ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

১১ শিক্ষক-স্টাফ মিলে ৩ শিক্ষার্থীও পাস করাতে পারেনি, শতভাগ ফেল


নিয়াম শেখ গাইবান্ধা
  • আপডেট সময় : ০৮:০৭:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২০৭১ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। ফলে বিদ্যালয়টিতে এবার শতভাগ ফেল করেছে।

বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ মোট ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী সরকারি নিয়মে বেতন-ভাতা পান। এর মধ্যে ১১ জন শিক্ষক ও পাঁচজন স্টাফ রয়েছেন। অথচ চলতি বছর বিদ্যালয়টির মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। ২০২৫ সালে নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার অনুমতি পায় প্রতিষ্ঠানটি। ওই বছর ছয়জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছিল। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে।

এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থীই মানবিক বিভাগের। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বিশেষ করে তিনজনই গণিতে ফেল করেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়টিতে শতভাগ ফেল করার বিষয়টি সামনে আসে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন মুঠোফোনে বলেন, এর আগে বিদ্যালয়টির ফলাফল কখনো এমন বিপর্যয় হয়নি। তিন শিক্ষার্থীই গণিতে ফেল করেছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি গণিত শিক্ষক ফারুক খালেকের দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন। বর্তমানে ওই শিক্ষক একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার উত্তর দামোদরপুর কাজীপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকেও এবার পাঁচজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি।

দুটি বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করার বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, কী কারণে বিদ্যালয় দুটির কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তা জানতে প্রধান শিক্ষকদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয় দুটি পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘‘এমপিওভুক্ত কোনো বিদ্যালয় থেকে এমন ফলাফল প্রত্যাশিত নয়।’’

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

১১ শিক্ষক-স্টাফ মিলে ৩ শিক্ষার্থীও পাস করাতে পারেনি, শতভাগ ফেল

আপডেট সময় : ০৮:০৭:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। ফলে বিদ্যালয়টিতে এবার শতভাগ ফেল করেছে।

বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ মোট ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী সরকারি নিয়মে বেতন-ভাতা পান। এর মধ্যে ১১ জন শিক্ষক ও পাঁচজন স্টাফ রয়েছেন। অথচ চলতি বছর বিদ্যালয়টির মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। ২০২৫ সালে নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার অনুমতি পায় প্রতিষ্ঠানটি। ওই বছর ছয়জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছিল। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে।

এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থীই মানবিক বিভাগের। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বিশেষ করে তিনজনই গণিতে ফেল করেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়টিতে শতভাগ ফেল করার বিষয়টি সামনে আসে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন মুঠোফোনে বলেন, এর আগে বিদ্যালয়টির ফলাফল কখনো এমন বিপর্যয় হয়নি। তিন শিক্ষার্থীই গণিতে ফেল করেছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি গণিত শিক্ষক ফারুক খালেকের দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন। বর্তমানে ওই শিক্ষক একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার উত্তর দামোদরপুর কাজীপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকেও এবার পাঁচজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি।

দুটি বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করার বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, কী কারণে বিদ্যালয় দুটির কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তা জানতে প্রধান শিক্ষকদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয় দুটি পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘‘এমপিওভুক্ত কোনো বিদ্যালয় থেকে এমন ফলাফল প্রত্যাশিত নয়।’’