শ্যামনগরে ‘বিশুদ্ধ’ পানির নামে ছড়াচ্ছে রোগবালাই পুরনো প্লাস্টিক বোতলেই চলছে রমরমা ব্যবসা
- আপডেট সময় : ০১:৫৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২০৫৪ বার পড়া হয়েছে
উপকূলীয় অঞ্চল সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা জুড়ে বিশুদ্ধ সুপেয় পানির সংকটকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট। উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও মোড়ে বসানো ওয়াটার রিফাইন মেশিন”পানি শোধন কেন্দ্র”থেকে পানি এনে বাসাবাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সরবরাহের কাজ করছেন কিছু ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা। তবে ‘বিশুদ্ধ পানি’র নামে সাধারণ মানুষকে তারা আসলে কী খাওয়াচ্ছেন,তা নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন। সরজমিনে দেখা গেছে, বছরের পর বছর ধরে ব্যবহৃত অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন, জরাজীর্ণ এবং ক্ষতিকারক পুরনো প্লাস্টিকের বোতলে ভরেই এই পানি দিনের পর দিন সরবরাহ করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শ্যামনগর সদরসহ উপজেলার ভুরুলিয়া, নুরনগর, কাশিমাড়ী, রমজাননগর, আটুলিয়া, ও কৈখালী ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, ভ্যান বা মোটরসাইকেলে করে শত শত ২০ লিটারের জারে বা প্লাস্টিকের বোতলে দোকানে দোকানে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী এই বোতল বা জারগুলো নির্দিষ্ট সময় পর পর পরিবর্তন করার এবং নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। একই প্লাস্টিকের বোতল বছরের পর বছর ধরে ব্যবহার করায় বোতলের ভেতরে শেওলা ও ময়লার স্তর পড়ে গেছে। অনেক বোতলের গায়ে লেগে থাকা পুরনো ধুলোবালি ও কাদা নিয়েই তা নির্বিচারে সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন দোকানে, রেস্তোরাঁ ও সাধারণ মানুষের ঘরে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রিফাইন মেশিনের মালিকরা পানির গুণগত মান নিয়মিত পরীক্ষা করেন না। ফিল্টারের কার্টিজ বা উপাদানগুলো সময়মতো পরিবর্তন করা হয় না। তার ওপর সরবরাহকারীরা যখন এই পানি অত্যন্ত নোংরা ও পুরনো পাত্রে ভরছেন, তখন পানির মূল গুণাগুণ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হোটেল মালিক জানান, প্রতিদিন সকালে ভ্যানে করে পানি দিয়ে যায়। বোতলগুলো দেখতে এত ময়লা যে মাঝে মাঝে নিজেদেরই খারাপ লাগে। কিন্তু কাস্টমারদের খাওয়ানো ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই, কারণ এলাকায় ভালো পানির বড্ড অভাব।
চিকিৎসকদের মতে, ওয়ান-টাইম প্লাস্টিকের বোতল একবার ব্যবহারের পর তা রিইউজ বা পুনরায় ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। রোদ ও গরমে এই পুরানো প্লাস্টিক থেকে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ বা ক্ষতিকর রাসায়নিক পানির সাথে মিশে যায়। দীর্ঘদিন এই পানি পানের ফলে লিভার ড্যামেজ, কিডনি রোগ ও ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে। এছাড়া ডায়রিয়া, জন্ডিস ও টাইফয়েডের মতো পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি তো রয়েছেই।
শ্যামনগরের সচেতন মহল মনে করছেন, পানির মতো একটি মৌলিক ও সংবেদনশীল বিষয়ে এমন অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। স্থানীয় সচেতন জনগণের দাবি, অবিলম্বে শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন ও স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের পক্ষ থেকে এই রিফাইন মেশিন এবং পানি সরবরাহকারীদের ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হোক নোংরা ও পুরনো বোতল জব্দ করে নষ্ট করা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের জরিমানার আওতায় আনা অতি জরুরি।






















