ঢাকা ০৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লা থেকে জাতীয় অঙ্গনে — সত্যের পথে অবিচল শাহজাদা এমরান


সাগর দেব,কুমিল্লা প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৫৬:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / ২২৭৩ বার পড়া হয়েছে

 

 

 

 

সাংবাদিকতা পেশা নয়, এটি এক মহৎ দায়িত্ব— সত্যের সন্ধান, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং ন্যায়ের জয়গান। এই দায়িত্ববোধকে জীবনমন্ত্র করে যিনি কুমিল্লা তথা বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় নিজের অনন্য স্থান গড়ে তুলেছেন, তিনি হলেন শাহজাদা এমরান।

তাঁর নাম উচ্চারণ মানেই নির্ভীকতার প্রতীক, জনতার কণ্ঠস্বর এবং সমাজ পরিবর্তনের এক অদম্য সৈনিকের কথা মনে পড়ে।

 

শাহজাদা এমরানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা কুমিল্লায়। ছোটবেলা থেকেই সামাজিক সচেতনতা, মানবিকতার প্রতি অনুরাগ এবং সাহসী মনোভাব তাঁকে আলাদা করে তুলেছিল। জীবনের প্রথম দিকেই বুঝেছিলেন— সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে সত্যের কথা নির্ভয়ে বলতে হবে, আর সেই দায়িত্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার সাংবাদিকতা।

 

পেশাগত জীবন শুরু হয় স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম থেকে। একের পর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, সমাজের অন্ধকার দিক উন্মোচন এবং প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরে তিনি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তাঁর কলমে যেমন আছে তথ্যের নিখুঁত উপস্থাপন, তেমনি আছে আবেগ ও মানবিকতার ছোঁয়া। দুর্নীতি, অনিয়ম, শোষণ কিংবা সামাজিক অপরাধ— কোনো কিছুই তাঁর নজর এড়িয়ে যায়নি।

 

সত্য বলা কখনোই সহজ ছিল না। নানা সময়ে হুমকি, মিথ্যা মামলা, সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ— সবকিছুই মোকাবিলা করেছেন সাহসের সঙ্গে। কয়েক বছর আগে মাঠ পর্যায়ের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কারণে তাঁকে জীবনহানির হুমকিও দেওয়া হয়। কিন্তু শাহজাদা এমরান পিছু হটেননি। বরং আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে গেছেন।

 

শুধু কলমে নয়, সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সমান সক্রিয়। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা, পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো— এসব ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। কুমিল্লার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে তাঁর অবদান অনন্য। অনেকের মতে, তিনি শুধু একজন সাংবাদিক নন, একজন শিক্ষক, একজন অনুপ্রেরণাদাতা, একজন সমাজ সংগঠক।

 

তাঁর অন্যতম সাফল্য ‘কুমিল্লার জমিন’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠা ও সম্পাদনা। এই পত্রিকা আজ শুধু খবরের কাগজ নয়, এটি কুমিল্লার মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে ‘কুমিল্লার জমিন’ ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও কুমিল্লার সুনাম ছড়িয়ে দিয়েছে।

 

দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান তাঁকে ন্যায়পরায়ণতা, পেশাদারিত্ব এবং সাহসিকতার জন্য সম্মানিত করেছে। তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার— সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা।

 

শাহজাদা এমরান বিশ্বাস করেন, সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য হলো মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করা। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন— “সত্যকে ভালোবাসো, সত্যকে রক্ষা করো। কারণ সাংবাদিকতা শুধু খবর লেখা নয়, এটি জাতির বিবেকের দায়িত্ব পালন।”

 

শাহজাদা এমরান এমন এক আলোকবর্তিকা, যিনি নিজের আলো দিয়ে অন্যদের পথ দেখান। তাঁর সাহস, সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং মানবিকতা কুমিল্লার সাংবাদিকতার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁর কর্ম ও আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা পাবে— সত্য, ন্যায় এবং মানবিকতার পথে অবিচল থাকতে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

