ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

দুর্নীতির অভিযোগে মুখ খুললেন আসিফ নজরুল, বললেন— কোনো দেশেই আমার বাড়ি নেই


নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:১৩:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • / ২০৮৮ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দাবি করেছেন, তিনি জীবনে কখনও কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশে তার বাড়ি বা সম্পত্তি নেই।

বুধবার (৪ মার্চ) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব পালনকালীন এবং পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের জবাব দেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা এবং সেখানে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে প্রচারিত খবরকে তিনি ‘গাজাখুরি’ বলে উল্লেখ করেন।

পোস্টে আসিফ নজরুল বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর নতুন করে তার এবং কয়েকজন সাবেক সহকর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। তার দাবি, এসব অভিযোগ প্রথমে কিছু অনলাইন মাধ্যমে প্রচারিত হয়, পরে কয়েকটি গণমাধ্যমেও প্রকাশ পায়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকারে থাকা অবস্থায় বা এর আগে-পরে জীবনের কোনো সময়েই তিনি দুর্নীতি করেননি। “এক টাকা—আবার বলি, এক টাকাও দুর্নীতি করিনি,” উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, নিজের অজান্তেও কাউকে অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ দেননি এবং তার কোনো নতুন ব্যাংক হিসাব বা অপ্রদর্শিত সম্পদ নেই।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে তিনি আইন উপদেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক দায়িত্ব পালন করেন। তফসিল ঘোষণার দিন ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগ কার্যকর হলে তিনি ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্বও পান। ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তিনি আলোচনায় আসেন এবং সমালোচনার মুখেও পড়েন।

দায়িত্ব শেষে তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি থাকা এবং দায়িত্বকালে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় এক বছর আগে ইউটিউবে তার যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা ও পরিবার সেখানে চলে যাওয়ার বিষয়ে একটি ভিডিও ছড়ানো হয়। অনেকেই সেটি দেখেছেন এবং কেউ কেউ তা বিশ্বাসও করেছেন।

তিনি জানান, এ বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন—যুক্তরাষ্ট্রে তার বাড়ি থাকলে প্রমাণ দেখাতে। তার ভাষ্য, “আমেরিকায় বাড়ি কিনলে রেকর্ড থাকে, তা লুকানো যায় না।” প্রায় আট মাস পার হলেও কেউ তার বিরুদ্ধে এমন কোনো ঠিকানা, দলিল বা প্রমাণ দেখাতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি। তার কথায়, “আমেরিকা কেন, বাংলাদেশের বাইরে পৃথিবীর কোনো দেশেই আমার বাড়ি বা সম্পত্তি নেই।”

স্বজনপ্রীতির অভিযোগও নাকচ করে তিনি বলেন, দায়িত্বে থাকাকালে পরিবার বা আত্মীয়স্বজনকে কোনো ধরনের সুবিধা দেননি। প্রায় পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিলেও একজন আত্মীয়কেও নিয়োগ দেননি বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি নিজের গ্রাম বা ঢাকায় যেখানে বড় হয়েছেন, দায়িত্বকালীন সময় সেখানে যাননি বলেও উল্লেখ করেন।

তবে লালবাগ শাহী মসজিদের জরুরি উন্নয়নের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেতে ভূমিকা রাখার কথা স্বীকার করেন তিনি। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও ডাকসুর আবেদনের ভিত্তিতে ক্রিকেট বোর্ডের কাছে অনুরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ উন্নয়নের জন্য অনুদান আনার কথাও জানান।

বিভিন্ন অভিযোগ ও সমালোচনার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, “চুরি করে বা অন্যের হক মেরে বেঁচে থাকার জন্য আমার জন্ম হয়নি।”

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

দুর্নীতির অভিযোগে মুখ খুললেন আসিফ নজরুল, বললেন— কোনো দেশেই আমার বাড়ি নেই

আপডেট সময় : ১২:১৩:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দাবি করেছেন, তিনি জীবনে কখনও কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশে তার বাড়ি বা সম্পত্তি নেই।

বুধবার (৪ মার্চ) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব পালনকালীন এবং পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের জবাব দেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা এবং সেখানে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে প্রচারিত খবরকে তিনি ‘গাজাখুরি’ বলে উল্লেখ করেন।

পোস্টে আসিফ নজরুল বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর নতুন করে তার এবং কয়েকজন সাবেক সহকর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। তার দাবি, এসব অভিযোগ প্রথমে কিছু অনলাইন মাধ্যমে প্রচারিত হয়, পরে কয়েকটি গণমাধ্যমেও প্রকাশ পায়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকারে থাকা অবস্থায় বা এর আগে-পরে জীবনের কোনো সময়েই তিনি দুর্নীতি করেননি। “এক টাকা—আবার বলি, এক টাকাও দুর্নীতি করিনি,” উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, নিজের অজান্তেও কাউকে অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ দেননি এবং তার কোনো নতুন ব্যাংক হিসাব বা অপ্রদর্শিত সম্পদ নেই।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে তিনি আইন উপদেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক দায়িত্ব পালন করেন। তফসিল ঘোষণার দিন ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগ কার্যকর হলে তিনি ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্বও পান। ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তিনি আলোচনায় আসেন এবং সমালোচনার মুখেও পড়েন।

দায়িত্ব শেষে তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি থাকা এবং দায়িত্বকালে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় এক বছর আগে ইউটিউবে তার যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা ও পরিবার সেখানে চলে যাওয়ার বিষয়ে একটি ভিডিও ছড়ানো হয়। অনেকেই সেটি দেখেছেন এবং কেউ কেউ তা বিশ্বাসও করেছেন।

তিনি জানান, এ বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন—যুক্তরাষ্ট্রে তার বাড়ি থাকলে প্রমাণ দেখাতে। তার ভাষ্য, “আমেরিকায় বাড়ি কিনলে রেকর্ড থাকে, তা লুকানো যায় না।” প্রায় আট মাস পার হলেও কেউ তার বিরুদ্ধে এমন কোনো ঠিকানা, দলিল বা প্রমাণ দেখাতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি। তার কথায়, “আমেরিকা কেন, বাংলাদেশের বাইরে পৃথিবীর কোনো দেশেই আমার বাড়ি বা সম্পত্তি নেই।”

স্বজনপ্রীতির অভিযোগও নাকচ করে তিনি বলেন, দায়িত্বে থাকাকালে পরিবার বা আত্মীয়স্বজনকে কোনো ধরনের সুবিধা দেননি। প্রায় পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিলেও একজন আত্মীয়কেও নিয়োগ দেননি বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি নিজের গ্রাম বা ঢাকায় যেখানে বড় হয়েছেন, দায়িত্বকালীন সময় সেখানে যাননি বলেও উল্লেখ করেন।

তবে লালবাগ শাহী মসজিদের জরুরি উন্নয়নের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেতে ভূমিকা রাখার কথা স্বীকার করেন তিনি। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও ডাকসুর আবেদনের ভিত্তিতে ক্রিকেট বোর্ডের কাছে অনুরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ উন্নয়নের জন্য অনুদান আনার কথাও জানান।

বিভিন্ন অভিযোগ ও সমালোচনার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, “চুরি করে বা অন্যের হক মেরে বেঁচে থাকার জন্য আমার জন্ম হয়নি।”