ঢাকা ০৫:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

ফেনীতে ২৬ দলিল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন


বিশেষ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৮:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২০৭৬ বার পড়া হয়েছে

ফেনী সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনে অনিয়ম, জমির শ্রেণি পরিবর্তন, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি ও অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগে দলিল লেখক মো. শহিদ উল্লাহ খোকন ও তার ছেলে শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একাধিক সেবাগ্রহীতার লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান মুহাম্মদ তামিম এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

 

জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৬ আগস্ট পরশুরাম সাব-রেজিস্ট্রার প্রবাল কৃষ্ণ সাহাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তদন্ত-সংক্রান্ত নথি সূত্রে জানা যায়, ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের চর মধুয়াই গ্রামের বাসিন্দা দলিল লেখক মো. শহিদ উল্লাহ খোকন (লাইসেন্স নম্বর ৬৩/০৭) ও তার ছেলে শাহাদাত হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ফেনী সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ভূমি সংক্রান্ত দলিল লেখার কাজ করে আসছেন।

 

গত ২০ জুলাই সেবাগ্রহীতা জাহিদুল আলম নামে এক ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট একটি দলিল নিবন্ধনের জন্য তিনি দলিল লেখক খোকনের কাছে যান। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখার পর সরকারি পে-অর্ডারের বাইরে তার কাছে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

জাহিদুল আলমের দাবি, বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি অন্য দলিল লেখকের কাছে গিয়ে খরচের বিষয়ে যাচাই করেন। পরে তিনি অন্য একজন দলিল লেখকের মাধ্যমে জমিটি নিবন্ধন করেন। তবে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

এ ছাড়া মোহাম্মদ হায়দার আলী শাহরিয়ার নামে আরেক সেবাগ্রহীতা জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি বেশ কয়েকটি দলিলের নম্বর উল্লেখ করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি এবং দলিল নিবন্ধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের সম্পদের উৎসও খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেন তিনি।

 

জেলা রেজিস্ট্রারের তদন্ত-আদেশে বলা হয়, অভিযোগে উল্লেখ করা ফেনী সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ২০১৮ সালের দলিল নম্বর ৫৪৮৯, ৫১৭৬, ৬৩৫১ ও ৬৯৪৮; ২০১৯ সালের ১০২, ২৮৩, ৩৬০, ১২৩১, ৩১৬৭ ও ৩১৬২; ২০২০ সালের ৩৬৭৬, ৫৫৪২ ও ৬১২৩; ২০২১ সালের ৭৩৬, ৭৫৮, ৯৩৭, ১১৬৬, ১৬৭৬, ২২৬৫, ২৩৯৬, ২৬০৬, ২৮৫৮, ৩২৪৪, ৩৭৪১, ৩৯১২ ও ৪০৯৫ নম্বর দলিলসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করতে হবে।

 

তদন্ত কমিটিকে সংশ্লিষ্ট দলিলের সহিমুহুরি নকল, খাজনা দাখিলা এবং ওই সময়ে ব্যবহৃত এসএ ও বিএস পর্চা পর্যালোচনা করে দলিলগুলোতে উল্লেখিত জমির শ্রেণির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি রাজস্ব আদায় হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন বলেন, তাদের বিরুদ্ধে কে, কখন এবং কী অভিযোগ করেছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এখন পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা তার কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাননি এবং তিনি কোনো নোটিশও পাননি বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, দলিল লেখক সমিতির নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ফি নেওয়া হয়। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই এবং তিনি কোনো জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত নন।

 

অভিযোগ অস্বীকার করে দলিল লেখক মো. শহিদ উল্লাহ খোকন বলেন, সম্প্রতি জেলা রেজিস্ট্রারের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়েছে। এ কারণে তিনি তার ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে এসব করছেন বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, প্রায় ৩৬ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে দলিল লেখার কাজ করছেন এবং এর আগে তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ওঠেনি।

 

ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান মুহাম্মদ তামিম বলেন, দুই সেবাগ্রহীতার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তদন্তে অনিয়ম বা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

ফেনীতে ২৬ দলিল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট সময় : ০৪:৩৮:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

ফেনী সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনে অনিয়ম, জমির শ্রেণি পরিবর্তন, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি ও অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগে দলিল লেখক মো. শহিদ উল্লাহ খোকন ও তার ছেলে শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একাধিক সেবাগ্রহীতার লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান মুহাম্মদ তামিম এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

 

জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৬ আগস্ট পরশুরাম সাব-রেজিস্ট্রার প্রবাল কৃষ্ণ সাহাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তদন্ত-সংক্রান্ত নথি সূত্রে জানা যায়, ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের চর মধুয়াই গ্রামের বাসিন্দা দলিল লেখক মো. শহিদ উল্লাহ খোকন (লাইসেন্স নম্বর ৬৩/০৭) ও তার ছেলে শাহাদাত হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ফেনী সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ভূমি সংক্রান্ত দলিল লেখার কাজ করে আসছেন।

 

গত ২০ জুলাই সেবাগ্রহীতা জাহিদুল আলম নামে এক ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট একটি দলিল নিবন্ধনের জন্য তিনি দলিল লেখক খোকনের কাছে যান। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখার পর সরকারি পে-অর্ডারের বাইরে তার কাছে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

জাহিদুল আলমের দাবি, বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি অন্য দলিল লেখকের কাছে গিয়ে খরচের বিষয়ে যাচাই করেন। পরে তিনি অন্য একজন দলিল লেখকের মাধ্যমে জমিটি নিবন্ধন করেন। তবে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

এ ছাড়া মোহাম্মদ হায়দার আলী শাহরিয়ার নামে আরেক সেবাগ্রহীতা জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি বেশ কয়েকটি দলিলের নম্বর উল্লেখ করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি এবং দলিল নিবন্ধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের সম্পদের উৎসও খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেন তিনি।

 

জেলা রেজিস্ট্রারের তদন্ত-আদেশে বলা হয়, অভিযোগে উল্লেখ করা ফেনী সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ২০১৮ সালের দলিল নম্বর ৫৪৮৯, ৫১৭৬, ৬৩৫১ ও ৬৯৪৮; ২০১৯ সালের ১০২, ২৮৩, ৩৬০, ১২৩১, ৩১৬৭ ও ৩১৬২; ২০২০ সালের ৩৬৭৬, ৫৫৪২ ও ৬১২৩; ২০২১ সালের ৭৩৬, ৭৫৮, ৯৩৭, ১১৬৬, ১৬৭৬, ২২৬৫, ২৩৯৬, ২৬০৬, ২৮৫৮, ৩২৪৪, ৩৭৪১, ৩৯১২ ও ৪০৯৫ নম্বর দলিলসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করতে হবে।

 

তদন্ত কমিটিকে সংশ্লিষ্ট দলিলের সহিমুহুরি নকল, খাজনা দাখিলা এবং ওই সময়ে ব্যবহৃত এসএ ও বিএস পর্চা পর্যালোচনা করে দলিলগুলোতে উল্লেখিত জমির শ্রেণির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি রাজস্ব আদায় হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন বলেন, তাদের বিরুদ্ধে কে, কখন এবং কী অভিযোগ করেছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এখন পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা তার কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাননি এবং তিনি কোনো নোটিশও পাননি বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, দলিল লেখক সমিতির নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ফি নেওয়া হয়। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই এবং তিনি কোনো জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত নন।

 

অভিযোগ অস্বীকার করে দলিল লেখক মো. শহিদ উল্লাহ খোকন বলেন, সম্প্রতি জেলা রেজিস্ট্রারের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়েছে। এ কারণে তিনি তার ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে এসব করছেন বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, প্রায় ৩৬ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে দলিল লেখার কাজ করছেন এবং এর আগে তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ওঠেনি।

 

ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান মুহাম্মদ তামিম বলেন, দুই সেবাগ্রহীতার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তদন্তে অনিয়ম বা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।