কুড়িগ্রামে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, ভাঙন তীব্র
- আপডেট সময় : ১০:১১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
- / ২০৬০ বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রামে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রসহ সবকটি নদ নদীর পানি আবারও দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। গত দুইদিন থেকে এসব নদ-নদীর পানি আবারও হু-হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ তা আরও বেড়ে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজারহাটে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে দুধকুমার নদের পানি ২৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও ধরলা নদীর শিমুলবাড়ি ও সেতু পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের হাতিয়া, চিলমারী ও নুনখাওয়া পয়েন্টে পানি ২০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বইছে। ফলে এসব নদ-নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় পানি উঠছে।
তলিয়ে যাচ্ছে এসব এলাকার বেশ কিছু ফসল। গ্রামীণ সড়কে পানি উঠায় বেকায়দায় পড়েছেন নদী পাড়ের বাসিন্দাগণ।
পরপর দুদফা বন্যায় জেলার ৫শ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, শাক-সবজি ও পটল খেতসহ নানা ফসল তলিয়ে যায়। পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেড়শ হেক্টর জমির এসব ফসল। এরপর নতুন করে তৃতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টিতে কৃষকদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের কদমতলার কৃষক আবু বকর জানান, দুইবার বন্যায় গেল ফসল। নতুন করি শুরু করছি। কিন্তু আবার পানি বাড়তেছে। কি করব বুঝবার পাবার নাগচিনা।
এদিকে, তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমা ও বাড়ার কারনে নদীতে স্রোত বেড়ে তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাউবো জানায়, এখন ৩৮টি স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুদিন ধরে জেলার চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকল সড়কটারী গ্রামে বসতবাড়ি, মসজিদ,হাট বাজার ও ফসলী জমি এখন মারাত্নক হুমকিতে। এ এলাকার পানি উন্নয়ন বোডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৫০মিটারে ধ্বস দেখা দেয়ায় সেখানকার মানুষজন ভাঙন আতংকে রয়েছে।
সড়কটারী গ্রামের বাসিন্দা জুলফিকার জানান, গত দুইমাসে রানীগঞ্জের সড়কটারী নদী রক্ষা বেরি বাধে দুইবার ভাঙানী দিল। আমরা নদী পাড়ের বাসিন্দারা অত্যন্ত আতংকে রয়েছি। বাঁধের একপাশে নদী আর এক পাশে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, মসজিদ ও আমাদের স্কুল ও মাদরাসা। যেভাবে বাঁধে ধ্বস দেখা দিছে তাতে ভয় হচ্ছে। কিন্তু অস্থায়ীভাবে জিওব্যাগ ফেলে তা প্রতিরোধের চেষ্টা করা হলেও তাতেও আমাদের চিন্তা অনেক।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোডের নিবাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, নদীর পানি উজানের ঢলে বেড়ে যাওয়ায় স্রোত তীব্র আকার ধারণ করে ভাঙন প্রবল আকার ধারণ করেছে। এখন জেলার নদী তীরবতী ৩৮টি স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিলে আমরা অস্থায়ীভাবে জিওব্যাগ ফেলে সাময়িক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। বর্তমানে ৪৫০ কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করা হচ্ছে।






















