ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় খোলপেটুয়া নদীতে চলছে চর দখল ভরাট ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের প্রতিযোগিতা।


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৩:২০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২০৮০ বার পড়া হয়েছে

স্থানীয় প্রশাসনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উপজেলার ১১ নং পদ্মপুকুর ইউনিয়নের গড়কুমারপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে নদীর চর দখল ভরাট ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মতো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে একাধিক প্রভাবশালী মহল।

জানা গেছে, ভূমি অফিসের নাকের ডগায় বসেই নদীর চরে অবৈধ দখল, ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের মতো কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও তা কার্যত অগ্রাহ্য করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে পদ্মপুকুর ভূমি অফিসে মুঠোফোন কল করলে ভূমি অফিস কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন জানান আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদেরকে একাধিকবার নিষেধ করেছি কিন্তু তারা আমার নিষেধ অমান্য করে সেখানে কাজ অব্যাহত রেখেছে এবং তারা বলেছে একটা পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আসছি।
ভূমি অফিস কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন আরো বলেন যেহেতু এটা পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা সেজন্য আমি কোন অ্যাকশন নিতে পারি না।
এ ব্যাপারে আরো জানতে শ্যামনগর পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে মুঠোফোনে কল করলে, কর্মকর্তা জানান পদ্মপুকুর ইউনিয়ন আমাদের শ্যামনগর উপজেলার আন্ডারে হলেও, ওখানকার দেখভাল করেন আশাশুনি ডিভিশন।

এ ব্যাপারে আরো জানতে আশাশুনি পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে বারবার মুঠোফোনে কল করলেও কোন সাড়া পাওয়া যায় নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই দখল প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছেন গড়কুমারপুর বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং জামায়াতের প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুল গফফার, ও অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিগন । এই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে জানতে দৈনিক বঙ্গ সংবাদের স্থানীয় প্রতিনিধি আব্দুল গফফারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে, তিনি দৈনিক বঙ্গ সংবাদের প্রতিনিধিকে জানান তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস থেকে একটি কাগজ করে নিয়েছে, এবং সাতক্ষীরা ৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য
গাজী নজরুল ইসলাম, এবং শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রহমান, এবং পদ্মপুকুর ইউনিয়ন জামায়াতের বিভিন্ন নেতাকর্মী তাকে নদীর চরে স্থাপনা নির্মাণ করতে বলেছেন।
দৈনিক বঙ্গ সংবাদের প্রতিনিধি আব্দুল গফফারের কাছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাগজ দেখতে চাইলে তিনি দেখাতেও অস্বীকৃতি জানান।
শ্যামনগর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে কাগজের ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা বলেন আমরা স্থাপনা নির্মাণের জন্য কোন কাগজপত্র দেইনি।

দৈনিক বঙ্গ সংবাদের স্থানীয় প্রতিনিধি আব্দুল গফফার সম্পর্কে আরো জানতে স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছে খোঁজ খবর নিলে এলাকাবাসী জানান আব্দুল গফফার জামায়াতের রাজনীতির সাথে সক্রিয়।
এলাকাবাসী আরো বলেন তারা এই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে বলতে গেলে আব্দুল গফফার তাদেরকে স্থানীয় রাজনীতির প্রভাব দেখিয়ে, এবং ভয় ভীতি দেখিয়ে তাদের মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করে।

এদিকে, গড়কুমারপুর বাজার সংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীর তীরে অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও পিছিয়ে নেই। কে আগে দখল করে স্থাপনা গড়ে তুলতে পারেন—এ নিয়ে চলছে নীরব প্রতিযোগিতা। কেউ নদীর বাঁধে, আবার কেউ নদীর জেগে ওঠা চরে গড়ে তুলছেন দোকানপাট ও পাকা স্থাপনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চললেও সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস ও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। ফলে দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে খোলপেটুয়া নদী স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তাই নদী রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় খোলপেটুয়া নদীতে চলছে চর দখল ভরাট ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের প্রতিযোগিতা।

আপডেট সময় : ০৩:২০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

স্থানীয় প্রশাসনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উপজেলার ১১ নং পদ্মপুকুর ইউনিয়নের গড়কুমারপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে নদীর চর দখল ভরাট ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মতো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে একাধিক প্রভাবশালী মহল।

জানা গেছে, ভূমি অফিসের নাকের ডগায় বসেই নদীর চরে অবৈধ দখল, ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের মতো কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও তা কার্যত অগ্রাহ্য করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে পদ্মপুকুর ভূমি অফিসে মুঠোফোন কল করলে ভূমি অফিস কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন জানান আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদেরকে একাধিকবার নিষেধ করেছি কিন্তু তারা আমার নিষেধ অমান্য করে সেখানে কাজ অব্যাহত রেখেছে এবং তারা বলেছে একটা পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আসছি।
ভূমি অফিস কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন আরো বলেন যেহেতু এটা পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা সেজন্য আমি কোন অ্যাকশন নিতে পারি না।
এ ব্যাপারে আরো জানতে শ্যামনগর পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে মুঠোফোনে কল করলে, কর্মকর্তা জানান পদ্মপুকুর ইউনিয়ন আমাদের শ্যামনগর উপজেলার আন্ডারে হলেও, ওখানকার দেখভাল করেন আশাশুনি ডিভিশন।

এ ব্যাপারে আরো জানতে আশাশুনি পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে বারবার মুঠোফোনে কল করলেও কোন সাড়া পাওয়া যায় নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই দখল প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছেন গড়কুমারপুর বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং জামায়াতের প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুল গফফার, ও অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিগন । এই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে জানতে দৈনিক বঙ্গ সংবাদের স্থানীয় প্রতিনিধি আব্দুল গফফারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে, তিনি দৈনিক বঙ্গ সংবাদের প্রতিনিধিকে জানান তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস থেকে একটি কাগজ করে নিয়েছে, এবং সাতক্ষীরা ৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য
গাজী নজরুল ইসলাম, এবং শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রহমান, এবং পদ্মপুকুর ইউনিয়ন জামায়াতের বিভিন্ন নেতাকর্মী তাকে নদীর চরে স্থাপনা নির্মাণ করতে বলেছেন।
দৈনিক বঙ্গ সংবাদের প্রতিনিধি আব্দুল গফফারের কাছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাগজ দেখতে চাইলে তিনি দেখাতেও অস্বীকৃতি জানান।
শ্যামনগর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে কাগজের ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা বলেন আমরা স্থাপনা নির্মাণের জন্য কোন কাগজপত্র দেইনি।

দৈনিক বঙ্গ সংবাদের স্থানীয় প্রতিনিধি আব্দুল গফফার সম্পর্কে আরো জানতে স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছে খোঁজ খবর নিলে এলাকাবাসী জানান আব্দুল গফফার জামায়াতের রাজনীতির সাথে সক্রিয়।
এলাকাবাসী আরো বলেন তারা এই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে বলতে গেলে আব্দুল গফফার তাদেরকে স্থানীয় রাজনীতির প্রভাব দেখিয়ে, এবং ভয় ভীতি দেখিয়ে তাদের মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করে।

এদিকে, গড়কুমারপুর বাজার সংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীর তীরে অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও পিছিয়ে নেই। কে আগে দখল করে স্থাপনা গড়ে তুলতে পারেন—এ নিয়ে চলছে নীরব প্রতিযোগিতা। কেউ নদীর বাঁধে, আবার কেউ নদীর জেগে ওঠা চরে গড়ে তুলছেন দোকানপাট ও পাকা স্থাপনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চললেও সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস ও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। ফলে দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে খোলপেটুয়া নদী স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তাই নদী রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা