ইরান সাময়িকভাবে বন্ধ করল হরমুজ প্রণালী
- আপডেট সময় : ০১:০২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২০৮৫ বার পড়া হয়েছে
ইরানের সামরিক মহড়া ও শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তারা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক জলপথে নৌ চলাচল কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে হয়। ফলে ইরানের এই বিরল পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আলোচনা শুরু হওয়ার পরপরই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ইরানি বাহিনী প্রণালীর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক উদ্বেগের কারণে সাময়িকভাবে এটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও এমন আঘাত পেতে পারে, যার পর তারা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।
তবে পরে ভিন্ন সুরে কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হুমকি বা আগ্রাসন হলে তার জবাব শুধু দেশের সীমান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তবে তিনি সামরিক মহড়া বা প্রণালী বন্ধের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, যিনি তার প্রথম মেয়াদে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করেছিলেন, বারবার তেহরানকে কর্মসূচি সীমিত করতে চাপ দিয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক বিক্ষোভে সহিংসতার অভিযোগ তুলে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকিও দিয়েছেন। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরীসহ অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে।
ইরান জানিয়েছে, তাদের বিপ্লবী গার্ড সোমবার ভোর থেকে হরমুজ প্রণালী, পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এটি দ্বিতীয়বারের মতো সেখানে লাইভ ফায়ার ড্রিল অনুষ্ঠিত হলো।
ইরান অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার সময় এই প্রণালীতে মহড়া চালিয়েছে এবং বন্ধের হুমকি দিয়েছে। ইসরাইলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ইরান বিশেষজ্ঞ ড্যানি সিট্রিনোভিচ বলেন, সর্বশেষ ১৯৮০–এর দশকে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ইরান জলপথে মাইন পেতে কার্যত প্রণালীটি অচল করে দিয়েছিল।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বার্তা—ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে তার প্রভাব বিশ্বব্যাপী পড়বে।



























