ঢাকা ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

শেরপুর জেলায় রেললাইন আটকে আছে লাল ফিতায় গত ১২ বছর ধরে


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০২:০৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • / ২০৮৫ বার পড়া হয়েছে

শেরপুর জেলায় রেললাইন প্রকল্পটি সত্যিই দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশ্রুতি, সমীক্ষা ও প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে আটকে আছে। ২০১৪ সালে জামালপুরের পিয়ারপুর থেকে শেরপুর শহর পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৫৫২ কোটি টাকা।

কিন্তু এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। ২০২২ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে নতুন করে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়, যা প্রমাণ করে যে প্রকল্পটি এখনও পরিকল্পনা ও সমীক্ষার স্তরেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

২০২১ সালেও শেরপুরে রেললাইন নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল এবং ২০২৫ সালেও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে—”রেলপথের জন্য আর কত অপেক্ষা করতে হবে শেরপুরবাসীকে?”। অর্থাৎ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থাকলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি খুবই সীমিত।

সংবাদপত্রে প্রকাশের উপযোগী একটি সংক্ষিপ্ত মতামত হতে পারে—

“শেরপুরের রেললাইন: উন্নয়নের ট্রেন কি লাল ফিতার ফাঁদে?”

শেরপুর বাংলাদেশের একমাত্র বৃহৎ জেলা, যেখানে এখনও রেল যোগাযোগ পৌঁছায়নি। কৃষি, পর্যটন, শিক্ষা ও ব্যবসার সম্ভাবনাময় এই জেলার মানুষ বছরের পর বছর ধরে রেললাইনের স্বপ্ন দেখে আসছে। ২০১৪ সালে ঘোষণার পর ১২ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে, কিন্তু রেললাইনের কাজ শুরু তো দূরের কথা, প্রকল্পটি এখনও সমীক্ষা ও কাগজপত্রের গণ্ডি পেরোতে পারেনি।

পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হলে মাত্র ২৫ কিলোমিটার রেললাইন কেন দশকজুড়ে আটকে থাকবে? প্রশ্নটি আজ শেরপুরবাসীর। উন্নয়নের ক্ষেত্রে শেরপুরকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে জেলাটি অবহেলিত রয়ে গেছে।

রেললাইন চালু হলে শুধু শেরপুর নয়, বক্সীগঞ্জ, নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতীসহ বৃহত্তর উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি নতুন গতি পাবে। কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, পর্যটন বিকশিত হবে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে।

অতএব, শেরপুরের রেললাইন আর কোনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বিষয় নয়; এটি এখন জেলার মানুষের ন্যায্য অধিকার। সরকারকে অবিলম্বে প্রকল্প অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে। অন্যথায় শেরপুরবাসীর কাছে “রেললাইন” শুধুই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আরেকটি নাম হয়ে থাকবে।

লেখক
মহিউদ্দিন আহমেদ
শেরপুর জেলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

শেরপুর জেলায় রেললাইন আটকে আছে লাল ফিতায় গত ১২ বছর ধরে

আপডেট সময় : ০২:০৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

শেরপুর জেলায় রেললাইন প্রকল্পটি সত্যিই দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশ্রুতি, সমীক্ষা ও প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে আটকে আছে। ২০১৪ সালে জামালপুরের পিয়ারপুর থেকে শেরপুর শহর পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৫৫২ কোটি টাকা।

কিন্তু এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। ২০২২ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে নতুন করে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়, যা প্রমাণ করে যে প্রকল্পটি এখনও পরিকল্পনা ও সমীক্ষার স্তরেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

২০২১ সালেও শেরপুরে রেললাইন নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল এবং ২০২৫ সালেও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে—”রেলপথের জন্য আর কত অপেক্ষা করতে হবে শেরপুরবাসীকে?”। অর্থাৎ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থাকলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি খুবই সীমিত।

সংবাদপত্রে প্রকাশের উপযোগী একটি সংক্ষিপ্ত মতামত হতে পারে—

“শেরপুরের রেললাইন: উন্নয়নের ট্রেন কি লাল ফিতার ফাঁদে?”

শেরপুর বাংলাদেশের একমাত্র বৃহৎ জেলা, যেখানে এখনও রেল যোগাযোগ পৌঁছায়নি। কৃষি, পর্যটন, শিক্ষা ও ব্যবসার সম্ভাবনাময় এই জেলার মানুষ বছরের পর বছর ধরে রেললাইনের স্বপ্ন দেখে আসছে। ২০১৪ সালে ঘোষণার পর ১২ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে, কিন্তু রেললাইনের কাজ শুরু তো দূরের কথা, প্রকল্পটি এখনও সমীক্ষা ও কাগজপত্রের গণ্ডি পেরোতে পারেনি।

পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হলে মাত্র ২৫ কিলোমিটার রেললাইন কেন দশকজুড়ে আটকে থাকবে? প্রশ্নটি আজ শেরপুরবাসীর। উন্নয়নের ক্ষেত্রে শেরপুরকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে জেলাটি অবহেলিত রয়ে গেছে।

রেললাইন চালু হলে শুধু শেরপুর নয়, বক্সীগঞ্জ, নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতীসহ বৃহত্তর উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি নতুন গতি পাবে। কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, পর্যটন বিকশিত হবে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে।

অতএব, শেরপুরের রেললাইন আর কোনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বিষয় নয়; এটি এখন জেলার মানুষের ন্যায্য অধিকার। সরকারকে অবিলম্বে প্রকল্প অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে। অন্যথায় শেরপুরবাসীর কাছে “রেললাইন” শুধুই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আরেকটি নাম হয়ে থাকবে।

লেখক
মহিউদ্দিন আহমেদ
শেরপুর জেলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী।