ঢাকা ০৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
সাক্ষাৎকার

তৃণমূল নেত্রী থেকে হয়েছেন কমিশনার বর্তমানে এমপি: ফেরদৌসী আহমেদ মিস্টি

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিস্টি দেশের রাজনীতি ও জনসেবার অঙ্গনে একটি সুপরিচিত নাম। জাতীয় সংসদে দায়িত্ব পালনের আগে তিনি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বোন এবং প্রয়াত কাউন্সিলর সাইদুর রহমান নিউটনের সহধর্মিণী। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, স্থানীয় সরকারে কাজের অভিজ্ঞতা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তাঁকে একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি এনে দিয়েছে।


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০২:১০:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২০৭১ বার পড়া হয়েছে

সম্প্রতি আমাদের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জাতীয় রাজনীতি, সংসদীয় দায়িত্ব, স্থানীয় সরকার, নারীর নেতৃত্ব, জনসেবার অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মির্জা মহিবুল হাসান। সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি পাঠকের জন্য নিম্নে দেওয়া হলঃ

বঙ্গ সংবাদঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে আপনার প্রধান অগ্রাধিকার কী? প্রথম বছরেই কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে চান?

ফেরদৌসী আহমেদঃ আমাদের যারা কর্মজীবী মহিলা আছেন তাদের সন্তানদের নিয়ে আমরা সবসময় চিন্তিত থাকি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া,উনি ডে কেয়ারের যে একটা উদ্যোগ নিয়েছেন ,এটা চমৎকার একটা উদ্যোগ নিয়েছেন।যেখানে শিশুরা নিরাপদ থাকবে, মা’রাও নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারবেন এবং নিজের মান-মর্যাদা বজায় থাকবে। তাই এই বিষয়টা নিয়ে আমি কাজ করছি।

তারপরে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যুব সমাজ। আমাদের যুব সমাজটা মাদক নিয়ে ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছে। প্রত্যেকটা জায়গায় আপনি দেখবেন মাদকের ছড়াছড়ি। কি শহর, কি গ্রাম সব জায়গায় এর যে সহজলভ্যতা, হাত বাড়ালেই আপনি পেয়ে যাচ্ছেন সব ধরনের মাদক। ঢাকা শহরে মাদক এইভাবে পাওয়া যায়, আমার মনে হয় ব্যাংকের ছাতার চেয়েও মাদকের কারবারি বেশি হয়ে গেছে। আমি সুস্থ মানুষ খুঁজে পাই না। আমাদের এখন এমন একটা অবস্থা হয়েছে, যে যেদিকে তাকাই বাচ্চা বাচ্চা ছেলেরা নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে। আমার খুবই কষ্ট লাগে আমি কিছুই করতে পারছি না। প্রশাসনও কিছু করতে পারছে না। এটা এখন আমাদের সময়ের দাবি, সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং পরিবারের সবাইকে নিয়ে এই বিষয়টি খোলাখুলি আলোচনা করতে হবে। এটা আসলে প্রশাসক ও আমাদের নিজেদের ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের সচেতনতার মাধ্যমে পসিবল হবে মাদক নির্মূল। তা না হলে কখনোই সম্ভব হবে না।
আপনারা দেখবেন আমার এই মিরপুর মাজারের সামনে যে রাস্তাটা টা আছে, এখানে টুকরি করে মাদক বিক্রি হয়। আমি নিজেই অবাক হই, আপনি এখনই যান, এখনই দেখবেন টুকরি করে মাদক বিক্রি করছে। মানে আমরা যেমন সবজি, ফল বিক্রি করি ঠিক এইভাবে মাদক বিক্রি করতেছে। সব ধরনের মাদক। আপনি যা চাচ্ছেন তাই। মনে হয় এখানে পুলিশ অনেক বার রেইড দিয়েছিল ।ওরা এমন একটা আতঙ্ক তৈরি করে ঐক্যবদ্ধ ভাবে । পুলিশের গাড়ি একবার পুড়িয়ে দিয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে হাতে- মুখে ব্লেড থাকে, ওরা নিজেরাই নিজেদের আহত করে এবং পুলিশদেরও ব্লেড দিয়ে ভয় দেখায়। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির চেয়েও মিরপুরে মাদকে যুব সমাজ বেশি আক্রান্ত হয়ে গেছে। তারপরে চাঁদাবাজ । যেই করুক চাঁদাবাজি সেটা অটোমেটিকলি দলীয় ভাবে নামটা চলে আসে। দল করলেও নাম আসতেছে, না করলেও নাম চলে আসতেছে। আমার মনে হয় আগের যে স্বৈরাচারী সরকার ছিল তাদের প্রভাব এখনো বিদ্যমান আছে। এবং আমাদের কিছু সুযোগ সন্ধানী লোক যারা খুব নিডি টাইপের এরা হয়তোবা ওদের সাথে সহযোগিতা করে একটা পার্সেন্টেজ ওদের চাঁদাবাজগুলোর হাতে তুলে দিচ্ছে। আমার এটা ধারণ।

বঙ্গ সংবাদঃ সংরক্ষিত আসনে এমপি দের ভূমিকা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা হয়। অর্থাৎ আপনি কিভাবে প্রমাণ করতে চান যে সংরক্ষিত আসনের প্রতিনিধিরাও জনগণের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে?

ফেরদৌসী আহমেদঃ সবচেয়ে প্রথমে একটা কথা বলি,আপনি মনে হয় জানেন যে,সংরক্ষিত আসনের নারী এমপিরা কিন্তু বাংলাদেশের সর্বত্র কাজ করতে পারে। ওভারল বাংলাদেশে, কিন্তু আমার একটা নির্দিষ্ট এলাকা না। আমি পুরা বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় কাজ করতে পারব। বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় আমি রাস্তার সহ যেকোনো প্রয়োজনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে পারব, তার জন্য কোন বাধা নাই। আপনারা জেনে থাকবেন কাজের প্রয়োজনে সংরক্ষিত এমপিদের কে দল থেকে কোন কোন এলাকা নির্দিষ্ট করে দেয়। কারণ আমি আপনি দুইজন একসাথে একই কাজ করতে গেলে একটা কনফ্লিকট হতে পারে। এইজন্য হয়তোবা দল থেকে এটা বলে দেয়। কিন্তু আসলে আমি সমগ্র বাংলাদেশে কাজ করতে পারি।এইদিকে আমি বিস্তর ক্ষমতার অধিকারী।


দ্বিতীয়ত হচ্ছে, কাজ করার সময়ে আমার একটা লিমিট থাকে। যেকোনো কিছু বরাদ্ধের সময় সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে আমার এবং ওই আসনের এমপির মাঝে । কিন্তু আপনি যখন কোন একটা প্রজেক্ট করে নিয়ে যাচ্ছেন তখন কিন্তু এটা পারমিশন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং হচ্ছেও সেই রকম । কিন্তু আমরা এটা চাই না। আপনি জেনে থাকবেন এই সংসদের বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংরক্ষিত আসনের প্রত্যেক এমপি মাঠ পর্যায় থেকে রাজনীতি করে উঠে এসেছে ।

আমি কিন্তু সেই বদরুন্নেছা এ জি এস থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত এসেছি। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যখন আমি লাস্ট টাইম তেজগাঁও জোনের টিম লিডার ছিলাম । তেজগাঁও হচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর এলাকা । সেইখানে কিন্তু আমি ইলেকশন এর আগের দিন মিছিল করেছি এবং ওইখানে আমাকে ছবি নিয়ে খোঁজা হতো। আমরা তো কাজ কোন অংশ কম করিনি। এবং আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি যে, অনেক পুরুষের চেয়ে আমি ভালো কাজ করেছি। আমাকে যার জন্য প্রথমে উত্তরা টিম এর টিম লিডার করা হয়েছিল। আমরা চারজন ছিলাম। তারপর আমাকে তেজগাঁও টিমে নিয়ে এসেছে। এখন বর্তমানে আমি মিরপুর টিম এ টিম লিডার আছি। তো কাজের ক্ষেত্রে কিন্তু আমরা কেউই পিছিয়ে নেই।

বঙ্গ সংবাদঃ আপনাদেরকে সংরক্ষিত এমপি বলা হয়, যেমন প্রত্যেকটা এমপির সংসদীয় আসন নির্ধারণ থাকে, ওই আসনের এমপি কে জবাবদিহি, কৈফিয়ৎ এবং স্কুল, কলেজ , মাদ্রাসা একটা ইস্যু থাকে।

ফেরদৌসী আহমেদঃ আমাদের সুযোগ আছে। আমাদের সুযোগ আছে কিন্তু ওইভাবে না আপনি যেভাবে বলতেছেন। তবে আমার কথা হচ্ছে যে, আমি যদি অনেক পুরুষের চেয়ে বেটার কাজ করি এবং আলহামদুলিল্লাহ আমাকে তো অবশ্যই ইনফ্লুয়েন্স করেছে। আপনারা জানেন যে আমার ভাইটা মারা গিয়েছে। নাসির উদ্দিন পিন্টু এমপি ছিলেন। আমার স্বামী কমিশনার ছিলেন। তাকেও মেরে ফেলা হয়েছে। এবং সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ২০২১ শে জিয়ার মাজারে আমাকে মেরে ফেলার জন্য সন্ত্রাসীরা ছুরি দিয়ে আমার আমার উপর হামলা করে । এতে আমি মারাত্মকভাবে আহত হই এবং আমার শরীরে অনেকগুলি সেলাই দিতে হয় । এই পর্যন্ত আমার শরীরে ছয়টা অপারেশন হয়েছে । তাই আমার কথা হচ্ছে যে ওই সব প্রত্যেকটা দিন আমি যখন ক্রাইসিস মোমেন্ট পার করেছি তখন কিন্তু আমি এমন কোন দিন নেই আমার মনে হয়েছে যে আমি যদি মিছিল টাতে না যাই, আমি যদি প্রোগ্রাম টাতে না যাই তাহলে আমার ছেলেপেলেরা যাবে। ওরা যদি কোন একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে আমার একটা জবাব দিহি থেকে যাবে এবং আমার একটু লজ্জা লাগবে যে আমি না গিয়ে ওদের পাঠালাম। মানে এই দায় টা আমি নিতে চাইনি। এইজন্য আমি নিজেই ফিল্ডে ছিলাম।

সব সময় সক্রিয় ছিলাম দলীয় সমস্ত কর্মসূচিতে । আমি এবং আমাকে কর্মীদের এখানে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন আমাদের দলের সিনিয়র সদস্য মোজাম্মেল হক স্যার। চমৎকার সহযোগিতা করেছেন । আমি তো তেজগাঁও টিম লিডার ওই সময় তেজগাঁওয়ে পালানোর রাস্তাগুলো চিনতাম না। চিপা টিপা চিনতাম না। উনি আমাকে এই সহযোগিতা গুলো করেছেন । শুধু তাই না, যেমন আপনি চিন্তা করেন , আমি যখন গুলি খাই তখন কিন্তু আমি ছিলাম উত্তরা টিম এর টিম লিডার । যখন গুলি খাই তখন উত্তরা টিম এ । মিছিলের সময় আমার চোখের সামনে থেকে দুইজন করে ধরত ছাত্রলীগের ছেলেরা, পিটাত, আমি দেখেছিলাম কিছুই করতে পারছিলাম না, ছাত্রলীগের ছেলেরা ওদেরকে তারপর পুলিশে দিত। মানে এটা আমার নিজের দেখা প্র্যাকটিক্যাল জিনিস বললাম। একদিন না তিনজন আমাকে ধরার জন্য পাকড়াও করছিল প্রোগ্রামে ।

আমার কর্মীরা আমাকে জোর করে ওদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে মোটরসাইকেলে তুলে দিল, মোটরসাইকেলটা এসেছিল আমাদের আরেকজন কর্মীকে নেওয়ার জন্য , আমার এখনও গিল্টি লাগে। ওই মোটরসাইকেলে যার ওঠার কথা ছিল তাকে ইচ্ছা মত পিটাচ্ছে ছাত্রলীগের কর্মীরা তারপর পুলিশ হাতে দিয়ে দিয়েছে। এই যে একটা জিনিস, এই ক্রাইসিস মোমেন্ট টা কিন্তু আমরা পার করে আসছি। এইগুলা কিন্তু আমরা পার করে দিয়ে আসছি এবং অনেক গরিব লোক ছিল আমাদের সাথে, বিশেষ করে হাতিরঝিলের লোকজন। এরা এগারো মাস, বারো মাস ধরে জেল খাটছে। এদের বউ বাচ্চাগুলারে রাত একটা-দেড়টার সময় বের করে দিয়েছে বাসা থেকে । এদের যে কান্না! কঠিন। আমি এগুলা ফিল করি ।

বঙ্গ সংবাদঃ বাংলাদেশের নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন আরও শক্তিশালী করতে বর্তমান ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?

ফেরদৌসী আহমেদঃ নারীদের সবচেয়ে দুর্বল বিষয় হচ্ছে দুইটা জিনিস । এক হচ্ছে পেশীশক্তি, দুই হচ্ছে আর্থিক শক্তি। নারীদের আর্থিক অবস্থা খুব ভালো না, অনেক ক্ষেত্রেই। কারণ ওরা যখন রাজনীতিটা করে, ওদের তখন মেয়েদের নিয়ে চলতে হয় অর্থাৎ নারী নেত্রীদের। মেয়েদের তো যাতায়াতের একটা খরচ থাকে। কিন্তু এরা আসলে এই খরচগুলা সামলাতে হিমশিম খেয়ে যায়। এই একটা জিনিস। আর পেশীশক্তি, পুরুষদের যে একটা শক্তি আছে, এই শক্তিটা নারীদের নাই এবং নারীদের দুই একজনে থাকতেও পারে, থাকতে পারলেও কিন্তু এটা দেখাইতে গেলেই সমাজ নানান কথা বলবে। আমাদের যে দুইটা জিনিস নিয়ে রাজনীতি করতে হয়, একটা হচ্ছে মানসিক চাপ , অন্যটা হচ্ছে ফিজিক্যাল চাপ এবং ফিজিক্যাল চাপ বললাম এই কারণে যে আমরা যখন কিছু একটা করতে যাই কিংবা বলতে যাই তখন অন্যরা মারমুখী হয়। আমাদের গায়ে হাত টা হয়তোবা আর তোলে না, কিন্তু একটা অন্যরকম আলোচনা তৈরি হয়ে যায়। যার জন্য আমাদের অনেক সময় অনেক কিছু ইচ্ছা করলেও পারি না।

বঙ্গ সংবাদঃ এখানে আসলে শিক্ষার একটা যে বিষয়, আমি ওইটাই বোঝাতে চাচ্ছিলাম। যে রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন শুধু যে আপনি দুইটা জিনিসকে-

ফেরদৌসী আহমেদঃ অবশ্যই, শিক্ষাটা একটা গুরুত্ব আছেই এখানে। আপনারা দেখবেন বর্তমানে আমাদের যে পার্লামেন্টে আছে মহিলা সাংসদ, সবাই গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন । শিক্ষার ক্ষেত্রে কিন্তু নারী অনেক এগিয়ে গেছে। এটা আমি অবশ্যই কৃতিত্ব বেশি দিবো হচ্ছে বিএনপি সরকারকে। বিএনপি সরকার যখনই আসছে নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক কিছু করে গেছেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন বুঝলেন যে নারীদের অর্ধেক ঘরে রেখে আর অর্ধেক পুরুষ দিয়ে দেশ উন্নয়ন করা যাবে না। তখন খাল কাটা থেকে শুরু করে এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয় উনি করে করে গিয়েছেন । তারপরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া তিন তিনবার প্রধানমন্ত্রী উনি যখন দেখলেন যে নারীরা যদি শিক্ষিত না হয় তাহলে দেশ উন্নয়ন সম্ভব নয় তখন তিনি প্রথমে অষ্টম শ্রেণী, তারপর এসএসসি পর্যন্ত পড়া বিনামূল্যে করে দিলেন মেয়েদের জন্য । অনেকেই টাকার জন্য পড়তে পারে না। উনি এইটা করে দিলেন এবং বর্তমান সরকার আমাদের প্রাইম মিনিস্টার তারেক রহমান গ্র্যাজুয়েশন পর্যন্ত অবৈতনিক করে দিয়েছেন মেয়েদের জন্য । এইটা তো মেয়েদের পড়ার একটা বিশাল ব্যাপার। আর আপনারা চিন্তা করেন একটা মেয়ে যদি শিক্ষিত হয় তার পরিবারটা টা কিন্তু পুরোপুরি শিক্ষিত হয়ে যায়। সেটা সত্যি কথা। কারণ একজন শিক্ষক তো বই খাতা দিয়ে পড়ায়। কিন্তু আপনার পড়া লেখাটা কিন্তু শুধু বই খাতার মধ্যে না। নৈতিক শিক্ষাটা আমাদের বেশি প্রয়োজন। সামাজিক শিক্ষাটা আমাদের প্রয়োজন। আপনার একজনের সাথে কিরকম বিহেভিয়ার করবেন এটা জানা দরকার। আমার বাচ্চা আজকে মানে অন্যভাবে বড় হলো, সে মানুষকে মানুষ মনে করতেছে না, যার তার সাথে বেয়াদবি করতেছে। এইগুলা তো আপনি বই খাতাতে পাবেন না। এটা পরিবার থেকে শিখতে হবে, সমাজ থেকে শিখতে হবে। একটি পরিবারে মা যদি শিক্ষিত হয় তাহলে অবশ্যই তার সন্তান মানুষের মত মানুষ হবে, সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

বঙ্গ সংবাদঃ আপনার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কি ছিল এবং সেই অভিজ্ঞতা যদি আমাদেরকে একটু বলতেন

ফেরদৌসী আহমেদ : রাজনীতির ক্ষেত্রে আমি একটু স্বাচ্ছন্দ ভাবেই রাজনীতিটা করতে পেরেছি। যখন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মারা গেলেন তখন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের বাসায় এসেছিলেন একটি ইফতার পার্টিতে অংশগ্রহণ করার জন্য। তখন আমি ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে দেখেছি সময়টি সম্ভবত ১৯৮১ সাল হবে। আমি তখন অনেক ছোট। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পর ম্যাডাম খালেদা জিয়া দলের হাল ধরলেন তখনকার সময়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া উনি ছিলেন আমার প্রিয় মানুষ এবং উনাকে দেখেই আমি রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলাম।

আমি যখন বদরুন্নেসার জিএস ছিলাম ম্যাডাম খালেদা জিয়া আমাদের একে প্রোগ্রামে গিয়েছিলেন। স্টেজে আমি যখন বক্তব্য দিতে গেলাম, তখন আমি বক্তব্যটা ভুলে গিয়েছিলাম। উনি আমাকে বলে বলে দিচ্ছিলেন আমি ওনার থেকে শুনে শুনে বক্তব্য দিয়েছি। উনার সাথে আমার অনেক স্মৃতি আছে।। এই স্মৃতিগুলো আমাকে সবসময় উৎসাহিত করে।

ভাইয়া যখন ছাত্রদলের সেক্রেটারি, খায়ের ভাই তখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ভাইয়া সব সময় বলতেন তুমি যদি রাজনীতিতে আসো তাহলে সবাই বলবে তুমি পিন্টুর বোন। আমি কিন্তু গণতান্ত্রিক ভাবে বদরুন্নেসা কমিটিতে এসেছিল। বদরুন্নেসার বাংলা বিভাগ থেকে দেওয়া হয়েছিল ভিপি আর ইকোনমিক্স বিভাগ থেকে দেওয়া হয়েছিল জি এস। অটোমেটিকলি গ্রাজুয়েশন থেকে আসছি আমি। এই জায়গায় আসলে আমাকে ওইভাবে স্ট্রাগল করতে হয়নি আরকি। এই দিকে আমি লাকি ছিলাম আরকি। আলহামদুলিল্লাহ।

বঙ্গ সংবাদঃ তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ বাড়াতে আপনি কী ধরনের উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা করছেন?

ফেরদৌসী আহমেদ : নারীদের নিরাপত্তা দিতে হবে সবচেয়ে আগে। নারীদের নিরাপত্তা সিওর করতে হবে এবং আরেকটা মেসেজ আমি দেই সবাইকে। দেখো, তৃণমূল থেকে আসলে কখনো ফেইল হবে না, তুমি সফল হবেই । মানে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাটা থাকে না। আমি সেই রুট পর্যায়ে থেকে এসেছি , মানে আমাকে অনেকেই বলে যে তুমি ছাত্র অবস্থা থেকে , মানে সর্ব নিম্ন থেকে সর্বোচ্চ। আলহামদুলিল্লাহ। এই যে একটা জিনিস আমি সবাইকে আমার উদাহরণ দেই। দেখো আমি হারিয়ে যাইনি। আমি গুলি খেয়েছি। আমি মরে যেতে পারতাম, এই করতে পারতাম, সেই করতে পারতাম। কিন্তু মূল্যায়ন কিন্তু দিনশেষে আমার দল আমাকে করেছে। এইটা তো আলহামদুলিল্লাহ এবং তার মানে কি বিএনপি অবশ্যই মূল্যায়ন করে , এই জিনিসটা আমি সবাইকেই বলি। তবে হ্যাঁ, নারীদের একটু স্পেস দিতে হবে, নিরাপত্তা দিতে হবে এবং সংরক্ষিত না সরাসরি আসনের জন্য একটা পার্সেন্টেজ মনোনয়ন দিতে হবে। আমরা যদি মূল্যায়নটা ওইভাবে না পাই, এই সংরক্ষিত আসনে আমাকে দিয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু আমি তো এরপর সাধারণ আসনে যাব। তাই না? । যদি মহিলারা ক্যাপাবল হয় অবশ্যই দেওয়া উচিত আমি মনে করি।

বঙ্গসংবাদঃ আপনি একদম তৃণমূল থেকে যখন রাজনীতিটা আরম্ভ করতে বলছেন তাহলে এটা আপনি কি কলেজ পর্যায় থেকে বলতে চাচ্ছেন না স্কুল পর্যায় থেকেই?

ফেরদৌসী আহমেদ : স্কুল পর্যায় থেকে আমি বলছি না। রাজনীতি তো কলেজ পর্যায় থেকে বলবো আমি । কিন্তু সামাজিকতা তো আপনার অনেক ছোট থেকেই করা যায়। সামাজিকতা আপনার বাসার গৃহপরিচারিকা এর সাথে আপনি দেখেন আপনার বাচ্চার আচরণটা কি করে। তাকে কি তুই বলছে না আপনি বলছে? শিক্ষাটা পরিবার থেকেই হোক। তাহলে কি হবে? একটা মানুষের মেধা ওইখান থেকে সেট আপ হয়ে যায়। যে আমি বাড়ির মুরুব্বী দের সাথে আমার কি ব্যবহার করতে হবে। সে গরিব হোক, ধনী হোক সেটা বড় কথা না। সে আমার মুরুব্বী । এইটাই চিন্তা করতে হবে আসলে আমাদের। আর আমাদের নিরাপত্তাও দিতে হবে এবং আমরা কাজ করব।

বঙ্গ সংবাদঃ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কোন অংশটিকে আপনি নারীর উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন? মানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এই তিনটার মধ্যে কোনটাকে আপনি মানে নারীদের-

ফেরদৌসী আহমেদ : আসলে আপনি যে প্রশ্ন করছেন একটা একটার সাথে জড়িত। একটাকে বাদ দিয়ে আরেকটা পরিপূর্ণতা হবে না। আপনাকে কর্মজীবী হতে হলে প্রথমে আপনাকে শিক্ষিত হতে হবে। শিক্ষিত হলেই আপনি ভালো একটা চাকরি করতে পারবেন। আর চাকরি করতে হলে আপনার স্বাস্থ্য অবশ্যই ভালো রাখতে হবে। তাই আমি মনে করি তিনটাই দরকার।

বঙ্গ সংবাদঃ সংসদে এমন কোন বিল বা নীতিমালা কি আপনি উত্থাপন বা সমর্থন করতে চান যা নারীদের জীবনমান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে?

ফেরদৌসী আহমেদ : শুধুমাত্র নারীদের জন্য নয় সবার জন্যই, আমি একটা জিনিসের উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেই, আমাদের দেশে যে চাঞ্চল্যকর হত্যাগুলা হচ্ছে, ক্রাইম গুলা হচ্ছে, এইগুলোর যাতে শাস্তিটা এমনভাবে হয, আর দশজন যাতে এটা দেখে ভয় পায়। না এই ধরনের অন্যায় অপরাধ করা যাবে না। তাতে কি হবে? অপরাধী যখন শাস্তি পাবে, তখন আমরা নিরাপদ বোধ করব । নিশ্চিত হব যে , আমাকে কেউ কিছু বলার আগে সে দশবার চিন্তা করবে, যে এটার পানিশমেন্ট আছে। এইটা আমি চাই।

বঙ্গ সংবাদঃ বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে তা মোকাবেলায় আপনার সুপারিশ কি থাকবে?

ফেরদৌসী আহমেদ : এটা আমাদের সরকার এর একটা চমৎকার পরিকল্পনা চলতেছে আপনারা জানেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, উনি কিন্তু এইসব নিয়ে কাজ করছেন । আমরা তাকে সহযোগিতা করতেছি । যেমন ধরেন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, প্রবাসী কার্ড। এইগুলা খুব বেশি হেল্প না করলেও কিন্তু মানসিকভাবে অনেকটা স্ট্রং করে দেয় মানুষকে। মানসিক স্ট্রং দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছেন । আমার বাসার পাশের পরিবারের গৃহকর্তী যখন পঁচিশশ টাকা পাবে সে কিন্তু একটা স্ট্রেন্থ নিতে পারবে। বলতে পারবে য্ আমি তো পরিবারে , এই কিছু কন্ট্রিবিউট করতেছি। এই একটা জিনিস কিন্তু চমৎকার করতেছে এবং ইনশাল্লাহ আমরা চাইবো এইরকম আরো, আরো অনেক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য । এইখানে আরেকটা কথা না বললেই নয়। দেখেন মাদককে দূরে রাখার জন্য কিন্তু আমরা খেলাধুলাকে খুবই বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। যেমন আমরা স্টেডিয়াম করতেছি, খেলাধুলার জন্য মাঠের একটা ব্যাপার আছে এবং চতুর্থ শ্রেণী থেকে আমরা খেলাকে একেবারেই বাধ্যতামূলক করে দিচ্ছি। তাতে কি হবে? মানুষ যখন তার ব্রেন কে নানা কাজে ব্যস্ততা রাখবে তখন কিন্তু দুষ্টু কাজ থেকে আমরা সরে আসবো। এবং আগে যেমন আমরা চাইতাম কি আমার ছেলে ডাক্তার হোক, ইঞ্জিনিয়ার হোক, ভালো একটা চাকরি করুক। এখন কিন্তু আমরা সেটা করবো না। বলছি আমার ছেলে প্লেয়ার হোক। কারণ আমরা ইতোমধ্যেই এক লাখ টাকা করে অনুদান বেতন ভাতা দিয়ে দিয়েছি। এটা আস্তে আস্তে বাড়বে। তাহলে আমার মনে হয় এইটাও কিন্তু চমৎকার একটা উদ্যোগ।

বঙ্গ সংবাদঃ আপনার নির্বাচনী ও রাজনৈতিক দর্শনের মূল বার্তা কি? আগামী পাঁচ বছরে আপনার কাজের মাধ্যমে মানুষ কি পরিবর্তন দেখতে পাবে বলে আপনি আশা করেন?

ফেরদৌসী আহমেদ : আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন আমরা সিঙ্গাপুর হতে চাই না। আমরা উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সবাই মিলে আমরা কাজ করবো, দেশটাকে ভালো করে গড়বো এবং দেশের প্রত্যেকটা মানুষ যেন তাদের জীবনমান উন্নত করতে পারে নিরাপদ করতে পারে। এইটুকুই আমার।

বঙ্গ সংবাদঃ বাংলাদেশের নারীদের উদ্দেশ্যে এবং রাজনীতিতে যারা আসতে আগ্রহী এই নতুন প্রজন্মের আপনার বার্তা কি থাকবে?

ফেরদৌসী আহমেদ : প্রথম হচ্ছে নারী কোন অবহেলা, অবহেলিত কিংবা অসম্মানের জিনিস না। নারী হচ্ছে লালন করার জিনিস। নারী হচ্ছে সম্মানের জিনিস। এই সম্মানটা বজায় রাখতে হল, আমাদেরও কিছু উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদেরও আমাদের অবস্থানটা বজায় রাখতে হবে। আমরা এমন কোন কাজ কিংবা এমন কিছু করব না , যাতে আমি নারী শুধু না, নারী জাতি আমরা নিম্ন স্তরে চলে যাই। তাই আমরা আমাদের সম্মানবোধের জন্য , আমরা আমাদের অবস্থান থেকে আমরা দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করব, অবদান রাখব এবং নিজেকে ওইভাবেই প্রমাণ করব যে, আমরা অবশ্যই ভালো।

বঙ্গ সংবাদঃ ধন্যবাদ আপনাকে, বঙ্গ সংবাদ পত্রিকার পাঠকদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলেন?

ফেরদৌসী আহমেদ : আপনাকেও ধন্যবাদ । বঙ্গ সংবাদ পত্রিকার পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, একটি সুন্দর জাতি বিনির্মাণে আমরা সবাই একত্রিতভাবে কাজ করে যাব এবং প্রতিদিন অন্তত একটি ভালো কাজ করার চেষ্টা করব।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

সাক্ষাৎকার

তৃণমূল নেত্রী থেকে হয়েছেন কমিশনার বর্তমানে এমপি: ফেরদৌসী আহমেদ মিস্টি

আপডেট সময় : ০২:১০:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

সম্প্রতি আমাদের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জাতীয় রাজনীতি, সংসদীয় দায়িত্ব, স্থানীয় সরকার, নারীর নেতৃত্ব, জনসেবার অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মির্জা মহিবুল হাসান। সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি পাঠকের জন্য নিম্নে দেওয়া হলঃ

বঙ্গ সংবাদঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে আপনার প্রধান অগ্রাধিকার কী? প্রথম বছরেই কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে চান?

ফেরদৌসী আহমেদঃ আমাদের যারা কর্মজীবী মহিলা আছেন তাদের সন্তানদের নিয়ে আমরা সবসময় চিন্তিত থাকি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া,উনি ডে কেয়ারের যে একটা উদ্যোগ নিয়েছেন ,এটা চমৎকার একটা উদ্যোগ নিয়েছেন।যেখানে শিশুরা নিরাপদ থাকবে, মা’রাও নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারবেন এবং নিজের মান-মর্যাদা বজায় থাকবে। তাই এই বিষয়টা নিয়ে আমি কাজ করছি।

তারপরে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যুব সমাজ। আমাদের যুব সমাজটা মাদক নিয়ে ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছে। প্রত্যেকটা জায়গায় আপনি দেখবেন মাদকের ছড়াছড়ি। কি শহর, কি গ্রাম সব জায়গায় এর যে সহজলভ্যতা, হাত বাড়ালেই আপনি পেয়ে যাচ্ছেন সব ধরনের মাদক। ঢাকা শহরে মাদক এইভাবে পাওয়া যায়, আমার মনে হয় ব্যাংকের ছাতার চেয়েও মাদকের কারবারি বেশি হয়ে গেছে। আমি সুস্থ মানুষ খুঁজে পাই না। আমাদের এখন এমন একটা অবস্থা হয়েছে, যে যেদিকে তাকাই বাচ্চা বাচ্চা ছেলেরা নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে। আমার খুবই কষ্ট লাগে আমি কিছুই করতে পারছি না। প্রশাসনও কিছু করতে পারছে না। এটা এখন আমাদের সময়ের দাবি, সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং পরিবারের সবাইকে নিয়ে এই বিষয়টি খোলাখুলি আলোচনা করতে হবে। এটা আসলে প্রশাসক ও আমাদের নিজেদের ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের সচেতনতার মাধ্যমে পসিবল হবে মাদক নির্মূল। তা না হলে কখনোই সম্ভব হবে না।
আপনারা দেখবেন আমার এই মিরপুর মাজারের সামনে যে রাস্তাটা টা আছে, এখানে টুকরি করে মাদক বিক্রি হয়। আমি নিজেই অবাক হই, আপনি এখনই যান, এখনই দেখবেন টুকরি করে মাদক বিক্রি করছে। মানে আমরা যেমন সবজি, ফল বিক্রি করি ঠিক এইভাবে মাদক বিক্রি করতেছে। সব ধরনের মাদক। আপনি যা চাচ্ছেন তাই। মনে হয় এখানে পুলিশ অনেক বার রেইড দিয়েছিল ।ওরা এমন একটা আতঙ্ক তৈরি করে ঐক্যবদ্ধ ভাবে । পুলিশের গাড়ি একবার পুড়িয়ে দিয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে হাতে- মুখে ব্লেড থাকে, ওরা নিজেরাই নিজেদের আহত করে এবং পুলিশদেরও ব্লেড দিয়ে ভয় দেখায়। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির চেয়েও মিরপুরে মাদকে যুব সমাজ বেশি আক্রান্ত হয়ে গেছে। তারপরে চাঁদাবাজ । যেই করুক চাঁদাবাজি সেটা অটোমেটিকলি দলীয় ভাবে নামটা চলে আসে। দল করলেও নাম আসতেছে, না করলেও নাম চলে আসতেছে। আমার মনে হয় আগের যে স্বৈরাচারী সরকার ছিল তাদের প্রভাব এখনো বিদ্যমান আছে। এবং আমাদের কিছু সুযোগ সন্ধানী লোক যারা খুব নিডি টাইপের এরা হয়তোবা ওদের সাথে সহযোগিতা করে একটা পার্সেন্টেজ ওদের চাঁদাবাজগুলোর হাতে তুলে দিচ্ছে। আমার এটা ধারণ।

বঙ্গ সংবাদঃ সংরক্ষিত আসনে এমপি দের ভূমিকা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা হয়। অর্থাৎ আপনি কিভাবে প্রমাণ করতে চান যে সংরক্ষিত আসনের প্রতিনিধিরাও জনগণের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে?

ফেরদৌসী আহমেদঃ সবচেয়ে প্রথমে একটা কথা বলি,আপনি মনে হয় জানেন যে,সংরক্ষিত আসনের নারী এমপিরা কিন্তু বাংলাদেশের সর্বত্র কাজ করতে পারে। ওভারল বাংলাদেশে, কিন্তু আমার একটা নির্দিষ্ট এলাকা না। আমি পুরা বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় কাজ করতে পারব। বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় আমি রাস্তার সহ যেকোনো প্রয়োজনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে পারব, তার জন্য কোন বাধা নাই। আপনারা জেনে থাকবেন কাজের প্রয়োজনে সংরক্ষিত এমপিদের কে দল থেকে কোন কোন এলাকা নির্দিষ্ট করে দেয়। কারণ আমি আপনি দুইজন একসাথে একই কাজ করতে গেলে একটা কনফ্লিকট হতে পারে। এইজন্য হয়তোবা দল থেকে এটা বলে দেয়। কিন্তু আসলে আমি সমগ্র বাংলাদেশে কাজ করতে পারি।এইদিকে আমি বিস্তর ক্ষমতার অধিকারী।


দ্বিতীয়ত হচ্ছে, কাজ করার সময়ে আমার একটা লিমিট থাকে। যেকোনো কিছু বরাদ্ধের সময় সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে আমার এবং ওই আসনের এমপির মাঝে । কিন্তু আপনি যখন কোন একটা প্রজেক্ট করে নিয়ে যাচ্ছেন তখন কিন্তু এটা পারমিশন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং হচ্ছেও সেই রকম । কিন্তু আমরা এটা চাই না। আপনি জেনে থাকবেন এই সংসদের বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংরক্ষিত আসনের প্রত্যেক এমপি মাঠ পর্যায় থেকে রাজনীতি করে উঠে এসেছে ।

আমি কিন্তু সেই বদরুন্নেছা এ জি এস থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত এসেছি। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যখন আমি লাস্ট টাইম তেজগাঁও জোনের টিম লিডার ছিলাম । তেজগাঁও হচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর এলাকা । সেইখানে কিন্তু আমি ইলেকশন এর আগের দিন মিছিল করেছি এবং ওইখানে আমাকে ছবি নিয়ে খোঁজা হতো। আমরা তো কাজ কোন অংশ কম করিনি। এবং আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি যে, অনেক পুরুষের চেয়ে আমি ভালো কাজ করেছি। আমাকে যার জন্য প্রথমে উত্তরা টিম এর টিম লিডার করা হয়েছিল। আমরা চারজন ছিলাম। তারপর আমাকে তেজগাঁও টিমে নিয়ে এসেছে। এখন বর্তমানে আমি মিরপুর টিম এ টিম লিডার আছি। তো কাজের ক্ষেত্রে কিন্তু আমরা কেউই পিছিয়ে নেই।

বঙ্গ সংবাদঃ আপনাদেরকে সংরক্ষিত এমপি বলা হয়, যেমন প্রত্যেকটা এমপির সংসদীয় আসন নির্ধারণ থাকে, ওই আসনের এমপি কে জবাবদিহি, কৈফিয়ৎ এবং স্কুল, কলেজ , মাদ্রাসা একটা ইস্যু থাকে।

ফেরদৌসী আহমেদঃ আমাদের সুযোগ আছে। আমাদের সুযোগ আছে কিন্তু ওইভাবে না আপনি যেভাবে বলতেছেন। তবে আমার কথা হচ্ছে যে, আমি যদি অনেক পুরুষের চেয়ে বেটার কাজ করি এবং আলহামদুলিল্লাহ আমাকে তো অবশ্যই ইনফ্লুয়েন্স করেছে। আপনারা জানেন যে আমার ভাইটা মারা গিয়েছে। নাসির উদ্দিন পিন্টু এমপি ছিলেন। আমার স্বামী কমিশনার ছিলেন। তাকেও মেরে ফেলা হয়েছে। এবং সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ২০২১ শে জিয়ার মাজারে আমাকে মেরে ফেলার জন্য সন্ত্রাসীরা ছুরি দিয়ে আমার আমার উপর হামলা করে । এতে আমি মারাত্মকভাবে আহত হই এবং আমার শরীরে অনেকগুলি সেলাই দিতে হয় । এই পর্যন্ত আমার শরীরে ছয়টা অপারেশন হয়েছে । তাই আমার কথা হচ্ছে যে ওই সব প্রত্যেকটা দিন আমি যখন ক্রাইসিস মোমেন্ট পার করেছি তখন কিন্তু আমি এমন কোন দিন নেই আমার মনে হয়েছে যে আমি যদি মিছিল টাতে না যাই, আমি যদি প্রোগ্রাম টাতে না যাই তাহলে আমার ছেলেপেলেরা যাবে। ওরা যদি কোন একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে আমার একটা জবাব দিহি থেকে যাবে এবং আমার একটু লজ্জা লাগবে যে আমি না গিয়ে ওদের পাঠালাম। মানে এই দায় টা আমি নিতে চাইনি। এইজন্য আমি নিজেই ফিল্ডে ছিলাম।

সব সময় সক্রিয় ছিলাম দলীয় সমস্ত কর্মসূচিতে । আমি এবং আমাকে কর্মীদের এখানে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন আমাদের দলের সিনিয়র সদস্য মোজাম্মেল হক স্যার। চমৎকার সহযোগিতা করেছেন । আমি তো তেজগাঁও টিম লিডার ওই সময় তেজগাঁওয়ে পালানোর রাস্তাগুলো চিনতাম না। চিপা টিপা চিনতাম না। উনি আমাকে এই সহযোগিতা গুলো করেছেন । শুধু তাই না, যেমন আপনি চিন্তা করেন , আমি যখন গুলি খাই তখন কিন্তু আমি ছিলাম উত্তরা টিম এর টিম লিডার । যখন গুলি খাই তখন উত্তরা টিম এ । মিছিলের সময় আমার চোখের সামনে থেকে দুইজন করে ধরত ছাত্রলীগের ছেলেরা, পিটাত, আমি দেখেছিলাম কিছুই করতে পারছিলাম না, ছাত্রলীগের ছেলেরা ওদেরকে তারপর পুলিশে দিত। মানে এটা আমার নিজের দেখা প্র্যাকটিক্যাল জিনিস বললাম। একদিন না তিনজন আমাকে ধরার জন্য পাকড়াও করছিল প্রোগ্রামে ।

আমার কর্মীরা আমাকে জোর করে ওদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে মোটরসাইকেলে তুলে দিল, মোটরসাইকেলটা এসেছিল আমাদের আরেকজন কর্মীকে নেওয়ার জন্য , আমার এখনও গিল্টি লাগে। ওই মোটরসাইকেলে যার ওঠার কথা ছিল তাকে ইচ্ছা মত পিটাচ্ছে ছাত্রলীগের কর্মীরা তারপর পুলিশ হাতে দিয়ে দিয়েছে। এই যে একটা জিনিস, এই ক্রাইসিস মোমেন্ট টা কিন্তু আমরা পার করে আসছি। এইগুলা কিন্তু আমরা পার করে দিয়ে আসছি এবং অনেক গরিব লোক ছিল আমাদের সাথে, বিশেষ করে হাতিরঝিলের লোকজন। এরা এগারো মাস, বারো মাস ধরে জেল খাটছে। এদের বউ বাচ্চাগুলারে রাত একটা-দেড়টার সময় বের করে দিয়েছে বাসা থেকে । এদের যে কান্না! কঠিন। আমি এগুলা ফিল করি ।

বঙ্গ সংবাদঃ বাংলাদেশের নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন আরও শক্তিশালী করতে বর্তমান ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?

ফেরদৌসী আহমেদঃ নারীদের সবচেয়ে দুর্বল বিষয় হচ্ছে দুইটা জিনিস । এক হচ্ছে পেশীশক্তি, দুই হচ্ছে আর্থিক শক্তি। নারীদের আর্থিক অবস্থা খুব ভালো না, অনেক ক্ষেত্রেই। কারণ ওরা যখন রাজনীতিটা করে, ওদের তখন মেয়েদের নিয়ে চলতে হয় অর্থাৎ নারী নেত্রীদের। মেয়েদের তো যাতায়াতের একটা খরচ থাকে। কিন্তু এরা আসলে এই খরচগুলা সামলাতে হিমশিম খেয়ে যায়। এই একটা জিনিস। আর পেশীশক্তি, পুরুষদের যে একটা শক্তি আছে, এই শক্তিটা নারীদের নাই এবং নারীদের দুই একজনে থাকতেও পারে, থাকতে পারলেও কিন্তু এটা দেখাইতে গেলেই সমাজ নানান কথা বলবে। আমাদের যে দুইটা জিনিস নিয়ে রাজনীতি করতে হয়, একটা হচ্ছে মানসিক চাপ , অন্যটা হচ্ছে ফিজিক্যাল চাপ এবং ফিজিক্যাল চাপ বললাম এই কারণে যে আমরা যখন কিছু একটা করতে যাই কিংবা বলতে যাই তখন অন্যরা মারমুখী হয়। আমাদের গায়ে হাত টা হয়তোবা আর তোলে না, কিন্তু একটা অন্যরকম আলোচনা তৈরি হয়ে যায়। যার জন্য আমাদের অনেক সময় অনেক কিছু ইচ্ছা করলেও পারি না।

বঙ্গ সংবাদঃ এখানে আসলে শিক্ষার একটা যে বিষয়, আমি ওইটাই বোঝাতে চাচ্ছিলাম। যে রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন শুধু যে আপনি দুইটা জিনিসকে-

ফেরদৌসী আহমেদঃ অবশ্যই, শিক্ষাটা একটা গুরুত্ব আছেই এখানে। আপনারা দেখবেন বর্তমানে আমাদের যে পার্লামেন্টে আছে মহিলা সাংসদ, সবাই গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন । শিক্ষার ক্ষেত্রে কিন্তু নারী অনেক এগিয়ে গেছে। এটা আমি অবশ্যই কৃতিত্ব বেশি দিবো হচ্ছে বিএনপি সরকারকে। বিএনপি সরকার যখনই আসছে নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক কিছু করে গেছেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন বুঝলেন যে নারীদের অর্ধেক ঘরে রেখে আর অর্ধেক পুরুষ দিয়ে দেশ উন্নয়ন করা যাবে না। তখন খাল কাটা থেকে শুরু করে এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয় উনি করে করে গিয়েছেন । তারপরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া তিন তিনবার প্রধানমন্ত্রী উনি যখন দেখলেন যে নারীরা যদি শিক্ষিত না হয় তাহলে দেশ উন্নয়ন সম্ভব নয় তখন তিনি প্রথমে অষ্টম শ্রেণী, তারপর এসএসসি পর্যন্ত পড়া বিনামূল্যে করে দিলেন মেয়েদের জন্য । অনেকেই টাকার জন্য পড়তে পারে না। উনি এইটা করে দিলেন এবং বর্তমান সরকার আমাদের প্রাইম মিনিস্টার তারেক রহমান গ্র্যাজুয়েশন পর্যন্ত অবৈতনিক করে দিয়েছেন মেয়েদের জন্য । এইটা তো মেয়েদের পড়ার একটা বিশাল ব্যাপার। আর আপনারা চিন্তা করেন একটা মেয়ে যদি শিক্ষিত হয় তার পরিবারটা টা কিন্তু পুরোপুরি শিক্ষিত হয়ে যায়। সেটা সত্যি কথা। কারণ একজন শিক্ষক তো বই খাতা দিয়ে পড়ায়। কিন্তু আপনার পড়া লেখাটা কিন্তু শুধু বই খাতার মধ্যে না। নৈতিক শিক্ষাটা আমাদের বেশি প্রয়োজন। সামাজিক শিক্ষাটা আমাদের প্রয়োজন। আপনার একজনের সাথে কিরকম বিহেভিয়ার করবেন এটা জানা দরকার। আমার বাচ্চা আজকে মানে অন্যভাবে বড় হলো, সে মানুষকে মানুষ মনে করতেছে না, যার তার সাথে বেয়াদবি করতেছে। এইগুলা তো আপনি বই খাতাতে পাবেন না। এটা পরিবার থেকে শিখতে হবে, সমাজ থেকে শিখতে হবে। একটি পরিবারে মা যদি শিক্ষিত হয় তাহলে অবশ্যই তার সন্তান মানুষের মত মানুষ হবে, সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

বঙ্গ সংবাদঃ আপনার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কি ছিল এবং সেই অভিজ্ঞতা যদি আমাদেরকে একটু বলতেন

ফেরদৌসী আহমেদ : রাজনীতির ক্ষেত্রে আমি একটু স্বাচ্ছন্দ ভাবেই রাজনীতিটা করতে পেরেছি। যখন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মারা গেলেন তখন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের বাসায় এসেছিলেন একটি ইফতার পার্টিতে অংশগ্রহণ করার জন্য। তখন আমি ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে দেখেছি সময়টি সম্ভবত ১৯৮১ সাল হবে। আমি তখন অনেক ছোট। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পর ম্যাডাম খালেদা জিয়া দলের হাল ধরলেন তখনকার সময়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া উনি ছিলেন আমার প্রিয় মানুষ এবং উনাকে দেখেই আমি রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলাম।

আমি যখন বদরুন্নেসার জিএস ছিলাম ম্যাডাম খালেদা জিয়া আমাদের একে প্রোগ্রামে গিয়েছিলেন। স্টেজে আমি যখন বক্তব্য দিতে গেলাম, তখন আমি বক্তব্যটা ভুলে গিয়েছিলাম। উনি আমাকে বলে বলে দিচ্ছিলেন আমি ওনার থেকে শুনে শুনে বক্তব্য দিয়েছি। উনার সাথে আমার অনেক স্মৃতি আছে।। এই স্মৃতিগুলো আমাকে সবসময় উৎসাহিত করে।

ভাইয়া যখন ছাত্রদলের সেক্রেটারি, খায়ের ভাই তখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ভাইয়া সব সময় বলতেন তুমি যদি রাজনীতিতে আসো তাহলে সবাই বলবে তুমি পিন্টুর বোন। আমি কিন্তু গণতান্ত্রিক ভাবে বদরুন্নেসা কমিটিতে এসেছিল। বদরুন্নেসার বাংলা বিভাগ থেকে দেওয়া হয়েছিল ভিপি আর ইকোনমিক্স বিভাগ থেকে দেওয়া হয়েছিল জি এস। অটোমেটিকলি গ্রাজুয়েশন থেকে আসছি আমি। এই জায়গায় আসলে আমাকে ওইভাবে স্ট্রাগল করতে হয়নি আরকি। এই দিকে আমি লাকি ছিলাম আরকি। আলহামদুলিল্লাহ।

বঙ্গ সংবাদঃ তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ বাড়াতে আপনি কী ধরনের উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা করছেন?

ফেরদৌসী আহমেদ : নারীদের নিরাপত্তা দিতে হবে সবচেয়ে আগে। নারীদের নিরাপত্তা সিওর করতে হবে এবং আরেকটা মেসেজ আমি দেই সবাইকে। দেখো, তৃণমূল থেকে আসলে কখনো ফেইল হবে না, তুমি সফল হবেই । মানে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাটা থাকে না। আমি সেই রুট পর্যায়ে থেকে এসেছি , মানে আমাকে অনেকেই বলে যে তুমি ছাত্র অবস্থা থেকে , মানে সর্ব নিম্ন থেকে সর্বোচ্চ। আলহামদুলিল্লাহ। এই যে একটা জিনিস আমি সবাইকে আমার উদাহরণ দেই। দেখো আমি হারিয়ে যাইনি। আমি গুলি খেয়েছি। আমি মরে যেতে পারতাম, এই করতে পারতাম, সেই করতে পারতাম। কিন্তু মূল্যায়ন কিন্তু দিনশেষে আমার দল আমাকে করেছে। এইটা তো আলহামদুলিল্লাহ এবং তার মানে কি বিএনপি অবশ্যই মূল্যায়ন করে , এই জিনিসটা আমি সবাইকেই বলি। তবে হ্যাঁ, নারীদের একটু স্পেস দিতে হবে, নিরাপত্তা দিতে হবে এবং সংরক্ষিত না সরাসরি আসনের জন্য একটা পার্সেন্টেজ মনোনয়ন দিতে হবে। আমরা যদি মূল্যায়নটা ওইভাবে না পাই, এই সংরক্ষিত আসনে আমাকে দিয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু আমি তো এরপর সাধারণ আসনে যাব। তাই না? । যদি মহিলারা ক্যাপাবল হয় অবশ্যই দেওয়া উচিত আমি মনে করি।

বঙ্গসংবাদঃ আপনি একদম তৃণমূল থেকে যখন রাজনীতিটা আরম্ভ করতে বলছেন তাহলে এটা আপনি কি কলেজ পর্যায় থেকে বলতে চাচ্ছেন না স্কুল পর্যায় থেকেই?

ফেরদৌসী আহমেদ : স্কুল পর্যায় থেকে আমি বলছি না। রাজনীতি তো কলেজ পর্যায় থেকে বলবো আমি । কিন্তু সামাজিকতা তো আপনার অনেক ছোট থেকেই করা যায়। সামাজিকতা আপনার বাসার গৃহপরিচারিকা এর সাথে আপনি দেখেন আপনার বাচ্চার আচরণটা কি করে। তাকে কি তুই বলছে না আপনি বলছে? শিক্ষাটা পরিবার থেকেই হোক। তাহলে কি হবে? একটা মানুষের মেধা ওইখান থেকে সেট আপ হয়ে যায়। যে আমি বাড়ির মুরুব্বী দের সাথে আমার কি ব্যবহার করতে হবে। সে গরিব হোক, ধনী হোক সেটা বড় কথা না। সে আমার মুরুব্বী । এইটাই চিন্তা করতে হবে আসলে আমাদের। আর আমাদের নিরাপত্তাও দিতে হবে এবং আমরা কাজ করব।

বঙ্গ সংবাদঃ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কোন অংশটিকে আপনি নারীর উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন? মানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এই তিনটার মধ্যে কোনটাকে আপনি মানে নারীদের-

ফেরদৌসী আহমেদ : আসলে আপনি যে প্রশ্ন করছেন একটা একটার সাথে জড়িত। একটাকে বাদ দিয়ে আরেকটা পরিপূর্ণতা হবে না। আপনাকে কর্মজীবী হতে হলে প্রথমে আপনাকে শিক্ষিত হতে হবে। শিক্ষিত হলেই আপনি ভালো একটা চাকরি করতে পারবেন। আর চাকরি করতে হলে আপনার স্বাস্থ্য অবশ্যই ভালো রাখতে হবে। তাই আমি মনে করি তিনটাই দরকার।

বঙ্গ সংবাদঃ সংসদে এমন কোন বিল বা নীতিমালা কি আপনি উত্থাপন বা সমর্থন করতে চান যা নারীদের জীবনমান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে?

ফেরদৌসী আহমেদ : শুধুমাত্র নারীদের জন্য নয় সবার জন্যই, আমি একটা জিনিসের উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেই, আমাদের দেশে যে চাঞ্চল্যকর হত্যাগুলা হচ্ছে, ক্রাইম গুলা হচ্ছে, এইগুলোর যাতে শাস্তিটা এমনভাবে হয, আর দশজন যাতে এটা দেখে ভয় পায়। না এই ধরনের অন্যায় অপরাধ করা যাবে না। তাতে কি হবে? অপরাধী যখন শাস্তি পাবে, তখন আমরা নিরাপদ বোধ করব । নিশ্চিত হব যে , আমাকে কেউ কিছু বলার আগে সে দশবার চিন্তা করবে, যে এটার পানিশমেন্ট আছে। এইটা আমি চাই।

বঙ্গ সংবাদঃ বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে তা মোকাবেলায় আপনার সুপারিশ কি থাকবে?

ফেরদৌসী আহমেদ : এটা আমাদের সরকার এর একটা চমৎকার পরিকল্পনা চলতেছে আপনারা জানেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, উনি কিন্তু এইসব নিয়ে কাজ করছেন । আমরা তাকে সহযোগিতা করতেছি । যেমন ধরেন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, প্রবাসী কার্ড। এইগুলা খুব বেশি হেল্প না করলেও কিন্তু মানসিকভাবে অনেকটা স্ট্রং করে দেয় মানুষকে। মানসিক স্ট্রং দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছেন । আমার বাসার পাশের পরিবারের গৃহকর্তী যখন পঁচিশশ টাকা পাবে সে কিন্তু একটা স্ট্রেন্থ নিতে পারবে। বলতে পারবে য্ আমি তো পরিবারে , এই কিছু কন্ট্রিবিউট করতেছি। এই একটা জিনিস কিন্তু চমৎকার করতেছে এবং ইনশাল্লাহ আমরা চাইবো এইরকম আরো, আরো অনেক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য । এইখানে আরেকটা কথা না বললেই নয়। দেখেন মাদককে দূরে রাখার জন্য কিন্তু আমরা খেলাধুলাকে খুবই বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। যেমন আমরা স্টেডিয়াম করতেছি, খেলাধুলার জন্য মাঠের একটা ব্যাপার আছে এবং চতুর্থ শ্রেণী থেকে আমরা খেলাকে একেবারেই বাধ্যতামূলক করে দিচ্ছি। তাতে কি হবে? মানুষ যখন তার ব্রেন কে নানা কাজে ব্যস্ততা রাখবে তখন কিন্তু দুষ্টু কাজ থেকে আমরা সরে আসবো। এবং আগে যেমন আমরা চাইতাম কি আমার ছেলে ডাক্তার হোক, ইঞ্জিনিয়ার হোক, ভালো একটা চাকরি করুক। এখন কিন্তু আমরা সেটা করবো না। বলছি আমার ছেলে প্লেয়ার হোক। কারণ আমরা ইতোমধ্যেই এক লাখ টাকা করে অনুদান বেতন ভাতা দিয়ে দিয়েছি। এটা আস্তে আস্তে বাড়বে। তাহলে আমার মনে হয় এইটাও কিন্তু চমৎকার একটা উদ্যোগ।

বঙ্গ সংবাদঃ আপনার নির্বাচনী ও রাজনৈতিক দর্শনের মূল বার্তা কি? আগামী পাঁচ বছরে আপনার কাজের মাধ্যমে মানুষ কি পরিবর্তন দেখতে পাবে বলে আপনি আশা করেন?

ফেরদৌসী আহমেদ : আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন আমরা সিঙ্গাপুর হতে চাই না। আমরা উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সবাই মিলে আমরা কাজ করবো, দেশটাকে ভালো করে গড়বো এবং দেশের প্রত্যেকটা মানুষ যেন তাদের জীবনমান উন্নত করতে পারে নিরাপদ করতে পারে। এইটুকুই আমার।

বঙ্গ সংবাদঃ বাংলাদেশের নারীদের উদ্দেশ্যে এবং রাজনীতিতে যারা আসতে আগ্রহী এই নতুন প্রজন্মের আপনার বার্তা কি থাকবে?

ফেরদৌসী আহমেদ : প্রথম হচ্ছে নারী কোন অবহেলা, অবহেলিত কিংবা অসম্মানের জিনিস না। নারী হচ্ছে লালন করার জিনিস। নারী হচ্ছে সম্মানের জিনিস। এই সম্মানটা বজায় রাখতে হল, আমাদেরও কিছু উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদেরও আমাদের অবস্থানটা বজায় রাখতে হবে। আমরা এমন কোন কাজ কিংবা এমন কিছু করব না , যাতে আমি নারী শুধু না, নারী জাতি আমরা নিম্ন স্তরে চলে যাই। তাই আমরা আমাদের সম্মানবোধের জন্য , আমরা আমাদের অবস্থান থেকে আমরা দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করব, অবদান রাখব এবং নিজেকে ওইভাবেই প্রমাণ করব যে, আমরা অবশ্যই ভালো।

বঙ্গ সংবাদঃ ধন্যবাদ আপনাকে, বঙ্গ সংবাদ পত্রিকার পাঠকদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলেন?

ফেরদৌসী আহমেদ : আপনাকেও ধন্যবাদ । বঙ্গ সংবাদ পত্রিকার পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, একটি সুন্দর জাতি বিনির্মাণে আমরা সবাই একত্রিতভাবে কাজ করে যাব এবং প্রতিদিন অন্তত একটি ভালো কাজ করার চেষ্টা করব।