সারাদেশ
মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে রক্তাক্ত হামলা: দেশ টিভি ও এসএ টিভির সাংবাদিকদের কুপিয়ে জখম, আটক ৪
- আপডেট সময় : ১১:৫১:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
- / ২১০১ বার পড়া হয়েছে
সাভার পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রাজাশন আমতলা এলাকায় মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল এর সিনিয়র রিপোর্টার তায়েফুর রহমান তুহিন, এর সাভার প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেনসহ পুরো সংবাদকর্মী টিম। অভিযোগ উঠেছে, শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শামীম ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পশ্চিম রাজাশন এলাকায় এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় দুই সাংবাদিককে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং টিমের অন্য সদস্যদের ওপরও চালানো হয় এলোপাতাড়ি মারধর। পরে হামলাকারীরা তাদের পার্শ্ববর্তী একটি গ্যারেজে আটকে রেখে জোরপূর্বক মুচলেকা নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় দেশ টিভির ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার ভাঙচুর করা হয় এবং সাংবাদিকদের কাছে থাকা মানিব্যাগ, নগদ টাকা, ক্যামেরা ও অন্যান্য সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন দেশ টিভির ক্যামেরাপারসন কাইয়ুম ও গাড়িচালক জয়নালও।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী।
হামলার শিকার দেশ টিভির সিনিয়র রিপোর্টার তায়েফুর রহমান তুহিন বলেন,
“অফিসের নির্ধারিত অ্যাসাইনমেন্ট অনুযায়ী আমরা ওই এলাকায় মাদক ব্যবসা ও এর বিস্তার নিয়ে তথ্য সংগ্রহে যাই। স্থানীয়দের বক্তব্য নেওয়ার পর শামীমের মাদক ব্যবসার জন্য পরিচিত গলিতে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার দৃশ্য ধারণ করে গাড়িতে ওঠার সময় একজন ব্যক্তি কথা বলতে চায়। আমি গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই শামীমসহ ৪০ থেকে ৫০ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।”
তিনি আরও বলেন,
“হামলাকারীরা গাড়ি ভাঙচুর করে আমাদের বেধড়ক মারধর করে। আমাকে পেটে ও পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং সাদ্দামের চোখে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আমাদের গ্যারেজে তুলে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। আমরা হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করলে শামীম বলে—‘পুলিশ আসুক, আগে মুচলেকা দিতে হবে।’ পরে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।”
গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন এসএ টিভির প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন বলেন,
“সম্প্রতি শামীমকে নিয়ে পৃথক দুটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই সে আমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। তুহিন ভাইয়ের অনুরোধে আজকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সহযোগিতা করতে যাই। হামলার সময় শামীম আমার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করতে উদ্যত হয়। পরে তার সহযোগীরা আমাকে তিন দফা ছুরিকাঘাত করে, যার একটি আঘাত চোখের কোণে লাগে।”
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স> এর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সোনিয়া রহমান জানান,
“আমরা দুইজন গুরুতর আহত রোগী পেয়েছি। তুহিনের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও সাদ্দামের চোখে গুরুতর জখম রয়েছে। তাকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহত দুজনের শরীরেই ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।”
সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন,
“খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত শামীমসহ অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত ১০ মে রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একই এলাকায় অভিযান চালায় । ওই অভিযানে শামীম পালিয়ে গেলেও তার সহযোগী সন্দেহে তিনজনকে একটি বিদেশি পিস্তল, হেরোইন, ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক করা হয়। র্যাবের তথ্যমতে, শামীম নিজে সরাসরি মাদক বহন না করে সহযোগীদের মাধ্যমে পুরো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে। তার বিরুদ্ধে ও এ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।






















