গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ সরকারি ওয়েবসাইটে নেই হালনাগাদ তথ্য
- আপডেট সময় : ১২:৪২:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৪
- / ২১০৫ বার পড়া হয়েছে
ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার প্রতিটি দপ্তরের তথ্য দিয়ে জাতীয় তথ্য বাতায়ন ওয়েবসাইট তৈরী করেছেন। ইন্টারনেট সুবিধা গ্রামীণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে ই-তথ্য সেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সরকারের ডিজিটাল কার্যক্রমে অন্যতম একটি হলো ‘জাতীয় তথ্য বাতায়ন’ তথ্য জানার অধিকার সবার। জেলার- উপজেলার কোথায় কি আছে, কি সেবা কিভাবে পাওয়া যাবে ? তথ্য নিয়ে স্থান-কাল-পাত্র জেনে সেবা গ্রহণ করলেই সঠিক সেবা পাওয়া সম্ভব। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে কাজে লাগাবেন নাগরিকেরা। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তথ্য বাতায়নে এই উপজেলার পরিচিতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভৌগোলিক ও অর্থনীতি সহ অনেক অজানা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য রয়েছে।
ডিজিটাল ব্যবস্থার সুফল নিয়ে দেশের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে সরকারের প্রচারণার কমতি নেই। কিন্তু গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত দপ্তরের ওয়েবসাইটগুলোর অবস্থা এখনো বেহাল। সন্নিবেশিত তথ্যও কয়েক বছরের পুরোনো। এসব তথ্যে বিভ্রান্তি ও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা। এ ছাড়া মাঝেমধ্যেই সার্ভারের ত্রুটিতে বন্ধ থাকছে সরকারি দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ সাইটগুলো। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ কাঙ্ক্ষিত তথ্য পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন থেকে গাইবান্ধা জেলা তথ্য বাতায়নের ওয়েবসাইটে গিয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আপডেট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ডিজিটাল বাংলাদেশের ছোঁয়া লাগলেও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ সরকারি দপ্তরের ওয়েব সাইট গুলো হালনাগাদ করা হচ্ছেনা। ফলে নাগরিকরা একদিকে যেমন সঠিক তথ্যের পরিবর্তে ভুল তথ্য পাচ্ছেন, অন্যদিকে পূর্ণতা পাচ্ছে না ডিজিটাল বাংলাদেশের শিরোনাম।
সম্প্রতি গত ১৫ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হলরুমে শীর্ষক এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ সরকারি দপ্তরের ওয়েব সাইট গুলো হালনাগাদ না থাকায় তিনি বলেছিলেন-, এটি খুবই হতাশাজনক তথ্য। ডিজিটাল বাংলাদেশে বাস করেও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি তাদের ওয়েব সাইটগুলো হালনাগাদ না করেন, তাহলে জনগণ প্রত্যাশা অনুযায়ী তথ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন। এবং ওই দিন উপজেলার সকল দপ্তরকে কঠোর নির্দেশ দেওয়ায় উপজেলার সকল দপ্তরের দপ্তর প্রধান কর্মকর্তাগন তাদের নিজ নিজ ওয়েব পোর্টালে তাদের দৈনিন্দ কাজের চিএ সহ সকল ধরণের তথ্য দিয়ে আপডেট রাখার প্রতিঞ্জা করলেও আজ পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয় নাই অনেক সাইট।
এদিকে ১১ই ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নোটিশ বোর্ড, খবর প্রতিনিয়ত সকল দপ্তরকে ওয়েব পোর্টালের তথ্য হালনাগাদ রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হলেও ৭টি উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়াই কেবলমাত্র জাতীয় তথ্য বাতায়নের অর্ন্তভুক্ত জেলা প্রশাসনের ওয়েব পোর্টলের অধীনে ৬০টি প্রতিষ্ঠান দপ্তরের ওয়েবসাইট ঘেটে এমন দৃশ্য দেখা যায়।
উপজেলার সর্ব সাধারণদের তথ্য দিয়ে যে অফিসটি সব সময়ই আপডেট রাখার কথা সেটি হলো তথ্য আপা প্রকল্প ‘তথ্য কেন্দ্র’। এই অতি গুরুত্বপূর্ণ অফিসটির সাইটে প্রবেশ করে দেখা যায়, তারা শেষ হাল নাগাদ করেছেন তাহা উল্লেখ নেই। সর্ব সাধারণদের তথ্য দিয়ে যে অফিসটি সব সময়ই আপডেট রাখার কথা সেটি হলো তথ্য অফিস। এই অতি গুরুত্বপূর্ণ অফিসটির সাইটে প্রবেশ করে দেখা যায়, হালনাগাদ কোন তথ্য নেই।
