সহিংসতা প্রতিরোধে পুলিশ সদর দপ্তরের কঠোর নির্দেশনা
- আপডেট সময় : ১১:০১:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২০৯৫ বার পড়া হয়েছে
নির্বাচন শেষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। নির্বাচন-পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় সারা দেশে ৭৬টি সহিংস ঘটনার তথ্য পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের দায় নিতে হবে এবং প্রয়োজনে বিভাগীয় শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নির্বাচন শেষ হলেও দায়িত্ব শেষ হয়নি।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের দুই দিন আগে থেকেই দেশের সব জেলা বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়। ভোটগ্রহণ শেষে সম্ভাব্য সহিংসতা, প্রতিহিংসামূলক হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষ ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ব্যারাকে ফিরে গেলেও সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ রয়েছে।
খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল হক বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মূলত ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে আইজিপির স্পষ্ট নির্দেশনা মাঠপর্যায়ের সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সহায়ক হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত পর্যন্ত সারা দেশে ৬৬টি সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৮৩ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর, নাটোর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল, টঙ্গী, কুষ্টিয়া, ফেনী, যশোর, মাদারীপুর ও বাগেরহাটে অন্তত ১০টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ওসমান সরদার (২৯) নামে এক ব্যক্তি মারা যান। তিনি বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থক ছিলেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপি-জামায়াত সংশ্লিষ্ট ৩০টি ঘটনায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ঘিরে ৬টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬ জন। বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে ১২টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ২০ জন। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন সংশ্লিষ্ট ৪টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ১০ জন। অন্যান্য ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৭ জন।
পুলিশ মহাপরিদর্শক এক ভার্চুয়াল বৈঠকে ফল ঘোষণার পর কোথাও অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখার নির্দেশ দেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানিমূলক প্রচার প্রতিরোধেও সতর্ক থাকার কথা বলেন।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, বড় ধরনের কোনো ঘটনা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে জেলার সদস্যদের ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। তবে এখনো বিশেষ টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাড়তি নজরদারি, বিজয়ী ও পরাজিত পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংখ্যালঘু ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
এ ছাড়া গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো, কন্ট্রোল রুম সক্রিয় রাখা এবং জেলা প্রশাসনসহ অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের নির্দেশ রয়েছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব এবং কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।


























