ঢাকা ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

‘ফুয়েল পাস’ যেভাবে কাজ করবে


নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২০৯৮ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশেও—গ্রাহকদের মধ্যে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদের প্রবণতা বাড়ছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে প্রশাসন।

অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদের তথ্য দিলে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং জ্বালানির স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগামী এপ্রিল থেকে কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল ‘ফুয়েল পাস’ চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল অ্যাপভিত্তিক এই ব্যবস্থাটি প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেলের জন্য চালু করা হবে। পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি এলাকায় দ্রুত এটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন এই ব্যবস্থায় নিবন্ধিত যানবাহন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি কিনতে পারবে। প্রতিটি নিবন্ধিত যানবাহনের জন্য একটি কিউআর কোড দেওয়া হবে, যা একটি মোবাইল অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ব্যবহারকারীকে অ্যাপে নিজের পরিচয় ও যানবাহনের তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে।

এরপর জ্বালানি নেওয়ার সময় পাম্পকর্মী মোবাইল দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করলে সেই তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে যুক্ত হবে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কতটুকু জ্বালানি নেওয়া হয়েছে, তা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

যদিও এখনো নির্দিষ্ট সীমা চূড়ান্ত হয়নি, তবে অন্য দেশের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী মোটরসাইকেলের জন্য সাপ্তাহিক প্রায় ৫ লিটার এবং গাড়ির জন্য ১৫ লিটার পর্যন্ত সীমা নির্ধারণ করা হতে পারে।

নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে পরবর্তী নির্ধারিত সময়ের আগে আর জ্বালানি নেওয়া যাবে না—সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা বন্ধ করে দেবে। তবে বিশেষ প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত জ্বালানি নেওয়ার সুযোগ রাখা হবে।

জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে একটি অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দুই-একটি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালুর আশা করা হচ্ছে। একসঙ্গে সারা দেশে চালু করা সম্ভব না হওয়ায় ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

এদিকে, কিছু জেলায় ইতোমধ্যে ম্যানুয়াল ফুয়েল কার্ড চালু করা হয়েছে। সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, চুয়াডাঙ্গা ও সিরাজগঞ্জে পেট্রোল ও অকটেন কিনতে এই কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পাশাপাশি, অবৈধ মজুদ রোধে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন এবং ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

‘ফুয়েল পাস’ যেভাবে কাজ করবে

আপডেট সময় : ১২:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশেও—গ্রাহকদের মধ্যে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদের প্রবণতা বাড়ছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে প্রশাসন।

অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদের তথ্য দিলে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং জ্বালানির স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগামী এপ্রিল থেকে কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল ‘ফুয়েল পাস’ চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল অ্যাপভিত্তিক এই ব্যবস্থাটি প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেলের জন্য চালু করা হবে। পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি এলাকায় দ্রুত এটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন এই ব্যবস্থায় নিবন্ধিত যানবাহন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি কিনতে পারবে। প্রতিটি নিবন্ধিত যানবাহনের জন্য একটি কিউআর কোড দেওয়া হবে, যা একটি মোবাইল অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ব্যবহারকারীকে অ্যাপে নিজের পরিচয় ও যানবাহনের তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে।

এরপর জ্বালানি নেওয়ার সময় পাম্পকর্মী মোবাইল দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করলে সেই তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে যুক্ত হবে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কতটুকু জ্বালানি নেওয়া হয়েছে, তা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

যদিও এখনো নির্দিষ্ট সীমা চূড়ান্ত হয়নি, তবে অন্য দেশের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী মোটরসাইকেলের জন্য সাপ্তাহিক প্রায় ৫ লিটার এবং গাড়ির জন্য ১৫ লিটার পর্যন্ত সীমা নির্ধারণ করা হতে পারে।

নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে পরবর্তী নির্ধারিত সময়ের আগে আর জ্বালানি নেওয়া যাবে না—সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা বন্ধ করে দেবে। তবে বিশেষ প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত জ্বালানি নেওয়ার সুযোগ রাখা হবে।

জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে একটি অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দুই-একটি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালুর আশা করা হচ্ছে। একসঙ্গে সারা দেশে চালু করা সম্ভব না হওয়ায় ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

এদিকে, কিছু জেলায় ইতোমধ্যে ম্যানুয়াল ফুয়েল কার্ড চালু করা হয়েছে। সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, চুয়াডাঙ্গা ও সিরাজগঞ্জে পেট্রোল ও অকটেন কিনতে এই কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পাশাপাশি, অবৈধ মজুদ রোধে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন এবং ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে।