ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

আজ বীর মুক্তিযোদ্ধা না: সু: মনির আহাম্মদ এর ১৯তম মৃত্যু বার্ষিকী


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৭:২৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • / ২০৯১ বার পড়া হয়েছে

 

 

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের রনাঙ্গনের বীর যোদ্ধা নায়েব সুবেদার মনির আহাম্মদ এর আজ ১৯তম মৃত্যু বার্ষিকী।

১৯২৯ সালের ১ জুলাই ফেনী জেলা সোনাগাজী উপজেলার পৌর ৯ নং ওয়ার্ড ঐতিহ্যবাহী বকস আলী ভূঁঞা বাড়িতে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন।

তাঁর পিতার নাম মুরাদেজ্জামান, মাতা নাম ওজিফা খাতুন।

তিনি মতিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যাট্রিকুলেশন’ (Matriculation) পরীক্ষার্থী ছিলেন, কিন্তু

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের শেষের দিকে দেশ ভাগের দামাড়ায় পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করা হয়নি।

 

রনাঙ্গনের এই বীর যোদ্ধা সোনাগাজী ফুটবল একাদশের একজন খেলোয়াড় ছিলেন।  ফুটবল খেলতে যাওয়ার সুবাদে ১৯৫২ সালে নোয়াখালী স্টেডিয়ামে আগত ইপিআর পরবর্তীতে বিডিআর বর্তমান বিজিবি সৈনিক রিক্রুট টিমের নজরে আসেন।

নোয়াখালীতে রিক্রুট হওয়ার পর ১৯৫২ সালে ১ মার্চ তিনি ইপিআর এ সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন।

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে ২৬ মার্চ এর প্রথম প্রহরে ঢাকা (ইপিআর) ইস্ট পাকিস্তান রাইফেল’স এর সদর দপ্তর পিলখানা থেকে ইপিআরের নিজস্ব ওয়্যারলেসযোগে ইপিআরের সুবেদার মেজর (সিগন্যাল) শওকত আলীর পাঠানো বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার ম্যাসেজ পেয়ে কর্মস্থল কুমিল্লায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ইপিআর’র বাঙালি সৈনিক সাথে প্রতিরোধ যুদ্ধ আরম্ভ করেন।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভারী অস্ত্রের মুখে বেশিক্ষণ টিকতে না পেরে পরে কুমিল্লা শহর হয়ে ভারতে পাড়ি জমান।

১৭ এপ্রিল ১৯৭১ মেহেরপুরের আম্লকাননে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণের পর আর্মি, বিডিআর ও পুলিশের সুসংগঠিত বাহিনীর সাথে মাতৃভূমি কে হানাদার মুক্ত করতে ২ নং সেক্টর কুমিল্লা অঞ্চলে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

দীর্ঘ ৯ মাস কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যান।

৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর যৌথ আক্রমণে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে কুমিল্লা জেলা পুরোপুরি মুক্ত করেন। এরপর ঢাকা অভিমুখে অগ্রসর হন।

 

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয়ের দিনে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সৈন্যদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মাতৃভূমির গর্বিত সৈনিকের দায়িত্ব পালন করেন।

 

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে সরকার ঘোষিত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের দেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত করার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি ঢাকা স্টেডিয়ামে মুক্তিফৌজ/মুক্তিবাহিনীর অস্ত্র সমর্পণ অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন নায়েব সুবেদার মনির আহাম্মদ।

১৯৮৩ সালে বিডিআর বর্তমান বিজিবি থেকে এলপিআ’র আসা পর্যন্ত সীমান্তে সততা ও নিষ্ঠার সাথে অতন্ত্র প্রহরির দায়িত্ব পালন করেন।

 

চাকুরির থেকে অবসরের পর নিজ এলাকায়

সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্টারের সেবায় নিবেদিত ছিলেন।

বার্ধক্যজনিত কারণে জীবনের শেষ বছরে শয্যাশায়ী ছিলেন।

২০০৭ সালের ১৭ জুলাই মহান রাব্বুল আল-আমীন এর ডাকে দুনিয়ার সফর শেষ করেন।

 

আমরা মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে রনাঙ্গনের এই বীর যোদ্ধার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

আমিন

১৭ জুলাই বীর মুক্তিযোদ্ধা নায়েব সুবেদার মনির আহাম্মদ এর ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে পিতার আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার দোয়া চেয়েছেন সাংবাদিক আফতাব মমিন ভূঁঞা।

