তোপের মুখে অফিস ছাড়েন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক
- আপডেট সময় : ০৭:১১:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
- / ২১১০ বার পড়া হয়েছে
বিক্ষোভের মুখে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মামুনুর রশীদ কার্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংগঠনের একাংশের তোপের মুখে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
বুধবার (৩ জুন) সকালে নিজ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে কড়া নিরাপত্তায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন পরিচালক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, নার্স এবং ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতারা পরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তাদের দাবি, ডা. মামুনুর রশীদ বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তৎকালীন চিকিৎসকদের সংগঠন ‘স্বাচিপ’-এর সঙ্গে তার সক্রিয় সম্পৃক্ততা ছিল।
তথ্য গোপন করে তিনি এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন, এমন অভিযোগ এনে তার পদত্যাগের দাবি তোলা হয় এবং তার অধীনে কাজ না করার ঘোষণা দেন ড্যাব নেতারা।
ডা. মামুনুর রশীদ উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাচিপের সঙ্গে অতীতের সম্পৃক্ততার কথা আংশিক স্বীকার করে জানান, তৎকালীন প্রেক্ষাপটে তাকে যুক্ত হতে হয়েছিল। তবে ব্যক্তিজীবনে তিনি ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শ ধারণ করতেন বলেও দাবি করেন।
এ সময় ডা. মামুনুর রশীদের সঙ্গে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের বাগবিতণ্ডা হয়। চিকিৎসকরা দাবি করে বলেন, এই পরিচালকের জন্য তাদের অনেকের পদোন্নতি আটকে আছে।
এমন পরিস্থিতিতে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে আলোচনা করবেন এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলেও জানান।
ডা. মামুনুর রশীদ কার্যালয় ত্যাগ করার পরপরই বিক্ষোভকারীরা তার কক্ষের নামফলক সরিয়ে ফেলেন।
উল্লেখ্য, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর গত ২০ মে তিনি প্রথম দফায় কর্মস্থলে যোগ দিতে এলে ছাত্রদলের প্রতিরোধের মুখে পড়েন এবং যোগ না দিয়েই ফিরে যান।
পরদিন ২১ মে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করলেও যোগদানের অল্প কয়েক দিনের মাথায় আজ পুনরায় বিক্ষোভের মুখে কার্যালয় ছাড়তে বাধ্য হন। এই পদে বিগত সময়ে বঞ্চিত ও যোগ্য কাউকে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।




























