ঢাকা ০৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

সাভার-আশুলিয়া হানাদার মুক্ত দিবসে শহীদ গোলাম দস্তগীর টিটোর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪
  • / ২১৩২ বার পড়া হয়েছে

মাহাবুব মন্ডল :

সাভার আশুলিয়া মুক্ত দিবসে শহীদ গোলাম দস্তগীর টিটোর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে আশুলিয়া প্রেসক্লাব। তাকে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়েছে সাভার মুক্ত দিবস।

১৯৭১ সালের এই দিনে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম দস্তগীর টিটোর রক্তের বিনিময়ে হানাদারমুক্ত হয় সাভার।

সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন ডেইরি গেট এলাকায় বীর কিশোর মুক্তিযোদ্ধার সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানানো হয় ও শহীদ টিটোর আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

এসময় আশুলিয়া প্রেসক্লাবের আহবায়ক খোকা মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর হাতে গোলাম মোহাম্মদ দস্তগীর টিটো শহীদ হন। পরে ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী টিটো’র স্মরণে এই স্তম্ভটি তৈরি করা হয়। সেই থেকে ১৪ই ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে তাঁর বেদিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় তিনি আরো বলেন শহীদ গোলাম মোহাম্মদ দস্তগীর টিটো’র কবরটি প্রশাসনের অবহেলা অযত্নে পড়ে থাকে। তাই তার কবরটি স্থানান্তর করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এসময় আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব সোহেল রানা বলেন, শহীদ গোলাম মোহাম্মদ দস্তগীর টিটো ছিলেন মানিকগঞ্জের সন্তান। ১৯৭১ সালে তিনি যখন মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করেন তখন তার বয়স ছিল ১৬ বছর এবং তিনি ছিলেন দশম শ্রেণীর ছাত্র। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে তিনি যখন গুলিবিদ্ধ হন তখন তাকে কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন।

গোলাম দস্তগীর টিটোর সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর সকালে সাইকেলে করে একজন এসে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের খবর দিলো যে গাজীপুর থেকে পাকহানাদার বাহিনীরা আসছে। আমাদের কমান্ডারের নির্দেশে সেদিন আমরা পাকবাহিনীকে রুখতে ও যুদ্ধ করতে রওনা হই। সেদিন আমাদের উদ্দেশ্য ছিলো পাকবাহিনীকে এ দেশ থেকে বিতারিত করা।

আরও জানা যায়, সহযোদ্ধাদের নিষেধ উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় পাকবাহিনীর ছোড়া গুলিতে শহীদ হয় কিশোর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম দস্তগীর টিটো। এরপরেও যুদ্ধ চালিয়ে যান মুক্তিযোদ্ধারা। এসময় আহত হয় এক মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর তিন জন পাক সেনা নিহত হয়। পরাজিত হয়ে পিছু হটে পাকহানাদার বাহিনী। পরে সাভারকে হানাদার মুক্ত ঘোষণা করা হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

সাভার-আশুলিয়া হানাদার মুক্ত দিবসে শহীদ গোলাম দস্তগীর টিটোর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন

আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪

মাহাবুব মন্ডল :

সাভার আশুলিয়া মুক্ত দিবসে শহীদ গোলাম দস্তগীর টিটোর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে আশুলিয়া প্রেসক্লাব। তাকে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়েছে সাভার মুক্ত দিবস।

১৯৭১ সালের এই দিনে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম দস্তগীর টিটোর রক্তের বিনিময়ে হানাদারমুক্ত হয় সাভার।

সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন ডেইরি গেট এলাকায় বীর কিশোর মুক্তিযোদ্ধার সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানানো হয় ও শহীদ টিটোর আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

এসময় আশুলিয়া প্রেসক্লাবের আহবায়ক খোকা মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর হাতে গোলাম মোহাম্মদ দস্তগীর টিটো শহীদ হন। পরে ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী টিটো’র স্মরণে এই স্তম্ভটি তৈরি করা হয়। সেই থেকে ১৪ই ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে তাঁর বেদিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় তিনি আরো বলেন শহীদ গোলাম মোহাম্মদ দস্তগীর টিটো’র কবরটি প্রশাসনের অবহেলা অযত্নে পড়ে থাকে। তাই তার কবরটি স্থানান্তর করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এসময় আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব সোহেল রানা বলেন, শহীদ গোলাম মোহাম্মদ দস্তগীর টিটো ছিলেন মানিকগঞ্জের সন্তান। ১৯৭১ সালে তিনি যখন মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করেন তখন তার বয়স ছিল ১৬ বছর এবং তিনি ছিলেন দশম শ্রেণীর ছাত্র। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে তিনি যখন গুলিবিদ্ধ হন তখন তাকে কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন।

গোলাম দস্তগীর টিটোর সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর সকালে সাইকেলে করে একজন এসে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের খবর দিলো যে গাজীপুর থেকে পাকহানাদার বাহিনীরা আসছে। আমাদের কমান্ডারের নির্দেশে সেদিন আমরা পাকবাহিনীকে রুখতে ও যুদ্ধ করতে রওনা হই। সেদিন আমাদের উদ্দেশ্য ছিলো পাকবাহিনীকে এ দেশ থেকে বিতারিত করা।

আরও জানা যায়, সহযোদ্ধাদের নিষেধ উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় পাকবাহিনীর ছোড়া গুলিতে শহীদ হয় কিশোর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম দস্তগীর টিটো। এরপরেও যুদ্ধ চালিয়ে যান মুক্তিযোদ্ধারা। এসময় আহত হয় এক মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর তিন জন পাক সেনা নিহত হয়। পরাজিত হয়ে পিছু হটে পাকহানাদার বাহিনী। পরে সাভারকে হানাদার মুক্ত ঘোষণা করা হয়।