বর্তমানে সারা দেশে অর্থনৈতিক শুমারির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান। ১৫ দিনব্যাপী এই শুমারির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে আগামী ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তাহার নেই কোন তথ্য গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের ওয়েবসাইটে। কখন কিভাবে পরিসংখ্যান ব্যুরো ‘অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪ এর মূল শুমারির কার্যক্রমের জন্য সুপারভাইজার ও গনণাকারী নিয়োগ প্রদান নির্বাচন করা হলো জানেন না সচেতন বেকার যুবকরা এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের সাইট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় শেষ হালনাগাদ করা হয়েছে ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর, নেই চলমান প্রকল্প ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের চিএ ও সংস্কার কর্মসূচি অর্থ বছর ২০২৩-২০২৪ (কাবিখা/কাবিটা) এর কোন তথ্য।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) শেষ হালনাগাদ করা হয়েছে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টবর হলেও এর পোর্টালে নোটিশ বোর্ড, খবরে ডিও সংক্রান্ত নেই কোন চলমান কাজের তথ্য।
উপজেলা শিক্ষা অফিসের ওয়েব সাইট শেষ হাল নাগাদ ২০২৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর দেখানো হলেও নেই ২০২৪ সালের কোন তথ্য। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ওয়েব সাইট শেষ হাল নাগাদ ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর দেখানো হলেও নেই ২০২৪ সালের কোন তথ্য। উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসটির সাইটে প্রবেশ করে দেখা যায়, হালনাগাদ কোন তথ্য নেই।
উপজেলার সমাজ সেবা অফিসের সাইটে উল্লেখ নেই এ উপজেলায় সরকারী ভাবে কতজন বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন ও বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষন গ্রহন করেছে। মহিলা বিষয়ক অফিসের সাইডে নেই উপকারভোগীর তালিকা ও উপকারভোগীর সংখ্যা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের তথ্য বাতায়ন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে আইসিটি বিভাগের এটুআই প্রকল্প হতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে একাধিক বার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু এরপরও এসব অফিসের সাইটগুলো আপডেট করা হচ্ছে না। ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবং সহজেই তথ্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গাইবান্ধারবাসী।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের উদাসিনতা আর অদক্ষতার জন্যই জাতীয় তথ্য বাতায়নের মতো সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ কেবল নাম পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে তথ্য বাতায়ন ঘেটে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রয়োজনীয় তথ্য না পেয়ে অনেকেই বিষ্মিত হয়েছেন।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সহকারী প্রোগ্রামার রবিউল ইসলাম জানান, প্রত্যোকটি দপ্তরকে আলাদা আইডি ও পাসওয়ার্ড দেয়া হয়েছে। তাই তথ্য বাতায়নের কাজটি নিজ নিজ দপ্তর আপডেট করে থাকে। নিয়মিত তথ্য আপডেট না থাকায় তিনি প্রত্যেক দপ্তরকে নিজেদের তথ্য আপডেট করার জন্য মাসিক মিটিংয়ে তাগাদা দিবেন । গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ না করায় তাহার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নাই।
জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জনাব এ,কে,এম হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, এটি খুবই হতাশাজনক তথ্য। ডিজিটাল বাংলাদেশে বাস করেও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি তাদের ওয়েব সাইটগুলো হালনাগাদ না করেন, তাহলে জনগণ প্রত্যাশা অনুযায়ী তথ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন। সকল দপ্তরকে ওয়েব পোর্টালের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো এটা প্রতিনিয়ত তাগিদ দেওয়া হচ্ছে তারপরও মাসিক মিটিংয়ে বিষয়টি উপস্থাপন করে জেলার সবকটি সরকারী প্রতিষ্ঠানের/অফিসের ওয়েব সাইটগুলো হালনাগাদ করার জন্য প্রতিষ্ঠান/অফিস প্রধানদের চিঠি দেওয়া হবে।



























