শিরোনাম ::
অপারেশন ঈগল হান্ট: সাবেক আইজিপিসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আবেদন
বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
- আপডেট সময় : ১২:৪১:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৪
- / ২১০৭ বার পড়া হয়েছে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে অপারেশন ঈগল হান্টের নামে হত্যার ঘটনায় সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন। ছবি: বঙ্গ সংবাদ
সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঘটনার ৮ বছর পর নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া খাতুনের (৩০) পক্ষে শিবগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন তার ভাই সানাউল্লাহ সুলভ।
মামলার আবেদনে প্রধান আসামি করা হয়েছে অপারেশন ঈগল হান্টের আভিযানিক দলের উপ-পরিদর্শক সাব্বির আলম চৌধুরীকে।
মামলায় পুলিশের সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, কাউন্টার টেরিরিজম ইউনিটের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল আলম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, রাজশাহী রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি এম খুরশিদ হোসেন, কাউন্টার টেরিরিজম ইউনিটের সাবেক প্রধান মুনিরুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানীসহ ১৮ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার আবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল গভীর রাতে পুলিশ, র্যাব, কাউন্টার টেরিরিজম ইউনিট ও সোয়াট টিমের যৌথ বাহিনী মসলা ব্যবসায়ী আবুর বাড়ি ঘেরাও করে গোলাগুলি করে। এ সময় ঘুম ভেঙে বাড়ি থেকে বের হবার চেষ্টা করলেও বাইরে থেকে মূলফটক বন্ধ থাকায় আবু, তার স্ত্রী ও ৩ শিশু সন্তান বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ায় পুরো বাড়িতে ভুতুড়ে অবস্থার সৃষ্টি হয়।
পরদিন একই কায়দায় আবারো গুলি করা হয়। এতে টানা ৩ দিন পুরো পরিবারটি না খেয়ে ঘরের এককোণে পড়েছিলেন। তৃতীয়দিন গুলির একপর্যায়ে বাড়িতে প্রধান আসামির নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রবেশ করে স্বামী আবুকে কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে তার মরদেহ জঙ্গি হিসেবে দাবি করে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ সময় নিহতের স্ত্রী সুমাইয়াকে আটক করে নিয়ে যান তারা। আহত সুমাইয়া দেড় মাস চিকিৎসা শেষে জেলে এবং ২ বছর পর জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।
এর দুদিন পর ২৭ এপ্রিল বিকেলে দুটি হেলিকপ্টারের করে তিনটি বস্তাবন্দি মরদেহ আবুর বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে দেহগুলোতে বিস্ফোরিত করা হলে সেগুলো ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মামলার আবেদনকারী সুমাইয়ার ভাই সানাউল্লাহ সুলভ দাবি করেন, তার ভগ্নিপতি বিএনপির কট্টর সমর্থক হওয়ায় তাকে হত্যার পর মরদেহ আবারো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়।
গুম হওয়া বিএনপি কর্মী রেজাউল ও নিহত মিজানুরের ভাই সেতাউর রহমান জানান, শুধু মাত্র বিএনপি করার অপরাধে তার দুই ভাইকে হত্যা ও গুম করে জঙ্গি নাটক সাজিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার।
অন্যদিকে, সদর উপজেলা বিএনপি আহবায়ক ওবায়েদ পাঠান বলেন, ‘শুধুমাত্র বিএনপি রাজপথে আওয়ামী লীগের অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় জঙ্গি নাটকে বেশি মারা গেছে এ জেলার বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিচারের জন্য এ মামলা করা হচ্ছে। আশা করি, এর সুষ্ঠু বিচার পাব।’
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘মামলার আবেদন পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় সব আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ট্যাগস :























