আল-জাজিরা এক্সপ্লেইনার: খামেনি নিহতের পর ইরানের প্রতিক্রিয়া ও সামরিক সক্ষমতার বিশ্লেষণ
- আপডেট সময় : ১১:২৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
- / ২০৯৩ বার পড়া হয়েছে
শনিবার ইরানের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে তেহরান দাবি করেছে। ঘটনার পরপরই ইরান দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জানায়, তাদের পাল্টা হামলা ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও নতুন বাস্তবতা
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের জুন মাসে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল ও সংবেদনশীল। খামেনির হত্যাকাণ্ডকে ইরান তাদের সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিশোধ নেওয়াকে জাতীয় দায়িত্ব ও বৈধ অধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা
১. ব্যালিস্টিক মিসাইল ভাণ্ডার
ইরানের হাতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ ও বৈচিত্র্যময় ব্যালিস্টিক মিসাইল ভাণ্ডার রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
দীর্ঘপাল্লার মিসাইল: ২,০০০ থেকে ২,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
স্বল্পপাল্লার মিসাইল: ফাতাহ, জোলফাগার ও কিয়াম-১ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত উৎক্ষেপণযোগ্য এবং স্বল্প সময়ে আঘাত হানতে সক্ষম।
মধ্যপাল্লার মিসাইল: শাহাব-৩, এমাদ, সাজ্জিল ও খায়বার শেকানের মতো মিসাইল পুরো অঞ্চলকে ইরানের আঘাতের আওতায় নিয়ে আসে।
২. ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন প্রযুক্তি
ক্রুজ মিসাইল: মাটির কাছাকাছি উড়ে যাওয়ার কারণে এগুলো শনাক্ত করা তুলনামূলক কঠিন। সুমার মডেলের ক্রুজ মিসাইল প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লা দিতে সক্ষম বলে জানা যায়।
ড্রোন: তুলনামূলক কম খরচে তৈরি ড্রোন ঝাঁকবদ্ধ আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলতে পারে।
৩. ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি বা ‘মিসাইল সিটি’
ইরান বহু বছর ধরে মাটির গভীরে টানেল ও সুরক্ষিত স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে প্রথম দফার হামলায় সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
হরমুজ প্রণালি ও বৈশ্বিক অর্থনীতি
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি প্রধান রুট। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এ অঞ্চলে নৌ মাইন, অ্যান্টি-শিপ মিসাইল বা ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ইতোমধ্যে ডেনিশ শিপিং কোম্পানি মার্স্ক ওই পথে জাহাজ চলাচল সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।
সংঘাতের বিস্তারের আশঙ্কা
ইরানের বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলছে যে তারা পরিস্থিতিকে সীমিত সামরিক অভিযান হিসেবে দেখছে না। হিজবুল্লাহ ও হুথিদের মতো মিত্র গোষ্ঠীগুলো তেহরানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ফলে সংঘাত আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


























