ঢাকা ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

বার্ন ইনস্টিটিউটের মর্গে দুই শিক্ষকের নাম


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৩:১৬:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
  • / ২১০০ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর উত্তরায় প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে স্কুলটির দুজন শিক্ষকও রয়েছেন।

ইনস্টিটিউটের মর্গের ডেথ রেজিস্ট্রার থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

যদিও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান মঙ্গলবার সকালের ব্রিফিংয়ে মৃত ২৭ জনের মধ্যে একজন শিক্ষকের কথা বলেছিলেন।

ডেথ রেজিস্ট্রারে নাম থাকা দুই শিক্ষক হলেন মাহেরীন চৌধুরী ও মাসুকা বেগম।

এর মধ্যে মাহেরীন চৌধুরী সোমবার রাত ৮ টা ৫০ মিনিটে এবং মাসুকা বেগম রাত ১২ টা ২০ মিনিটে মারা গেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে মাসুকার পরিবারের সদস্যরা তার লাশ বুঝে নেন।

এ সময় তার খালাতো ভাই খালেকুজ্জামান সবুজ জানান, ৩৭ বছর বয়সি মাসুকা স্কুলটির ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষিকা ছিলেন।

এদিকে ভয়াবহ মুহূর্তে অন্তত ২০ শিক্ষার্থীকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে নিজে সোমবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। রাতেই ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিন দুপুরে একটি প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাইমারি সেকশনের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় ওই ভবনে ক্লাস চলছিল, যেখানে বহু শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকর্মীরা জানান, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর যখন আগুন ও ধোঁয়ায় চারদিক ছেয়ে যায়, তখন শিক্ষক মাহেরীন নিজের জীবন বাজি রেখে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেন। তিনি দ্রুততার সঙ্গে আতঙ্কিত শিশুদের বের করে আনেন। তার প্রচেষ্টায় অন্তত ২০ শিক্ষার্থী অক্ষত বা সামান্য আহত অবস্থায় ভবন থেকে বের হতে সক্ষম হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই বীরত্বপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে তিনি নিজে আটকা পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান। উদ্ধার অভিযানে থাকা এক সদস্যও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এক অভিভাবক বলেন, ম্যাডাম অনেক ভালো ছিলেন। সেনাবাহিনী আমাদের বলেছে, ওই ম্যাডামের জন্য অন্তত ২০ শিক্ষার্থী বেঁচে গেছে। স্বামী মনসুর হেলাল বলেন, মাহেরীনের পা থেকে মাথা পর্যন্ত পুরো শরীরই ঝলসে গিয়েছিল। চিকিৎসকরা ৮০ ভাগ বললেও আমার মনে হয়েছে সে শতভাগ দগ্ধ হয়েছিল। তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে নেওয়ার আগে স্বামীর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

বার্ন ইনস্টিটিউটের মর্গে দুই শিক্ষকের নাম

আপডেট সময় : ০৩:১৬:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

রাজধানীর উত্তরায় প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে স্কুলটির দুজন শিক্ষকও রয়েছেন।

ইনস্টিটিউটের মর্গের ডেথ রেজিস্ট্রার থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

যদিও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান মঙ্গলবার সকালের ব্রিফিংয়ে মৃত ২৭ জনের মধ্যে একজন শিক্ষকের কথা বলেছিলেন।

ডেথ রেজিস্ট্রারে নাম থাকা দুই শিক্ষক হলেন মাহেরীন চৌধুরী ও মাসুকা বেগম।

এর মধ্যে মাহেরীন চৌধুরী সোমবার রাত ৮ টা ৫০ মিনিটে এবং মাসুকা বেগম রাত ১২ টা ২০ মিনিটে মারা গেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে মাসুকার পরিবারের সদস্যরা তার লাশ বুঝে নেন।

এ সময় তার খালাতো ভাই খালেকুজ্জামান সবুজ জানান, ৩৭ বছর বয়সি মাসুকা স্কুলটির ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষিকা ছিলেন।

এদিকে ভয়াবহ মুহূর্তে অন্তত ২০ শিক্ষার্থীকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে নিজে সোমবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। রাতেই ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিন দুপুরে একটি প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাইমারি সেকশনের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় ওই ভবনে ক্লাস চলছিল, যেখানে বহু শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকর্মীরা জানান, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর যখন আগুন ও ধোঁয়ায় চারদিক ছেয়ে যায়, তখন শিক্ষক মাহেরীন নিজের জীবন বাজি রেখে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেন। তিনি দ্রুততার সঙ্গে আতঙ্কিত শিশুদের বের করে আনেন। তার প্রচেষ্টায় অন্তত ২০ শিক্ষার্থী অক্ষত বা সামান্য আহত অবস্থায় ভবন থেকে বের হতে সক্ষম হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই বীরত্বপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে তিনি নিজে আটকা পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান। উদ্ধার অভিযানে থাকা এক সদস্যও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এক অভিভাবক বলেন, ম্যাডাম অনেক ভালো ছিলেন। সেনাবাহিনী আমাদের বলেছে, ওই ম্যাডামের জন্য অন্তত ২০ শিক্ষার্থী বেঁচে গেছে। স্বামী মনসুর হেলাল বলেন, মাহেরীনের পা থেকে মাথা পর্যন্ত পুরো শরীরই ঝলসে গিয়েছিল। চিকিৎসকরা ৮০ ভাগ বললেও আমার মনে হয়েছে সে শতভাগ দগ্ধ হয়েছিল। তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে নেওয়ার আগে স্বামীর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি