র্যাব থাকবে কিনা সিদ্ধান্ত সরকারের, তবে প্রয়োজন আছে : র্যাব মহাপরিচালক
- আপডেট সময় : ০১:০৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
- / ২০৮৭ বার পড়া হয়েছে
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) থাকবে কিনা বা এর নাম পরিবর্তন হবে কিনা—এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে সরকারের ওপর নির্ভরশীল বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক আহসান হাবীব। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র্যাবের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজধানীর কাওরানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
র্যাবের পুনর্গঠন, সংস্কার বা নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, এসব বিষয় সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের অন্তর্ভুক্ত। এ নিয়ে র্যাবের নিজস্বভাবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে সংস্থাটির প্রধান লক্ষ্য দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করা।
মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, বাহিনীর অভ্যন্তরে অভিযোগ উঠলে তা নিজস্ব প্রক্রিয়ায় তদন্ত করা হয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এভাবে ধীরে ধীরে র্যাবের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
র্যাবের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আহসান হাবীব বলেন, এটি একটি বিশেষায়িত বাহিনী, যা মূলত পুলিশের অংশ হিসেবেই কাজ করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বিত ভূমিকা পালন করে। তিনি আরও বলেন, বাইরে থেকে যে ধারণা তৈরি হয়, বাস্তবে র্যাব একটি সংগঠিত ও কাঠামোবদ্ধ বাহিনী।
তিনি জানান, র্যাবকে একটি পেশাদার, মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা যায়।
ক্রসফায়ার সংক্রান্ত মামলার নথি চাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিচারিক প্রয়োজনে কোনো সংস্থা তথ্য চাইলে র্যাব তা আইনানুগভাবে সরবরাহ করবে। তবে সংস্থার কাছে যে তথ্য নেই বা সরবরাহ করা সম্ভব নয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে অবহিত করা হবে।
র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনা প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, সংস্থার যাত্রার শুরু থেকে কিছু বিচ্যুতি থাকতে পারে, তবে সেগুলো সংশোধনের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। গত দেড় বছরে র্যাবের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ধারাবাহিকভাবে ভালো কাজের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিতর্ক কাটিয়ে উঠে র্যাব একটি আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।


























