ভারতে বাসে যৌন নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, অভিযোগকারী গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৭:০৫:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২১৭৪ বার পড়া হয়েছে
দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যে এক পুরুষের আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই নারী গত সপ্তাহে বাসে সংঘটিত কথিত যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার দুই দিন পর দীপক নামের ওই ব্যক্তি আত্মহত্যা করেন।
নিহত দীপকের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ৩৫ বছর বয়সী শিমজিথা মুস্তফাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর দীপক ব্যাপক অনলাইন হয়রানির শিকার হন, যা তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।
গত সপ্তাহে মুস্তফা একটি বাসে ধারণ করা ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে তিনি ৪২ বছর বয়সী দীপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, দীপক ইচ্ছাকৃতভাবে তার বুকে কনুই দিয়ে আঘাত করেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং অনেকেই দীপকের সমালোচনা করেন।
এর দুই দিন পর দীপক আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় তার বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা জানান, দীপক যৌন হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান ‘সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়াল’-এর কারণে তিনি গভীর মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন।
শিমজিথা মুস্তফা স্থানীয় রাজনৈতিক দল ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের সঙ্গে যুক্ত একজন সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট নির্মাতা। দীপকের পরিবারের অভিযোগ, খ্যাতি ও অনুসারী বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ওই ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে।
তবে গ্রেপ্তারের আগে আপলোড করা আরেকটি ভিডিওতে মুস্তফা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, একটি গুরুতর সামাজিক ও মানসিক সমস্যা তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই প্রথম ভিডিওটি রেকর্ড ও প্রকাশ করেছিলেন।
দীপকের মায়ের দায়ের করা অভিযোগের পর পুলিশ মুস্তফার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করে, যা জামিন অযোগ্য। বুধবার আদালত তাকে ১৪ দিনের জন্য বিচারিক হেফাজতে পাঠান।
এদিকে কেরালা রাজ্য মানবাধিকার কমিশন কোঝিকোড় জেলার পুলিশকে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
১৮ জানুয়ারি ৪২ বছর বয়সে দীপকের আত্মহত্যার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তার পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও পুরুষ অধিকারকর্মীরা তার পক্ষে কথা বলেন।
দীপকের বন্ধু আসগর আলী বিবিসি হিন্দিকে বলেন, “দীপক এতটাই ভদ্র মানুষ ছিলেন যে তিনি কোনো নারীর প্রতি এমন আচরণ করতে পারেন—এটা বিশ্বাস করা কঠিন।”
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর দীপক অত্যন্ত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে ভিড়ের বাসে তার পেছনে কে দাঁড়িয়ে ছিল, সেটিও তিনি খেয়াল করতে পারেননি।
জানা গেছে, গত শুক্রবার একটি টেক্সটাইল কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি দীপক কোঝিকোড়ে ফিরছিলেন। সেই সময় একই বাসে ভ্রমণরত মুস্তফা ভিডিওটি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন এবং অভিযোগ করেন, দীপক ইচ্ছাকৃতভাবে তার শরীর স্পর্শ করেছেন।



























