যুদ্ধের ধাক্কায় বাড়ছে তেলের দাম, ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার পার
- আপডেট সময় : ১২:৫২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
- / ২০৯০ বার পড়া হয়েছে
ইরান ও ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। রবিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬.১২ ডলারে পৌঁছেছে, আর মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ২.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০১.৫৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে, সংঘাত আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে ঝুঁকি
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়, যা ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলবাহী জাহাজের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় এই পথ বন্ধ থাকলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ
মূল তেল সরবরাহ নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন, যাতে হরমুজ প্রণালিটি দ্রুত খোলা যায়।
ইরানের হুমকি ও উত্তেজনা
ইরান হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র-মাইন স্থাপনের অভিযোগে জড়িত হওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলার হুমকিও দিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলক্ষেত্রে বিমান হামলা চালিয়েছে, সরাসরি উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস করা থেকে বিরত রয়েছে।
উৎপাদন বৃদ্ধি ও জরুরি মজুত
যুক্তরাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি করছে। বিপি মেক্সিকো উপসাগরে নতুন তেল প্রকল্প চালু করছে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বন্ধ তেলক্ষেত্র পুনরায় খোলা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) ৪০ কোটি ব্যারেল তেল জরুরি মজুত থেকে বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা মার্চের শেষ নাগাদ বাজারে আসার আশা করা হচ্ছে।
মুদ্রাস্ফীতি ও বৈশ্বিক প্রভাব
তেলের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম গড়ে ২৪ শতাংশ বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৩.৭০ ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বৃদ্ধি পেতে পারে। সার সরবরাহ ব্যাহত হলে বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।



























