ইনিংস জয়ের দোরগোড়ায় বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৬:৩৯:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
- / ২১২৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের জয় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন শেষ করেছে জয়ের সুবাসে ভাসা নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অলৌকিক কিছু না ঘটলে জয়টি হবে বড় ব্যবধানে—এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে ম্যাচের বর্তমান চিত্র।
তৃতীয় দিন শেষে বড় বিপদে আয়ারল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৮৬ রান যোগ করতেই হারিয়েছে ৫ উইকেট। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের রান সমতায় আনতে এখনো ২১৫ রান প্রয়োজন অতিথিদের।
শেষ বিকেলে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং ধসের নেতৃত্ব দেন অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ। তিনি তুলে নেন আয়ারল্যান্ডের শেষ দুই উইকেট। ইনিংসের শুরুটা করে দেন পেসার নাহিদ রানা—অভিষেক ইনিংসে ফিফটি করা ক্যাড কারমাইকেলকে মাত্র ৫ রানে আউট করে।
দ্বিতীয় উইকেটে ৪৭ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন পল স্টার্লিং ও হ্যারি টেক্টর। কিন্তু রানআউট হয়ে স্টার্লিং ফিরে গেলে (৪৩ রান) ভেঙে পড়ে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন। এরপর দ্রুত আরও তিন উইকেট হারিয়ে ৮৬ রানে দিন শেষ করে তারা। ইনিংস হার এড়াতে হলে আগামীকাল অলৌকিক কিছু করতে হবে দুই অপরাজিত ব্যাটার অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন (৪*) ও ম্যাথিউ হামফ্রেইসকে (০*)।
দিনের শুরুটা যদিও বাংলাদেশের জন্য ছিল আক্ষেপের। মাহমুদুল হাসান জয় ও মুমিনুল হক দুজনই দিন শুরু করেছিলেন বড় ইনিংসের প্রত্যাশা নিয়ে, কিন্তু ব্যর্থ হন সে লক্ষ্য পূরণে। ১ উইকেটে ৩৩৮ রান থেকে খেলা শুরু করা বাংলাদেশ সকালেই হারায় দুজনকে। মাহমুদুল ১৭১ রানে থামলেও, মুমিনুল থামেন ৮২ রানে।
তবে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ইনিংসটাকে এগিয়ে নিয়ে যান দুর্দান্তভাবে। ১৪ চারের সাহায্যে তুলে নেন ক্যারিয়ারের অষ্টম টেস্ট সেঞ্চুরি। যদিও সেঞ্চুরি স্পর্শ করার পর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। তার এই ইনিংসের সুবাদে গড়া হয় এক নতুন রেকর্ড—বাংলাদেশের হয়ে প্রথমবারের মতো চার ব্যাটার খেলেছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস। তাদের মধ্যে আছেন আগের দিন ৮০ রানে আউট হওয়া সাইফ হাসানও।
শেষ দিকে ঝড় তোলেন লিটন দাস। ওয়ানডে মেজাজে খেলেছেন ৬৬ বলের ইনিংস, করেছেন ৬০ রান, যেখানে ছিল ৮ চার ও ১ ছক্কা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস থেমেছে ৮ উইকেটে ৫৮৭ রানে—যা টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
প্রতিপক্ষের হয়ে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট নিয়েছেন ম্যাথিউ হামফ্রেইস।
চতুর্থ দিন সকালেই হয়তো আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ—যখন ইনিংস ব্যবধানে জয়ের আনন্দে মাতবে টাইগার শিবির।




























