সংবিধান সংশোধনকে হুমকি হিসেবে নয়, গণতান্ত্রিক বাস্তবতা হিসেবে দেখতে হবে: প্রধান বিচারপতি
- আপডেট সময় : ০৩:২৬:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২০৮৪ বার পড়া হয়েছে
সংবিধান পরিবর্তনকে হুমকি হিসেবে নয়, বরং একটি গণতান্ত্রিক বাস্তবতা হিসেবে বিচার বিভাগকে গ্রহণ করতে হবে—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি ও আইনজীবীদের উপস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, গত ষোল মাসে আমরা দেশের বিচারিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করেছি। এ সময়ে আপনারা যে সহযোগিতা করেছেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালিত হয় তিনটি প্রধান অঙ্গ—আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের মাধ্যমে। সে কারণেই সুপ্রিম কোর্ট ভবন শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি নাগরিক জীবনের তিনটি ভিত্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, জনগণের সংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে সময়ের প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তনের। বিচার বিভাগকে সেটিকে কোনো হুমকি হিসেবে না দেখে গণতান্ত্রিক সত্য হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
বিচার বিভাগের শক্তি কোনো একক পদে নিহিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ন্যায়, ভারসাম্য ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে সেবা দেওয়ার সম্মিলিত অঙ্গীকারই বিচার বিভাগের প্রকৃত শক্তি। আমরা সাধারণত রায়ের কৃতিত্ব বিচারকদের দিই, কিন্তু সেই রায়ের ভাষা, যুক্তি ও কাঠামো নির্মাণে আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এক পর্যায়ে তিনি বলেন, অস্থির এই বিশ্বে বিচার বিভাগের স্থিরতা, সংযম, সততা ও সাহস জাতির জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য স্থিতিশীলতার উৎস হতে পারে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শুরুতে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং পরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের কর্মময় জীবনের ওপর বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ আগামী ২৭ ডিসেম্বর অবসর গ্রহণ করবেন। তিনি ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াডাম কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণিতে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টাফ্টস ইউনিভার্সিটির ফ্লেচার স্কুল অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি থেকে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে কাজ করেছেন।
ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ ১৯৮৪ সালে ঢাকা জেলা আদালতে এবং ১৯৮৬ সালে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক এবং দুই বছর পর স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
তিনি প্রথিতযশা আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমেদ এবং ভাষাসৈনিক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত, বাংলাদেশের প্রথম নারী জাতীয় অধ্যাপক ড. সুফিয়া আহমেদের সন্তান।




