কুমিল্লা থেকে জাতীয় অঙ্গনে — সত্যের পথে অবিচল শাহজাদা এমরান

আপডেট সময় : ১১:৫৬:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

 

 

 

 

সাংবাদিকতা পেশা নয়, এটি এক মহৎ দায়িত্ব— সত্যের সন্ধান, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং ন্যায়ের জয়গান। এই দায়িত্ববোধকে জীবনমন্ত্র করে যিনি কুমিল্লা তথা বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় নিজের অনন্য স্থান গড়ে তুলেছেন, তিনি হলেন শাহজাদা এমরান।

তাঁর নাম উচ্চারণ মানেই নির্ভীকতার প্রতীক, জনতার কণ্ঠস্বর এবং সমাজ পরিবর্তনের এক অদম্য সৈনিকের কথা মনে পড়ে।

 

শাহজাদা এমরানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা কুমিল্লায়। ছোটবেলা থেকেই সামাজিক সচেতনতা, মানবিকতার প্রতি অনুরাগ এবং সাহসী মনোভাব তাঁকে আলাদা করে তুলেছিল। জীবনের প্রথম দিকেই বুঝেছিলেন— সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে সত্যের কথা নির্ভয়ে বলতে হবে, আর সেই দায়িত্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার সাংবাদিকতা।

 

পেশাগত জীবন শুরু হয় স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম থেকে। একের পর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, সমাজের অন্ধকার দিক উন্মোচন এবং প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরে তিনি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তাঁর কলমে যেমন আছে তথ্যের নিখুঁত উপস্থাপন, তেমনি আছে আবেগ ও মানবিকতার ছোঁয়া। দুর্নীতি, অনিয়ম, শোষণ কিংবা সামাজিক অপরাধ— কোনো কিছুই তাঁর নজর এড়িয়ে যায়নি।

 

সত্য বলা কখনোই সহজ ছিল না। নানা সময়ে হুমকি, মিথ্যা মামলা, সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ— সবকিছুই মোকাবিলা করেছেন সাহসের সঙ্গে। কয়েক বছর আগে মাঠ পর্যায়ের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কারণে তাঁকে জীবনহানির হুমকিও দেওয়া হয়। কিন্তু শাহজাদা এমরান পিছু হটেননি। বরং আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে গেছেন।

 

শুধু কলমে নয়, সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সমান সক্রিয়। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা, পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো— এসব ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। কুমিল্লার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে তাঁর অবদান অনন্য। অনেকের মতে, তিনি শুধু একজন সাংবাদিক নন, একজন শিক্ষক, একজন অনুপ্রেরণাদাতা, একজন সমাজ সংগঠক।

 

তাঁর অন্যতম সাফল্য ‘কুমিল্লার জমিন’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠা ও সম্পাদনা। এই পত্রিকা আজ শুধু খবরের কাগজ নয়, এটি কুমিল্লার মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে ‘কুমিল্লার জমিন’ ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও কুমিল্লার সুনাম ছড়িয়ে দিয়েছে।

 

দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান তাঁকে ন্যায়পরায়ণতা, পেশাদারিত্ব এবং সাহসিকতার জন্য সম্মানিত করেছে। তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার— সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা।

 

শাহজাদা এমরান বিশ্বাস করেন, সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য হলো মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করা। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন— “সত্যকে ভালোবাসো, সত্যকে রক্ষা করো। কারণ সাংবাদিকতা শুধু খবর লেখা নয়, এটি জাতির বিবেকের দায়িত্ব পালন।”

 

শাহজাদা এমরান এমন এক আলোকবর্তিকা, যিনি নিজের আলো দিয়ে অন্যদের পথ দেখান। তাঁর সাহস, সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং মানবিকতা কুমিল্লার সাংবাদিকতার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁর কর্ম ও আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা পাবে— সত্য, ন্যায় এবং মানবিকতার পথে অবিচল থাকতে।