ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ট্রান্সকম গ্রুপের সিমিন রহমানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি


নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:১৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২০৯৫ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

ভুয়া স্বাক্ষর ও জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে ট্রান্সকম গ্রুপের ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় প্রতিষ্ঠানটির সিইও সিমিন রহমানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া অপর দুই আসামি হলেন— ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমানের স্ত্রী শাহনাজ রহমান এবং প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সামসুজ্জামান পাটোয়ারী।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার ছয় আসামির মধ্যে ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক মো. কামরুল হাসান, মো. মোসাদ্দেক ও আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁদের আইনজীবীরা স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। তবে সিমিন রহমানসহ তিন আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ফলে সিমিন রহমানসহ তিনজন এখন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। পুলিশ যে কোনো সময় তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পারে।

এর আগে গত ১১ জানুয়ারি পিবিআইয়ের পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে সিমিন রহমানসহ মোট ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, গত ১৩ জুন ২০২০ তারিখে ঢাকায় একটি বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে— এমন দেখিয়ে শেয়ার হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মিটিংয়ের এজেন্ডায় পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুমোদন, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ ও ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের অনুমোদন এবং লতিফুর রহমানের শেয়ার হস্তান্তরের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে হাজিরা শিটে অনিয়ম ও অসঙ্গতি পাওয়া যায়। সেখানে লতিফুর রহমানকে ছুটিতে দেখানো হলেও তাঁর স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়। আবার আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের স্বাক্ষর থাকলেও মিটিংয়ের সময় তিনি কুমিল্লায় অবস্থান করছিলেন।

এই তথাকথিত বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে লতিফুর রহমানের মালিকানাধীন ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ারের মধ্যে বড় মেয়ে সিমিন রহমানকে ১৪ হাজার ১৬০টি এবং ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমান ও ছোট মেয়ে শাযরেহ হককে চার হাজার ৭২০টি করে শেয়ার হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত দেখানো হয়। তবে বাদীপক্ষের দাবি, ২০২০ সালের ১৩ জুন এ ধরনের কোনো বোর্ড মিটিং আদৌ অনুষ্ঠিত হয়নি।

তদন্তকালে কোম্পানির বর্তমান পরিচালকদের কাছে সংশ্লিষ্ট বোর্ড মিটিংয়ের কাগজপত্র ও নোটিশ চাওয়া হলেও আসামিপক্ষ কোনো নথি উপস্থাপন করতে পারেনি। বোর্ড মিটিংয়ের আগে ই-মেইল বা ডাকযোগে কোনো নোটিশ পাঠানোর প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

চার্জশিটে আরও বলা হয়, শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আরজেএসসি (যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর) দাখিলকৃত কাগজপত্রেও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা কেউই আরজেএসসিতে উপস্থিত ছিলেন না। নিয়ম অনুযায়ী উভয় পক্ষের সশরীরে উপস্থিত থেকে প্রতিনিধির সামনে স্বাক্ষর করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি, যা ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ৩৮ ধারার লঙ্ঘন।

এ ছাড়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালে ভাই-বোনদের ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে অধিকাংশ শেয়ার নিজের নামে নেওয়ার উদ্দেশ্যে সিমিন রহমান পারিবারিক ডিড অব সেটলমেন্ট ও কোম্পানির নথিপত্র প্রস্তুত করেন। এ জন্য দুটি ভুয়া নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প এফিডেভিট ব্যবহার করা হয়, যেখানে বাবা, ভাই ও বোনদের স্ক্যান করা স্বাক্ষর সংযুক্ত ছিল। এসব নথি আরজেএসসিতে দাখিল করা হয়।

সম্প্রতি ডাক বিভাগ ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, ব্যবহৃত স্ট্যাম্প দুটি ২০২৩ সালে সৃজন করা হলেও সেগুলোকে ২০২০ সালের হিসেবে দেখানো হয়েছে। তদন্তে আরও উঠে আসে, সংশ্লিষ্ট স্ট্যাম্প ভেন্ডরের লাইসেন্স ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বাতিল হলেও তিনি অসদুপায়ে স্ট্যাম্প সরবরাহ করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ভাই-বোনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি লতিফুর রহমানের কন্যা শাযরেহ হক গুলশান থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় সিমিন রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

ট্রান্সকম গ্রুপের সিমিন রহমানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

আপডেট সময় : ০৩:১৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

ভুয়া স্বাক্ষর ও জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে ট্রান্সকম গ্রুপের ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় প্রতিষ্ঠানটির সিইও সিমিন রহমানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া অপর দুই আসামি হলেন— ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমানের স্ত্রী শাহনাজ রহমান এবং প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সামসুজ্জামান পাটোয়ারী।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার ছয় আসামির মধ্যে ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক মো. কামরুল হাসান, মো. মোসাদ্দেক ও আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁদের আইনজীবীরা স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। তবে সিমিন রহমানসহ তিন আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ফলে সিমিন রহমানসহ তিনজন এখন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। পুলিশ যে কোনো সময় তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পারে।

এর আগে গত ১১ জানুয়ারি পিবিআইয়ের পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে সিমিন রহমানসহ মোট ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, গত ১৩ জুন ২০২০ তারিখে ঢাকায় একটি বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে— এমন দেখিয়ে শেয়ার হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মিটিংয়ের এজেন্ডায় পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুমোদন, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ ও ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের অনুমোদন এবং লতিফুর রহমানের শেয়ার হস্তান্তরের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে হাজিরা শিটে অনিয়ম ও অসঙ্গতি পাওয়া যায়। সেখানে লতিফুর রহমানকে ছুটিতে দেখানো হলেও তাঁর স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়। আবার আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের স্বাক্ষর থাকলেও মিটিংয়ের সময় তিনি কুমিল্লায় অবস্থান করছিলেন।

এই তথাকথিত বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে লতিফুর রহমানের মালিকানাধীন ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ারের মধ্যে বড় মেয়ে সিমিন রহমানকে ১৪ হাজার ১৬০টি এবং ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমান ও ছোট মেয়ে শাযরেহ হককে চার হাজার ৭২০টি করে শেয়ার হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত দেখানো হয়। তবে বাদীপক্ষের দাবি, ২০২০ সালের ১৩ জুন এ ধরনের কোনো বোর্ড মিটিং আদৌ অনুষ্ঠিত হয়নি।

তদন্তকালে কোম্পানির বর্তমান পরিচালকদের কাছে সংশ্লিষ্ট বোর্ড মিটিংয়ের কাগজপত্র ও নোটিশ চাওয়া হলেও আসামিপক্ষ কোনো নথি উপস্থাপন করতে পারেনি। বোর্ড মিটিংয়ের আগে ই-মেইল বা ডাকযোগে কোনো নোটিশ পাঠানোর প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

চার্জশিটে আরও বলা হয়, শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আরজেএসসি (যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর) দাখিলকৃত কাগজপত্রেও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা কেউই আরজেএসসিতে উপস্থিত ছিলেন না। নিয়ম অনুযায়ী উভয় পক্ষের সশরীরে উপস্থিত থেকে প্রতিনিধির সামনে স্বাক্ষর করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি, যা ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ৩৮ ধারার লঙ্ঘন।

এ ছাড়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালে ভাই-বোনদের ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে অধিকাংশ শেয়ার নিজের নামে নেওয়ার উদ্দেশ্যে সিমিন রহমান পারিবারিক ডিড অব সেটলমেন্ট ও কোম্পানির নথিপত্র প্রস্তুত করেন। এ জন্য দুটি ভুয়া নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প এফিডেভিট ব্যবহার করা হয়, যেখানে বাবা, ভাই ও বোনদের স্ক্যান করা স্বাক্ষর সংযুক্ত ছিল। এসব নথি আরজেএসসিতে দাখিল করা হয়।

সম্প্রতি ডাক বিভাগ ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, ব্যবহৃত স্ট্যাম্প দুটি ২০২৩ সালে সৃজন করা হলেও সেগুলোকে ২০২০ সালের হিসেবে দেখানো হয়েছে। তদন্তে আরও উঠে আসে, সংশ্লিষ্ট স্ট্যাম্প ভেন্ডরের লাইসেন্স ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বাতিল হলেও তিনি অসদুপায়ে স্ট্যাম্প সরবরাহ করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ভাই-বোনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি লতিফুর রহমানের কন্যা শাযরেহ হক গুলশান থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় সিমিন রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়।