ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

আগাম বন্যায় নেত্রকোনার হাওরে বিপর্যয়, ৯ হাজার ৫৬৫ হেক্টর জমি প্লাবিত


রানা খান, নেত্রকোনা
  • আপডেট সময় : ১০:২৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • / ২০৮৩ বার পড়া হয়েছে

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনা জেলার হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে জেলার পাঁচটি হাওর উপজেলা—কেন্দুয়া, আটপাড়া, মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুড়িতে বছরের একমাত্র বোরো ফসল হারানোর আশঙ্কায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকরা।

শুক্রবার (১ মে) জেলার নদ-নদীর পানির স্তরে ভিন্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেলেও হাওরাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সোমেশ্বরী নদীর বিজয়পুর ও দুর্গাপুর পয়েন্টে পানি কমে বিপদসীমার নিচে রয়েছে। তবে কলমাকান্দার উপদাখালী ও জারিয়া এলাকায় কংশ নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। খালিয়াজুড়ি ও আটপাড়ায় এখনো পানি বিপদসীমার নিচে থাকলেও দ্রুত বাড়ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উজানে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কংশ, ভোগাই, সোমেশ্বরী, ধলাই ও উব্দাখালী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। মাঠে পাকা ধান থাকলেও শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না। কাটা ধানও রোদ না থাকায় শুকানো যাচ্ছে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার হাওরাঞ্চলে প্রায় ৭০ শতাংশ বোরো ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে সমতল অঞ্চলে এ হার তুলনামূলক কম। ইতোমধ্যে প্রায় ৯ হাজার ৫৬৫ হেক্টর জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যদিও স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৭ হাজার ৭১৭ জন কৃষকের জন্য সহায়তা চেয়ে মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

হাওরের আকাশে ঘন মেঘ, আর কৃষকের চোখে অনিশ্চয়তার ছায়া। নদীর ফুলে ওঠা পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা—স্বপ্নের ফসল রক্ষা পাবে, নাকি ভেসে যাবে সব—এই উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে হাওরপাড়ের মানুষের।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

আগাম বন্যায় নেত্রকোনার হাওরে বিপর্যয়, ৯ হাজার ৫৬৫ হেক্টর জমি প্লাবিত

আপডেট সময় : ১০:২৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনা জেলার হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে জেলার পাঁচটি হাওর উপজেলা—কেন্দুয়া, আটপাড়া, মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুড়িতে বছরের একমাত্র বোরো ফসল হারানোর আশঙ্কায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকরা।

শুক্রবার (১ মে) জেলার নদ-নদীর পানির স্তরে ভিন্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেলেও হাওরাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সোমেশ্বরী নদীর বিজয়পুর ও দুর্গাপুর পয়েন্টে পানি কমে বিপদসীমার নিচে রয়েছে। তবে কলমাকান্দার উপদাখালী ও জারিয়া এলাকায় কংশ নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। খালিয়াজুড়ি ও আটপাড়ায় এখনো পানি বিপদসীমার নিচে থাকলেও দ্রুত বাড়ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উজানে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কংশ, ভোগাই, সোমেশ্বরী, ধলাই ও উব্দাখালী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। মাঠে পাকা ধান থাকলেও শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না। কাটা ধানও রোদ না থাকায় শুকানো যাচ্ছে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার হাওরাঞ্চলে প্রায় ৭০ শতাংশ বোরো ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে সমতল অঞ্চলে এ হার তুলনামূলক কম। ইতোমধ্যে প্রায় ৯ হাজার ৫৬৫ হেক্টর জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যদিও স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৭ হাজার ৭১৭ জন কৃষকের জন্য সহায়তা চেয়ে মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

হাওরের আকাশে ঘন মেঘ, আর কৃষকের চোখে অনিশ্চয়তার ছায়া। নদীর ফুলে ওঠা পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা—স্বপ্নের ফসল রক্ষা পাবে, নাকি ভেসে যাবে সব—এই উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে হাওরপাড়ের মানুষের।