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

আজ বীর মুক্তিযোদ্ধা না: সু: মনির আহাম্মদ এর ১৯তম মৃত্যু বার্ষিকী

আপডেট সময় : ০৭:২৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

 

 

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের রনাঙ্গনের বীর যোদ্ধা নায়েব সুবেদার মনির আহাম্মদ এর আজ ১৯তম মৃত্যু বার্ষিকী।

১৯২৯ সালের ১ জুলাই ফেনী জেলা সোনাগাজী উপজেলার পৌর ৯ নং ওয়ার্ড ঐতিহ্যবাহী বকস আলী ভূঁঞা বাড়িতে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন।

তাঁর পিতার নাম মুরাদেজ্জামান, মাতা নাম ওজিফা খাতুন।

তিনি মতিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যাট্রিকুলেশন’ (Matriculation) পরীক্ষার্থী ছিলেন, কিন্তু

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের শেষের দিকে দেশ ভাগের দামাড়ায় পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করা হয়নি।

 

রনাঙ্গনের এই বীর যোদ্ধা সোনাগাজী ফুটবল একাদশের একজন খেলোয়াড় ছিলেন।  ফুটবল খেলতে যাওয়ার সুবাদে ১৯৫২ সালে নোয়াখালী স্টেডিয়ামে আগত ইপিআর পরবর্তীতে বিডিআর বর্তমান বিজিবি সৈনিক রিক্রুট টিমের নজরে আসেন।

নোয়াখালীতে রিক্রুট হওয়ার পর ১৯৫২ সালে ১ মার্চ তিনি ইপিআর এ সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন।

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে ২৬ মার্চ এর প্রথম প্রহরে ঢাকা (ইপিআর) ইস্ট পাকিস্তান রাইফেল’স এর সদর দপ্তর পিলখানা থেকে ইপিআরের নিজস্ব ওয়্যারলেসযোগে ইপিআরের সুবেদার মেজর (সিগন্যাল) শওকত আলীর পাঠানো বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার ম্যাসেজ পেয়ে কর্মস্থল কুমিল্লায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ইপিআর’র বাঙালি সৈনিক সাথে প্রতিরোধ যুদ্ধ আরম্ভ করেন।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভারী অস্ত্রের মুখে বেশিক্ষণ টিকতে না পেরে পরে কুমিল্লা শহর হয়ে ভারতে পাড়ি জমান।

১৭ এপ্রিল ১৯৭১ মেহেরপুরের আম্লকাননে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণের পর আর্মি, বিডিআর ও পুলিশের সুসংগঠিত বাহিনীর সাথে মাতৃভূমি কে হানাদার মুক্ত করতে ২ নং সেক্টর কুমিল্লা অঞ্চলে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

দীর্ঘ ৯ মাস কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যান।

৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর যৌথ আক্রমণে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে কুমিল্লা জেলা পুরোপুরি মুক্ত করেন। এরপর ঢাকা অভিমুখে অগ্রসর হন।

 

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয়ের দিনে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সৈন্যদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মাতৃভূমির গর্বিত সৈনিকের দায়িত্ব পালন করেন।

 

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে সরকার ঘোষিত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের দেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত করার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি ঢাকা স্টেডিয়ামে মুক্তিফৌজ/মুক্তিবাহিনীর অস্ত্র সমর্পণ অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন নায়েব সুবেদার মনির আহাম্মদ।

১৯৮৩ সালে বিডিআর বর্তমান বিজিবি থেকে এলপিআ’র আসা পর্যন্ত সীমান্তে সততা ও নিষ্ঠার সাথে অতন্ত্র প্রহরির দায়িত্ব পালন করেন।

 

চাকুরির থেকে অবসরের পর নিজ এলাকায়

সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্টারের সেবায় নিবেদিত ছিলেন।

বার্ধক্যজনিত কারণে জীবনের শেষ বছরে শয্যাশায়ী ছিলেন।

২০০৭ সালের ১৭ জুলাই মহান রাব্বুল আল-আমীন এর ডাকে দুনিয়ার সফর শেষ করেন।

 

আমরা মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে রনাঙ্গনের এই বীর যোদ্ধার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

আমিন

১৭ জুলাই বীর মুক্তিযোদ্ধা নায়েব সুবেদার মনির আহাম্মদ এর ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে পিতার আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার দোয়া চেয়েছেন সাংবাদিক আফতাব মমিন ভূঁঞা।