ঢাকা ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

১০ কোটি টাকার কসাইখানা, কীভাবে চালাবে জানে না পৌরসভা

নড়াইলের মাংস ব্যবসায়ীদের দাবি, কসাইখানায় পশু জবাই করলে সময় ও খরচ দুটোই বেশি হবে।


নড়াইল প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২০৬৯ বার পড়া হয়েছে

নড়াইল শহরে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কসাইখানা পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হলেও এটি কীভাবে চালু ও পরিচালনা করা হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শহরের মহিষখোলা মৌজায় ৫০ শতক জমির ওপর নির্মিত কসাইখানাটিতে প্রতি ঘণ্টায় আট থেকে ১০টি গরু এবং ১৫ থেকে ২০টি ছাগল বা ভেড়া জবাই ও মাংস প্রস্তুত করা যাবে বলে জানিয়েছেন নড়াইল পৌরসভার প্রশাসক মো. নাজমুল হুদা।

তিনি বলেন, “আধুনিক কসাইখানা পৌর কর্তৃপক্ষ বুঝে নিয়েছে। এটি কীভাবে পরিচালনা করতে হবে, সেটি আমরা নিশ্চিত নই। সরকারি নির্দেশনা পেলে সেভাবেই পরিচালনা করা হবে।”

নড়াইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রাশেদুল হক বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০২৪ সালে কসাইখানাটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর চলতি বছর কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

২৪ জুন কসাইখানাটি নড়াইল পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

রাশেদুল হক বলেন, যত্রতত্র পশু জবাই বন্ধ, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং পৌরবাসীকে স্বাস্থ্যসম্মত মাংস সরবরাহের জন্য কসাইখানাটি নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “লোকবল নিয়োগ না হওয়ায় এখনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। পৌরসভা জনবল নিয়োগ দিলে তাদের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।”

নিয়ম অনুযায়ী তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কসাইখানাটি পরিচালনা করতে হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

কসাইখানাটি চালু হলে পশু জবাইয়ের আগে প্রাণিসম্পদ চিকিৎসক দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উপযুক্ত হলে পশু জবাই করা হবে এবং মাংসে পৌরসভার সিল দেওয়া হবে।

তবে কসাইখানাটি ব্যবহার করতে মাংস ব্যবসায়ীদের অনাগ্রহ রয়েছে। তাদের দাবি, সেখানে পশু জবাই করলে সময় ও খরচ দুটোই বেশি হবে।

মাংস ব্যবসায়ী তৌহিদুর রহমান বলেন, বর্তমানে একটি গরু জবাই করে দোকানে নিতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগে। এতে খরচ হয় ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। কসাইখানায় জবাই করলে দোকানে মাংস আনতে অন্তত ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা খরচ হবে।

আরেক ব্যবসায়ী মহিদুর রহমান বলেন, নড়াইল পৌর এলাকার ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচটি গরু এবং ১০ থেকে ১৫টি ছাগল জবাই করে। এখন কসাইখানার পরিচালন ব্যয় ব্যবসায়ীদের ওপর পড়লে তাদের পক্ষে ব্যবসা চালানো কঠিন হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

১০ কোটি টাকার কসাইখানা, কীভাবে চালাবে জানে না পৌরসভা

আপডেট সময় : ১১:১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

নড়াইল শহরে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কসাইখানা পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হলেও এটি কীভাবে চালু ও পরিচালনা করা হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শহরের মহিষখোলা মৌজায় ৫০ শতক জমির ওপর নির্মিত কসাইখানাটিতে প্রতি ঘণ্টায় আট থেকে ১০টি গরু এবং ১৫ থেকে ২০টি ছাগল বা ভেড়া জবাই ও মাংস প্রস্তুত করা যাবে বলে জানিয়েছেন নড়াইল পৌরসভার প্রশাসক মো. নাজমুল হুদা।

তিনি বলেন, “আধুনিক কসাইখানা পৌর কর্তৃপক্ষ বুঝে নিয়েছে। এটি কীভাবে পরিচালনা করতে হবে, সেটি আমরা নিশ্চিত নই। সরকারি নির্দেশনা পেলে সেভাবেই পরিচালনা করা হবে।”

নড়াইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রাশেদুল হক বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০২৪ সালে কসাইখানাটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর চলতি বছর কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

২৪ জুন কসাইখানাটি নড়াইল পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

রাশেদুল হক বলেন, যত্রতত্র পশু জবাই বন্ধ, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং পৌরবাসীকে স্বাস্থ্যসম্মত মাংস সরবরাহের জন্য কসাইখানাটি নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “লোকবল নিয়োগ না হওয়ায় এখনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। পৌরসভা জনবল নিয়োগ দিলে তাদের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।”

নিয়ম অনুযায়ী তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কসাইখানাটি পরিচালনা করতে হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

কসাইখানাটি চালু হলে পশু জবাইয়ের আগে প্রাণিসম্পদ চিকিৎসক দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উপযুক্ত হলে পশু জবাই করা হবে এবং মাংসে পৌরসভার সিল দেওয়া হবে।

তবে কসাইখানাটি ব্যবহার করতে মাংস ব্যবসায়ীদের অনাগ্রহ রয়েছে। তাদের দাবি, সেখানে পশু জবাই করলে সময় ও খরচ দুটোই বেশি হবে।

মাংস ব্যবসায়ী তৌহিদুর রহমান বলেন, বর্তমানে একটি গরু জবাই করে দোকানে নিতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগে। এতে খরচ হয় ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। কসাইখানায় জবাই করলে দোকানে মাংস আনতে অন্তত ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা খরচ হবে।

আরেক ব্যবসায়ী মহিদুর রহমান বলেন, নড়াইল পৌর এলাকার ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচটি গরু এবং ১০ থেকে ১৫টি ছাগল জবাই করে। এখন কসাইখানার পরিচালন ব্যয় ব্যবসায়ীদের ওপর পড়লে তাদের পক্ষে ব্যবসা চালানো কঠিন হবে।