ঢাকা ০৯:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শ্যামনগরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে সংখ্যালঘুর জমি দখল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী

অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অভিযান: বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা


মির্জা রকিবুল হাসান
  • আপডেট সময় : ১২:৪৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
  • / ২২০৯ বার পড়া হয়েছে

জ্বালানি খাতের শৃঙ্খলা ফেরানো এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় আজ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে সংযুক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দুটি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এই অভিযানে অবৈধভাবে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নপূর্বক মালামাল জব্দ করা হয়।

প্রথম অভিযানে কলাবাড়ীর দেওয়ানবাগ এলাকায় একটি অবৈধ চুন ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালানো হয়। এই কারখানায় প্রায় ২০০০ সিএফটি লোডের অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা পরিবেশ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল। অভিযানকালে, প্রায় ২০০ ফিট ২ ইঞ্চি পানির হোস পাইপ, ১০ ফিট ১.৫ ইঞ্চি এমএস পাইপ, ৪টি বার্নার এবং ৩টি বেলচা অপসারণ ও জব্দ করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকালে চুন কারখানার মালিককে ঘটনাস্থলে না পাওয়ায় তাৎক্ষণিক কোনো জরিমানা বা কারাদণ্ড প্রদান করা সম্ভব হয়নি। তবে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক লিগ্যাল বিভাগ কর্তৃক চুন ফ্যাক্টরির মালিক এবং জায়গার মালিকের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর (First Information Report) দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অবৈধ চুন কারখানার সম্পূর্ণ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে স্থাপনাটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় কারখানার মজুদকৃত চুন ভিজিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়। এছাড়া, অবৈধ বিতরণ লাইনের সংযোগ উৎসে পুরোপুরি কিলিং করা হয় যাতে ভবিষ্যতে পুনরায় কোনো অবৈধ সংযোগ স্থাপন করা না যায়।

দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয় মালিবাগ এলাকায়, ক্যাসেল রিসোর্টের পাশে। এখানে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের বিদ্যমান ৪ ইঞ্চি×১৫০ পিএসআইজি লাইন থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে হাইওয়ের নিচ দিয়ে বোরিং করে একটি ২ ইঞ্চি লাইন স্থাপন করা হয়েছিল। এই অবৈধ লাইনের মাধ্যমে প্রায় ৩০০ চুলার গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা শুধু রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয়ের কারণই নয়, একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি করছিল।

অভিযান চলাকালীন, অবৈধভাবে স্থাপিত প্রায় ৭০ ফিট ২ ইঞ্চি এমএস পাইপ অপসারণ ও জব্দ করা হয়। এই স্পটেও অবৈধ বিতরণ লাইনের সংযোগ উৎসে স্থায়ীভাবে কিলিং করা হয়, যা ভবিষ্যৎ অবৈধ সংযোগ রোধে একটি কার্যকর পদক্ষেপ।

অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধ সংযোগকারী যেই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অভিযান: বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা

আপডেট সময় : ১২:৪৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫

জ্বালানি খাতের শৃঙ্খলা ফেরানো এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় আজ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে সংযুক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দুটি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এই অভিযানে অবৈধভাবে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নপূর্বক মালামাল জব্দ করা হয়।

প্রথম অভিযানে কলাবাড়ীর দেওয়ানবাগ এলাকায় একটি অবৈধ চুন ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালানো হয়। এই কারখানায় প্রায় ২০০০ সিএফটি লোডের অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা পরিবেশ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল। অভিযানকালে, প্রায় ২০০ ফিট ২ ইঞ্চি পানির হোস পাইপ, ১০ ফিট ১.৫ ইঞ্চি এমএস পাইপ, ৪টি বার্নার এবং ৩টি বেলচা অপসারণ ও জব্দ করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকালে চুন কারখানার মালিককে ঘটনাস্থলে না পাওয়ায় তাৎক্ষণিক কোনো জরিমানা বা কারাদণ্ড প্রদান করা সম্ভব হয়নি। তবে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক লিগ্যাল বিভাগ কর্তৃক চুন ফ্যাক্টরির মালিক এবং জায়গার মালিকের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর (First Information Report) দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অবৈধ চুন কারখানার সম্পূর্ণ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে স্থাপনাটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় কারখানার মজুদকৃত চুন ভিজিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়। এছাড়া, অবৈধ বিতরণ লাইনের সংযোগ উৎসে পুরোপুরি কিলিং করা হয় যাতে ভবিষ্যতে পুনরায় কোনো অবৈধ সংযোগ স্থাপন করা না যায়।

দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয় মালিবাগ এলাকায়, ক্যাসেল রিসোর্টের পাশে। এখানে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের বিদ্যমান ৪ ইঞ্চি×১৫০ পিএসআইজি লাইন থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে হাইওয়ের নিচ দিয়ে বোরিং করে একটি ২ ইঞ্চি লাইন স্থাপন করা হয়েছিল। এই অবৈধ লাইনের মাধ্যমে প্রায় ৩০০ চুলার গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা শুধু রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয়ের কারণই নয়, একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি করছিল।

অভিযান চলাকালীন, অবৈধভাবে স্থাপিত প্রায় ৭০ ফিট ২ ইঞ্চি এমএস পাইপ অপসারণ ও জব্দ করা হয়। এই স্পটেও অবৈধ বিতরণ লাইনের সংযোগ উৎসে স্থায়ীভাবে কিলিং করা হয়, যা ভবিষ্যৎ অবৈধ সংযোগ রোধে একটি কার্যকর পদক্ষেপ।

অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধ সংযোগকারী যেই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।