ঢাকা ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

হাওরের কান্না শুনতে পায়ে হেঁটে, নৌকায় ভেসে কৃষকের দোরগোড়ায় ছুটে চলেছেন- লুৎফুজ্জামান বাবর


রানা খান, নেত্রকোনা
  • আপডেট সময় : ১০:২৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • / ২০৬৭ বার পড়া হয়েছে

 

সূর্য ওঠার আগেই শুরু হয় পথচলা। কখনো কাদামাখা বাঁধের উপর হেঁটে, কখনো মোটরসাইকেলে, আবার কখনো উত্তাল হাওর পাড়ি দিয়ে স্পিডবোটে ছুটে চলা— একটাই উদ্দেশ্য, অকাল বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। নেত্রকোনা-৪ আসনের (মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী) উপজেলার হাওরপাড়ের মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।

দিনটি যেন ছিল অন্যরকম। প্রতিটি কৃষকের ছিল দীর্ঘশ্বাস, প্রতিটি চোখে ছিল না বলা কান্না। কেউ হারিয়েছেন সারা বছরের একমাত্র সম্বল বোরো ধান, কেউ আবার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় নিঃস্ব প্রায়। কৃষকদের সেই বেদনার গল্প মন দিয়ে শুনেছেন লুৎফুজ্জামান বাবর। কারও মাথায় হাত রেখে, কারও চোখের জল মুছে তিনি দিয়েছেন সাহস আর আশ্বাস।

হাওরবাসীর ভাষায়, “ধান শুধু ফসল নয়, এটাই আমাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন।” কিন্তু আগাম বন্যা ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মুহূর্তেই পানির নিচে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার একর জমির পাকা ধান। অনেক কৃষক ধান কাটার আগেই হারিয়েছেন সারা বছরের স্বপ্ন, সংসারের ভরসা এবং সন্তানদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা।

এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উদ্দেশে লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন,
“হাওরের মানুষের কষ্ট আমি কাছ থেকে দেখেছি। এই ক্ষতি শুধু ধানের ক্ষতি নয়, এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার গল্প। আপনারা চিন্তা করবেন না, আমি আপনাদের পাশে আছি এবং থাকব। প্রকৃত কৃষক যেন সরকারি সহায়তা পায় এবং ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, হাওরাঞ্চলকে রক্ষায় , আগাম বন্যা মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত পুনর্বাসনের বিকল্প নেই। কৃষকের মুখে হাসি ফিরিয়ে আনতে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

হাওরের গ্রামগুলো ঘুরে দেখা গেছে, এখনো অনেক পরিবার দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। কোথাও খালি গোলা, কোথাও নষ্ট হয়ে যাওয়া ধানের গন্ধ, আবার কোথাও কৃষকের চোখে শুধুই অনিশ্চয়তার ছাপ। তবুও তাদের বিশ্বাস— কেউ একজন অন্তত তাদের কষ্ট শুনছে, তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলছে।
হাওরের বুকজুড়ে তাই এখনো ভেসে বেড়াচ্ছে মানুষের আর্তনাদ, আর সেই কান্না শুনতেই ছুটে চলেছেন লুৎফুজ্জামান বাবর।

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

হাওরের কান্না শুনতে পায়ে হেঁটে, নৌকায় ভেসে কৃষকের দোরগোড়ায় ছুটে চলেছেন- লুৎফুজ্জামান বাবর

আপডেট সময় : ১০:২৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

 

সূর্য ওঠার আগেই শুরু হয় পথচলা। কখনো কাদামাখা বাঁধের উপর হেঁটে, কখনো মোটরসাইকেলে, আবার কখনো উত্তাল হাওর পাড়ি দিয়ে স্পিডবোটে ছুটে চলা— একটাই উদ্দেশ্য, অকাল বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। নেত্রকোনা-৪ আসনের (মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী) উপজেলার হাওরপাড়ের মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।

দিনটি যেন ছিল অন্যরকম। প্রতিটি কৃষকের ছিল দীর্ঘশ্বাস, প্রতিটি চোখে ছিল না বলা কান্না। কেউ হারিয়েছেন সারা বছরের একমাত্র সম্বল বোরো ধান, কেউ আবার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় নিঃস্ব প্রায়। কৃষকদের সেই বেদনার গল্প মন দিয়ে শুনেছেন লুৎফুজ্জামান বাবর। কারও মাথায় হাত রেখে, কারও চোখের জল মুছে তিনি দিয়েছেন সাহস আর আশ্বাস।

হাওরবাসীর ভাষায়, “ধান শুধু ফসল নয়, এটাই আমাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন।” কিন্তু আগাম বন্যা ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মুহূর্তেই পানির নিচে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার একর জমির পাকা ধান। অনেক কৃষক ধান কাটার আগেই হারিয়েছেন সারা বছরের স্বপ্ন, সংসারের ভরসা এবং সন্তানদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা।

এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উদ্দেশে লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন,
“হাওরের মানুষের কষ্ট আমি কাছ থেকে দেখেছি। এই ক্ষতি শুধু ধানের ক্ষতি নয়, এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার গল্প। আপনারা চিন্তা করবেন না, আমি আপনাদের পাশে আছি এবং থাকব। প্রকৃত কৃষক যেন সরকারি সহায়তা পায় এবং ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, হাওরাঞ্চলকে রক্ষায় , আগাম বন্যা মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত পুনর্বাসনের বিকল্প নেই। কৃষকের মুখে হাসি ফিরিয়ে আনতে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

হাওরের গ্রামগুলো ঘুরে দেখা গেছে, এখনো অনেক পরিবার দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। কোথাও খালি গোলা, কোথাও নষ্ট হয়ে যাওয়া ধানের গন্ধ, আবার কোথাও কৃষকের চোখে শুধুই অনিশ্চয়তার ছাপ। তবুও তাদের বিশ্বাস— কেউ একজন অন্তত তাদের কষ্ট শুনছে, তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলছে।
হাওরের বুকজুড়ে তাই এখনো ভেসে বেড়াচ্ছে মানুষের আর্তনাদ, আর সেই কান্না শুনতেই ছুটে চলেছেন লুৎফুজ্জামান বাবর।