ময়মনসিংহে-কুকুরের অবাধ বিচরণ হাসপাতাল জুড়ে, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রোগীরা
- আপডেট সময় : ০২:২৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫
- / ২২৬৩ বার পড়া হয়েছে
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কুকুরের দৌরাত্ম্য কমাতে অপারক, এ-যেন কর্তৃপক্ষকে বলেও কোনও লাভ হয়নি। কুকুরদের অবাধ যাতায়াত! হাসপাতালে তিতিবিরক্ত নার্স থেকে রোগীরা সরকারি হাসপাতালে কুকুর ও বিড়ালের উপদ্রব, হাসপাতালের কর্মীরা সরব হলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে কুকুরের অবাধ বিচরণের কিছু ছবি তুলে আনেন বঙ্গ সংবাদের প্রতিবেদক। ওই ছবিগুলোতে দেখা যায় যায়, হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে কুকুর শুয়ে আছে। দেখলে মনে হবে যেন কুকুর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে।
সরকারি হাসপাতালে কুকুর নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন ওঠে মাঝেমধ্যেই। বিভাগীয় হাসপাতালে কুকুর বিড়ালের উপদ্রব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ফের। বিভিন্ন সময় হাসপাতালগুলিতে এদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রোগী থেকে রোগীর বাড়ির লোকজন, হাসপাতালের কর্মীরা সরব হলেও তা যে আদৌ স্বাস্থ্য দফতর বা সিটি করপোরেশনের টনক নড়াতে পারেনি তা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ঘুরলেই টের পাওয়া যায়।

এই হাসপাতালের প্রতিটা ওয়ার্ডেই অবাধ বিচরণ কুকুরের। কখনও তারা উঠে পড়ছে রোগীর শয্যায় তো কখনও মুখ দিচ্ছে রোগীর খাবারে। এমনই ছবি ধরা পরল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। বিভাগের প্রথম জেলা হাসপাতালগুলির মধ্যে অন্যতম ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি থাকে। এখানে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ১০০০ হলেও, প্রায়ই তার চেয়ে অনেক বেশি রোগী ভর্তি থাকে। হৃদরোগ বিভাগে ৭২টি শয্যা থাকলেও ২৫০-৩০০ জন রোগী ভর্তি থাকে। এছাড়া, সিসিইউ ওয়ার্ডে ৮০টি শয্যা থাকলেও ১৭০-২২০ জন রোগী ভর্তি থাকে। গাইনি ওয়ার্ডেও ১২০টি নির্ধারিত শয্যার বিপরীতে অনেক বেশি রোগী ভর্তি থাকে। এই অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসক ও নার্সদের। আর এখানেই কুকুরের দৌরাত্মে কার্যত অতিষ্ঠ রোগী ও রোগীর সজনরা। প্রতিটি ওয়ার্ডেই ঘুরে বেড়াচ্ছে একাধিক কুকুর। সর্বত্রই অবাধ বিচরণ, কখনও তারা উঠে পড়ছে রোগীর বিছানায় তো কখনও আবার মুখ দিচ্ছে রোগীর খাবারে।
নজরদারি নেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। জেলার ‘এ’ হাসপাতালের এমন চিত্র কেন? কেন দমন করে যাচ্ছে না কুকুরের দৌরাত্ম? তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। যদিও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, “বিষয়টি ইতিমধ্যেই নজরে এসেছে। কিভাবে সমস্যার সমাধান করা যায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে”।
হাসপাতালের এক কর্মীর অভিযোগ, এমনিতেই হাসপাতালে শয্যার থেকে অনেক রোগী বেশি থাকায় অনেক সময় রোগীদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। এই অবস্থায় হাসপাতালে এসে কেউ কুকুর, বিড়ালের কামড় খেলে বিড়ম্বনার শেষ থাকবে না। হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি এক রোগীর আত্মীয় বলেন, “ওষুধপত্র গুছিয়ে রাখা দূরে থাক, বিছানায় রোগী শুয়ে থাকলে তার উপর দিয়ে ছুটে যাচ্ছে কুকুর।
হাসপাতালের এক নার্স জানায়, ডিউটির সময় ওয়ার্ডে গেলে ওদের উৎপাত সহ্য করতে হয়। রোগীদের ইঞ্জেকশন কিংবা স্যালাইন দেওয়ার সময় ছুটোছুটি করতে গিয়ে পায়ের ফাঁকে ঢুকে পড়ে”। আরও এক নার্স বলেন, “কাজের সময় যে ভাবে উপদ্রব করে, মনে হয় রোগীকে সামলাবো না ওদের”! যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, তাঁরা কুকুর নিয়ে সজাগ রয়েছেন। কুকুর ধরার জন্য অভিযানের কথা ভাবা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনরা বলেন, এই হাসপাতালের কোনো পরিবেশ নেই। টয়লেট এবং মেঝে অপরিস্কার থাকে। হুট হাট কুকুর ঢোকে। পরিচ্ছন্ন কর্মীর তো দেখাই মেলে না। তাছাড়া খাবার পানির বা কাপড় ধোয়ার জন্য বেগ পেতে হয়।
ফরহাদ নামের একজন বঙ্গ সংবাদকে বলেন, ‘আমার এক অসুস্থ আত্মীয়র সঙ্গে আমিও হাসপাতালটিতে এক রাত ছিলাম। হাসপাতালের এমন পরিবেশ যে কোনো সুস্থ মানুষও এখানে থাকলে অসুস্থ হয়ে যাবে।‘এমন অবস্থা যদি সরকারি কোনো হাসপাতালের হয় তাহলে সেবার মান বা দায়িত্বরত ব্যক্তিদের অবহেলা কতটা তা অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ।’
এদিকে এসব বিষয়টি কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।



























