হাম প্রতিরোধে অন্তর্বর্তী সরকার মনোযোগ দেয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৫:১১:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
- / ২০৮৩ বার পড়া হয়েছে
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ব্যর্থতা বা অন্যান্য কারণেই হাম-রুবেলা প্রতিরোধে যথাযথ প্রচারণা ও নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ১১টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মহেশখালী ও রামু উপজেলায় হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হাম-রুবেলা প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে রোগটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে না পারে। তিনি জানান, প্রথম ধাপে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা এবং এ রোগে শিশুমৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের রামু ও মহেশখালী উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হবে। জেলায় সম্প্রতি হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৫ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে ৪২ জন ভর্তি রয়েছে।
এদিকে, রামু উপজেলার রাজিয়া নামে এক শিশু হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এ নিয়ে জেলায় মোট ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রামুতে দুইজন এবং মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও সদর উপজেলায় একজন করে রয়েছে।
বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৭৫ জন শিশু চিকিৎসাধীন। গত এক সপ্তাহে আক্রান্ত হয়েছে ১৩২ জন এবং চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৩ জন শিশু। একই সময়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৫ জনে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি এবং কক্সবাজার শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলী ও রুমালিয়ারছড়া এলাকায় সংক্রমণ বেশি দেখা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা শিবিরে কোনো সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিশু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম।
প্রাথমিকভাবে রামু ও মহেশখালী উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হবে। তবে যেসব শিশু জ্বরে আক্রান্ত, তাদের সুস্থ হওয়ার পর টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


























