ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন
সারাদেশ

সাভারে মাদ্রাসা প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ: ১২ শিক্ষার্থীকে ফেলে শিক্ষকসহ সবাই পলাতক, শিশু নিখোঁজ


নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপডেট সময় : ১১:২৯:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • / ২১১৫ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার সাভারে দাওয়াতুল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল শায়েখ ক্বারী মোহাম্মদ আনাস আলীর বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ ওঠার পরদিনই (২৮ জুলাই) অভিযুক্ত প্রিন্সিপালসহ মাদ্রাসার সব শিক্ষক বাড়িওয়ালার সহায়তায় পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ঘেরাও করেন। পরবর্তীতে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

​উলাইল ভান্ডারী মোড় এলাকায় অবস্থিত বাড়িওয়ালা সিরাজুল ইসলামের তিনতলা ভবনের তিনতলায় পরিচালনা করা হতো মাদ্রাসাটি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রিন্সিপাল আনাস আলী ছাড়া মাদ্রাসায় চারজন পুরুষ শিক্ষক, তিনজন নারী শিক্ষক এবং আনুমানিক ৬০ থেকে ৬৫ জন শিক্ষার্থী ছিল।

​ঘটনার পরদিন শিক্ষকরা সবাই পালিয়ে যাওয়ার খবরে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় জনতা বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বাড়িওয়ালা সিরাজুল ইসলাম জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। সাভার মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে ১২ জন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে এবং পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনে।

​বাড়িওয়ালা সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, ওই মাদ্রাসায় নাকি কেবল একজন শিক্ষকই (প্রিন্সিপাল আনাস আলী) কর্মরত ছিলেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের তথ্য এর সম্পূর্ণ বিপরীত।

​এদিকে ঘটনার আকস্মিকতায় এক গার্মেন্টস কর্মী অভিভাবক দ্রুত মাদ্রাসায় ছুটে আসেন। সেখানে এসে তিনি দেখেন তার ৬ বছরের শিশু সন্তান আব্দুল্লাহ আল মাহিন মাদ্রাসায় নেই। আতঙ্কিত হয়ে তিনি পলাতক প্রিন্সিপালকে কল করলে প্রিন্সিপাল জানান শিশুটি বাড়িতে চলে গেছে। কিন্তু শিশুটি বাড়ি ফেরেনি এবং এর পরপরই প্রিন্সিপালের মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। বর্তমানে শিশুটি নিখোঁজ থাকায় তার পরিবার চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে।

​সাভার মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, রেখে যাওয়া ১২ জন শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে। শিক্ষক পালিয়ে যাওয়া এবং শিশু নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত প্রিন্সিপালসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং এ বিষয়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

সারাদেশ

সাভারে মাদ্রাসা প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ: ১২ শিক্ষার্থীকে ফেলে শিক্ষকসহ সবাই পলাতক, শিশু নিখোঁজ

আপডেট সময় : ১১:২৯:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

ঢাকার সাভারে দাওয়াতুল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল শায়েখ ক্বারী মোহাম্মদ আনাস আলীর বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ ওঠার পরদিনই (২৮ জুলাই) অভিযুক্ত প্রিন্সিপালসহ মাদ্রাসার সব শিক্ষক বাড়িওয়ালার সহায়তায় পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ঘেরাও করেন। পরবর্তীতে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

​উলাইল ভান্ডারী মোড় এলাকায় অবস্থিত বাড়িওয়ালা সিরাজুল ইসলামের তিনতলা ভবনের তিনতলায় পরিচালনা করা হতো মাদ্রাসাটি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রিন্সিপাল আনাস আলী ছাড়া মাদ্রাসায় চারজন পুরুষ শিক্ষক, তিনজন নারী শিক্ষক এবং আনুমানিক ৬০ থেকে ৬৫ জন শিক্ষার্থী ছিল।

​ঘটনার পরদিন শিক্ষকরা সবাই পালিয়ে যাওয়ার খবরে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় জনতা বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বাড়িওয়ালা সিরাজুল ইসলাম জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। সাভার মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে ১২ জন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে এবং পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনে।

​বাড়িওয়ালা সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, ওই মাদ্রাসায় নাকি কেবল একজন শিক্ষকই (প্রিন্সিপাল আনাস আলী) কর্মরত ছিলেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের তথ্য এর সম্পূর্ণ বিপরীত।

​এদিকে ঘটনার আকস্মিকতায় এক গার্মেন্টস কর্মী অভিভাবক দ্রুত মাদ্রাসায় ছুটে আসেন। সেখানে এসে তিনি দেখেন তার ৬ বছরের শিশু সন্তান আব্দুল্লাহ আল মাহিন মাদ্রাসায় নেই। আতঙ্কিত হয়ে তিনি পলাতক প্রিন্সিপালকে কল করলে প্রিন্সিপাল জানান শিশুটি বাড়িতে চলে গেছে। কিন্তু শিশুটি বাড়ি ফেরেনি এবং এর পরপরই প্রিন্সিপালের মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। বর্তমানে শিশুটি নিখোঁজ থাকায় তার পরিবার চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে।

​সাভার মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, রেখে যাওয়া ১২ জন শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে। শিক্ষক পালিয়ে যাওয়া এবং শিশু নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত প্রিন্সিপালসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং এ বিষয়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।