ঢাকা ০৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

বিদেশি বিনিয়োগের প্রলোভনে টেলিগ্রাম প্রতারণা চক্রের দুই সদস্য আটক


নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:০৪:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২১০৪ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর থেকে টেলিগ্রামে বিদেশি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভুয়া গ্রুপ পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আরও দুইজনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জ থানা এলাকা থেকে রনজিত বসাক রওনক (২৫) এবং দিনাজপুর সদর থানার সুইহারী এলাকা থেকে পলাশ চন্দ্র বসাক (৪০)কে গ্রেফতার করা হয়। তারা দুজনেই ঠাকুরগাঁও জেলার রানিশৈংকল গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার প্রধান আসামি ফারদিন আহমেদ ওরফে প্রতীক (২৫) ও সহযোগী মো. সাগর আহমেদ (২৪) পূর্বে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই দুই আসামির নাম উল্লেখ করেছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রতারক চক্রটি টেলিগ্রামে “বিদেশি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম” নামে ভুয়া গ্রুপ খুলে অল্প সময়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে বিনিয়োগে প্ররোচিত করত। গ্রুপের ভুয়া পোস্ট ও সাজানো লাভের গল্পের মাধ্যমে মানুষকে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) একাউন্টে অর্থ পাঠানোর জন্য প্রলুব্ধ করা হতো। পরে চক্রটি এই অর্থ অবৈধভাবে আত্মসাৎ করত।

তদন্তে আরও জানা যায়, চক্রটি অবৈধ অর্থ নগদে রূপান্তরের জন্য অভিনব কৌশল ব্যবহার করত। মূলহোতা ফারদিন আহমেদ বিভিন্ন গাড়ির শোরুম থেকে গাড়ি ক্রয় করে স্বল্প সময়ে বিক্রি ও কাগজে লোকসান দেখিয়ে নগদ অর্থ উত্তোলন করতেন।

গ্রেফতার রনজিত বসাক গ্রুপের একজন সদস্য ছিলেন, আর পলাশ চন্দ্র বসাক মূলহোতা ‘মিশন’-এর ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি কমিশনভিত্তিতে কাজ করতেন এবং দৈনিক ন্যূনতম পারিশ্রমিক ১,৫০০ টাকা, তবে লেনদেন বেশি হলে ২০–২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন পেতেন। তিনি একাধিক সিমকার্ড ব্যবহার করে গ্রুপের লেনদেন তদারকি করতেন।

গ্রেফতার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়েছে। সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের নেতৃত্বে মামলার তদন্ত চলছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

বিদেশি বিনিয়োগের প্রলোভনে টেলিগ্রাম প্রতারণা চক্রের দুই সদস্য আটক

আপডেট সময় : ০৫:০৪:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর থেকে টেলিগ্রামে বিদেশি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভুয়া গ্রুপ পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আরও দুইজনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জ থানা এলাকা থেকে রনজিত বসাক রওনক (২৫) এবং দিনাজপুর সদর থানার সুইহারী এলাকা থেকে পলাশ চন্দ্র বসাক (৪০)কে গ্রেফতার করা হয়। তারা দুজনেই ঠাকুরগাঁও জেলার রানিশৈংকল গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার প্রধান আসামি ফারদিন আহমেদ ওরফে প্রতীক (২৫) ও সহযোগী মো. সাগর আহমেদ (২৪) পূর্বে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই দুই আসামির নাম উল্লেখ করেছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রতারক চক্রটি টেলিগ্রামে “বিদেশি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম” নামে ভুয়া গ্রুপ খুলে অল্প সময়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে বিনিয়োগে প্ররোচিত করত। গ্রুপের ভুয়া পোস্ট ও সাজানো লাভের গল্পের মাধ্যমে মানুষকে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) একাউন্টে অর্থ পাঠানোর জন্য প্রলুব্ধ করা হতো। পরে চক্রটি এই অর্থ অবৈধভাবে আত্মসাৎ করত।

তদন্তে আরও জানা যায়, চক্রটি অবৈধ অর্থ নগদে রূপান্তরের জন্য অভিনব কৌশল ব্যবহার করত। মূলহোতা ফারদিন আহমেদ বিভিন্ন গাড়ির শোরুম থেকে গাড়ি ক্রয় করে স্বল্প সময়ে বিক্রি ও কাগজে লোকসান দেখিয়ে নগদ অর্থ উত্তোলন করতেন।

গ্রেফতার রনজিত বসাক গ্রুপের একজন সদস্য ছিলেন, আর পলাশ চন্দ্র বসাক মূলহোতা ‘মিশন’-এর ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি কমিশনভিত্তিতে কাজ করতেন এবং দৈনিক ন্যূনতম পারিশ্রমিক ১,৫০০ টাকা, তবে লেনদেন বেশি হলে ২০–২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন পেতেন। তিনি একাধিক সিমকার্ড ব্যবহার করে গ্রুপের লেনদেন তদারকি করতেন।

গ্রেফতার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়েছে। সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের নেতৃত্বে মামলার তদন্ত চলছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।