ঢাকা ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

প্রাথমিকে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি যুক্তিসংগত নয়, ২০২৭ থেকে নতুন সিদ্ধান্ত: শিক্ষামন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:২১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • / ২০৮৮ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে চালু থাকা লটারি পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শহরাঞ্চলে শিক্ষার্থী ভর্তির চাপ সামাল দিতে অতীতে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল, তবে এটি পুরোপুরি যুক্তিসংগত নয় বলে মনে করেন তিনি। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ভর্তির পদ্ধতি কী হবে, সে বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রোববার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির বর্তমান পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, আগে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলেও এখন লটারির মাধ্যমে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রাথমিক শিক্ষার মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে মানসম্পন্ন শিক্ষার্থী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে ইংরেজি মাধ্যম, সাধারণ শিক্ষা ও মাদ্রাসা—এই তিন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। যাদের আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে তারা ইংরেজি মাধ্যমে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে, আর অন্যরা সাধারণ বা মাদ্রাসা শিক্ষায় পড়তে বাধ্য হচ্ছে। এই তিন ধরনের পৃথক শিক্ষা ব্যবস্থা রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব কি না—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের গ্রামীণ ও শহুরে এলাকার শিক্ষাব্যবস্থায় বাস্তবতার পার্থক্য রয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় প্রি-প্রাইমারি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় সেখানে ভর্তি নিয়ে তেমন প্রতিযোগিতা দেখা যায় না। তবে ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বেশি হওয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, এই জটিলতা মোকাবিলার জন্য পূর্ববর্তী সরকার লটারি পদ্ধতি চালু করেছিল। তবে আমার কাছে এটি পুরোপুরি যুক্তিসংগত মনে হয় না।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, আগামী বছরের ভর্তির পদ্ধতি নির্ধারণের আগে অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও সংসদ সদস্যদের মতামত নেওয়া হবে। বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির নতুন পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় আনার বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি। ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোকে সরকারি কাঠামোর আওতায় এনে জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইবতেদায়ী শিক্ষা ব্যবস্থা এবং কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে কীভাবে মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

প্রাথমিকে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি যুক্তিসংগত নয়, ২০২৭ থেকে নতুন সিদ্ধান্ত: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় : ০২:২১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে চালু থাকা লটারি পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শহরাঞ্চলে শিক্ষার্থী ভর্তির চাপ সামাল দিতে অতীতে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল, তবে এটি পুরোপুরি যুক্তিসংগত নয় বলে মনে করেন তিনি। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ভর্তির পদ্ধতি কী হবে, সে বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রোববার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির বর্তমান পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, আগে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলেও এখন লটারির মাধ্যমে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রাথমিক শিক্ষার মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে মানসম্পন্ন শিক্ষার্থী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে ইংরেজি মাধ্যম, সাধারণ শিক্ষা ও মাদ্রাসা—এই তিন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। যাদের আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে তারা ইংরেজি মাধ্যমে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে, আর অন্যরা সাধারণ বা মাদ্রাসা শিক্ষায় পড়তে বাধ্য হচ্ছে। এই তিন ধরনের পৃথক শিক্ষা ব্যবস্থা রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব কি না—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের গ্রামীণ ও শহুরে এলাকার শিক্ষাব্যবস্থায় বাস্তবতার পার্থক্য রয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় প্রি-প্রাইমারি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় সেখানে ভর্তি নিয়ে তেমন প্রতিযোগিতা দেখা যায় না। তবে ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বেশি হওয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, এই জটিলতা মোকাবিলার জন্য পূর্ববর্তী সরকার লটারি পদ্ধতি চালু করেছিল। তবে আমার কাছে এটি পুরোপুরি যুক্তিসংগত মনে হয় না।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, আগামী বছরের ভর্তির পদ্ধতি নির্ধারণের আগে অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও সংসদ সদস্যদের মতামত নেওয়া হবে। বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির নতুন পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় আনার বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি। ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোকে সরকারি কাঠামোর আওতায় এনে জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইবতেদায়ী শিক্ষা ব্যবস্থা এবং কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে কীভাবে মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে।