন তুলতে হবে। তরুণদের হাতেই জুলাই হয়েছে, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের দায়িত্বও তাদের হাতেই।”

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়, বরং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতেই নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। তাই অনতিবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

এর আগে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটারদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে নির্বাচন কমিশন। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসির জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে সাধারণ ভোটারদের মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ থাকবে।

তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রের পুলিশ ইনচার্জ, আনসার সদস্য এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী দুইজন আনসার সদস্য মোবাইল ফোন বহন করতে পারবেন।

নির্বাচনে শৃঙ্খলা রক্ষায় এবার নতুনভাবে যুক্ত করা হয়েছে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’। কেন্দ্রের ভেতরে কোনো সহিংসতা বা গোলযোগের ঘটনা ঘটলে এই অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনকে জানানো যাবে।

এছাড়া নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর অংশ হিসেবে দেশের ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০ কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যদের জন্য বডি-ওর্ন ক্যামেরা সরবরাহ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি সাদিক কায়েমের

আপডেট সময় : ০১:১০:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেছেন, বিএনসিসি প্রত্যাহারের পর এবার মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের মাধ্যমে আরেকটি ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে সাদিক কায়েম প্রশ্ন তোলেন, “কার ইশারায়, কার প্রভাবে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে?”

তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা হলে সাধারণ ভোটারদের মোবাইল ঘরে রেখে কেন্দ্রে যেতে হবে। এতে মোবাইল সাংবাদিকতা ও নাগরিক সাংবাদিকতার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে ভোটকেন্দ্রে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও তার তথ্য বা ভিডিও ভুক্তভোগীর কাছেই থাকবে না। তিনি একে ‘নব্য ফ্যাসিজম’ আখ্যা দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর ভর করে জাতির ওপর এই পরিস্থিতি কারা চাপিয়ে দিচ্ছে—তা স্পষ্ট হওয়া দরকার।

দেশের তরুণদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে ডাকসু ভিপি বলেন, “কারা তরুণদের ভয় পায়, কারা নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার সীমিত করতে চায়—সেই প্রশ্ন তুলতে হবে। তরুণদের হাতেই জুলাই হয়েছে, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের দায়িত্বও তাদের হাতেই।”

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়, বরং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতেই নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। তাই অনতিবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

এর আগে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটারদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে নির্বাচন কমিশন। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসির জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে সাধারণ ভোটারদের মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ থাকবে।

তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রের পুলিশ ইনচার্জ, আনসার সদস্য এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী দুইজন আনসার সদস্য মোবাইল ফোন বহন করতে পারবেন।

নির্বাচনে শৃঙ্খলা রক্ষায় এবার নতুনভাবে যুক্ত করা হয়েছে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’। কেন্দ্রের ভেতরে কোনো সহিংসতা বা গোলযোগের ঘটনা ঘটলে এই অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনকে জানানো যাবে।

এছাড়া নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর অংশ হিসেবে দেশের ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০ কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যদের জন্য বডি-ওর্ন ক্যামেরা সরবরাহ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে।