ঢাকা ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন
সারাদেশ

সাভারে আল-মুসলিম গ্রুপে ১,৮৬৮ শ্রমিক ছাঁটাই, মহাসড়ক অবরোধে বিক্ষোভ


গোলাম সারওয়ার সজল :
  • আপডেট সময় : ০৭:১৪:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • / ২১১১ বার পড়া হয়েছে

সাভারের শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আল-মুসলিম গ্রুপের তিনটি কারখানার ১ হাজার ৮৬৮ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদ ও আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সকল পাওনা পরিশোধের দাবিতে শনিবার সকালে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রমিকরা। একপর্যায়ে তারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট ও জনভোগান্তি।

শ্রমিকদের অভিযোগ, পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে তারা জানতে পারেন যে তাদের চাকরি নেই। অনেককে কারখানায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, আবার কেউ মোবাইল ফোনে ছাঁটাইয়ের বার্তা পান। আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

সকাল ৮টার দিকে কয়েকশ শ্রমিক উলাইল এলাকায় অবস্থিত একেএম নিটওয়্যার লিমিটেড কারখানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী লেন অবরোধ করলে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, একেএম নিটওয়্যার লিমিটেড থেকে ১ হাজার ২৮৬ জন, প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়্যার থেকে ৫২৯ জন এবং আল-মুসলিম অ্যাপারেলস থেকে ৫৩ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা দাবি করেন, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রম আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য প্রাপ্য অর্থ যথাযথভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা। চাকরি হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলেও জানান শ্রমিকরা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আল-মুসলিম গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু রায়হান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া এবং ব্যবসায়িক মন্দার কারণে বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০ ধারা অনুসরণ করে শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, শ্রমিকদের আইন অনুযায়ী বকেয়া ও অন্যান্য প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি দাবিগুলোও যাচাই-বাছাই করে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত শিল্প পুলিশ ও সাধারণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কারখানার সামনে জলকামান ও সাঁজোয়া যান প্রস্তুত রাখা হয়। শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পুলিশের হস্তক্ষেপে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনায় পুরো শিল্পাঞ্চলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিষয়টির দ্রুত ও গ্রহণযোগ্য সমাধান না হলে শ্রম অসন্তোষ আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

সারাদেশ

সাভারে আল-মুসলিম গ্রুপে ১,৮৬৮ শ্রমিক ছাঁটাই, মহাসড়ক অবরোধে বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৭:১৪:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

সাভারের শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আল-মুসলিম গ্রুপের তিনটি কারখানার ১ হাজার ৮৬৮ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদ ও আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সকল পাওনা পরিশোধের দাবিতে শনিবার সকালে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রমিকরা। একপর্যায়ে তারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট ও জনভোগান্তি।

শ্রমিকদের অভিযোগ, পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে তারা জানতে পারেন যে তাদের চাকরি নেই। অনেককে কারখানায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, আবার কেউ মোবাইল ফোনে ছাঁটাইয়ের বার্তা পান। আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

সকাল ৮টার দিকে কয়েকশ শ্রমিক উলাইল এলাকায় অবস্থিত একেএম নিটওয়্যার লিমিটেড কারখানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী লেন অবরোধ করলে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, একেএম নিটওয়্যার লিমিটেড থেকে ১ হাজার ২৮৬ জন, প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়্যার থেকে ৫২৯ জন এবং আল-মুসলিম অ্যাপারেলস থেকে ৫৩ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা দাবি করেন, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রম আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য প্রাপ্য অর্থ যথাযথভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা। চাকরি হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলেও জানান শ্রমিকরা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আল-মুসলিম গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু রায়হান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া এবং ব্যবসায়িক মন্দার কারণে বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০ ধারা অনুসরণ করে শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, শ্রমিকদের আইন অনুযায়ী বকেয়া ও অন্যান্য প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি দাবিগুলোও যাচাই-বাছাই করে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত শিল্প পুলিশ ও সাধারণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কারখানার সামনে জলকামান ও সাঁজোয়া যান প্রস্তুত রাখা হয়। শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পুলিশের হস্তক্ষেপে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনায় পুরো শিল্পাঞ্চলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিষয়টির দ্রুত ও গ্রহণযোগ্য সমাধান না হলে শ্রম অসন্তোষ আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে।