ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন
সারাদেশ

ভুয়া নামজারী ঠেকাতে অনড় এসিল্যান্ড শাহাদাত হোসেন খান: ‘তথ্য সন্ত্রাসে’ সামাজিকভাবে হেয় করার অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদ :
  • আপডেট সময় : ০৩:২৩:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • / ২১০২ বার পড়া হয়েছে

আমিন বাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খান অভিযোগ করেছেন, ভুয়া নামজারী ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় তিনি একটি সংঘবদ্ধ অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় ভূমি দস্যু চক্র ও নামসর্বস্ব কিছু ‘হলুদ সাংবাদিক’ মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি জানান, মনিরুজ্জামান মনির নামের এক ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তিনটি নামজারীর বিষয়ে মোবাইল ফোনে তদবির করেন। বিষয়টি যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে ফোন রাখার পর তিনি সংশ্লিষ্ট ফাইলগুলো বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন। এতে দেখা যায়—একটিতে ভায়া দলিল নেই, একটিতে দলিলের তফসিলের পাতা অনুপস্থিত, আরেকটিতে সরকারি স্বার্থ জড়িত। এসব ঘাটতির কথা জানিয়ে আবেদনকারীকে মূল দলিল ও ভায়া দলিল সরবরাহ করতে বলা হয়।

কিন্তু আবেদনকৃত দলিলপত্র সরবরাহ না করে নামজারী মঞ্জুরের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। মূল দলিল ও ভায়া দলিল ছাড়া নামজারী অনুমোদনে অনড় অবস্থান নেওয়ার পর তার হোয়াটসঅ্যাপে হুমকি ও সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে বারবার ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয় বলেও জানান তিনি।

এর ধারাবাহিকতায় তাকে জড়িয়ে ‘মিথ্যা ও মনগড়া’ তথ্য দিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করেন এসিল্যান্ড শাহাদাত। তিনি ওই সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার শুরু থেকেই দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থানে আছি, এখনও আছি, এবং যতদিন চাকরিতে থাকব নীতির বাইরে কোনো কাজ করব না।”

তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছর ধরে নামজারীর পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, ফলে হয়রানির সুযোগ নেই। সংবাদে উল্লেখিত “সাধারণ সেবা প্রত্যাশীদের জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে”—এই অভিযোগকে তিনি ‘সম্পূর্ণ অপপ্রচার ও মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করেন। সুনির্দিষ্ট দালিলিক প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ আইনসম্মত কি না—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সংবাদে আরও বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেন না—এ দাবিকেও তিনি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেন। তার কক্ষ সবসময় সেবা প্রত্যাশীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকতার সঙ্গে ভূমি সেবা দিয়ে থাকেন বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “সরকারি স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। কোনো অনৈতিক চাপ বা তথ্য সন্ত্রাস দিয়ে আমার মনোবল ভাঙা যাবে না।” একইসঙ্গে তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতার মাধ্যমে রাষ্ট্রগঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “একটি ভুল তথ্য বা মিথ্যাচার যেন কোনো নির্দোষ মানুষকে দোষী না বানায়।”

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

সারাদেশ

ভুয়া নামজারী ঠেকাতে অনড় এসিল্যান্ড শাহাদাত হোসেন খান: ‘তথ্য সন্ত্রাসে’ সামাজিকভাবে হেয় করার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:২৩:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

আমিন বাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খান অভিযোগ করেছেন, ভুয়া নামজারী ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় তিনি একটি সংঘবদ্ধ অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় ভূমি দস্যু চক্র ও নামসর্বস্ব কিছু ‘হলুদ সাংবাদিক’ মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি জানান, মনিরুজ্জামান মনির নামের এক ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তিনটি নামজারীর বিষয়ে মোবাইল ফোনে তদবির করেন। বিষয়টি যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে ফোন রাখার পর তিনি সংশ্লিষ্ট ফাইলগুলো বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন। এতে দেখা যায়—একটিতে ভায়া দলিল নেই, একটিতে দলিলের তফসিলের পাতা অনুপস্থিত, আরেকটিতে সরকারি স্বার্থ জড়িত। এসব ঘাটতির কথা জানিয়ে আবেদনকারীকে মূল দলিল ও ভায়া দলিল সরবরাহ করতে বলা হয়।

কিন্তু আবেদনকৃত দলিলপত্র সরবরাহ না করে নামজারী মঞ্জুরের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। মূল দলিল ও ভায়া দলিল ছাড়া নামজারী অনুমোদনে অনড় অবস্থান নেওয়ার পর তার হোয়াটসঅ্যাপে হুমকি ও সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে বারবার ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয় বলেও জানান তিনি।

এর ধারাবাহিকতায় তাকে জড়িয়ে ‘মিথ্যা ও মনগড়া’ তথ্য দিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করেন এসিল্যান্ড শাহাদাত। তিনি ওই সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার শুরু থেকেই দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থানে আছি, এখনও আছি, এবং যতদিন চাকরিতে থাকব নীতির বাইরে কোনো কাজ করব না।”

তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছর ধরে নামজারীর পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, ফলে হয়রানির সুযোগ নেই। সংবাদে উল্লেখিত “সাধারণ সেবা প্রত্যাশীদের জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে”—এই অভিযোগকে তিনি ‘সম্পূর্ণ অপপ্রচার ও মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করেন। সুনির্দিষ্ট দালিলিক প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ আইনসম্মত কি না—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সংবাদে আরও বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেন না—এ দাবিকেও তিনি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেন। তার কক্ষ সবসময় সেবা প্রত্যাশীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকতার সঙ্গে ভূমি সেবা দিয়ে থাকেন বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “সরকারি স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। কোনো অনৈতিক চাপ বা তথ্য সন্ত্রাস দিয়ে আমার মনোবল ভাঙা যাবে না।” একইসঙ্গে তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতার মাধ্যমে রাষ্ট্রগঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “একটি ভুল তথ্য বা মিথ্যাচার যেন কোনো নির্দোষ মানুষকে দোষী না বানায়।”