স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ সমাবর্তন ২০২৫: ন্যায়ভিত্তিক ও পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনের আহ্বান পরিবেশ উপদেষ্টার
- আপডেট সময় : ০১:০৩:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
- / ২১৯৭ বার পড়া হয়েছে
নিজেদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও দেশকে টিকিয়ে রাখতে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এখনই সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, পরিবেশবান্ধব ও নারী-বন্ধব সমাজ গঠনে সবার নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা জরুরি।
শনিবার রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের এক্সপো ভিলেজে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘সমাবর্তন ২০২৫’-এ সমাবর্তন বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজওয়ানা হাসান সতর্ক করে বলেন, “আমরা যে বাংলাদেশকে দেখি, আমাদের সন্তানেরা হয়তো সেই মানচিত্র আর নাও দেখতে পারে—যদি আমরা এখনই সচেতন না হই।” তিনি আরও বলেন, বায়ুদূষণ, বন ধ্বংস, নদী দূষণসহ বহু পরিবেশগত সমস্যা রাতারাতি দূর করা সম্ভব না হলেও ধাপে ধাপে সমাধানের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। ইতোমধ্যে নদী পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ও পরিবেশবান্ধব নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মানবিক সমাজ গঠনে প্রাণীকল্যাণের গুরুত্ব তুলে ধরে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ধর্মও মানুষকে প্রাণীর প্রতি দয়া ও সহমর্মিতা শিখায়। অথচ অনেক ক্ষেত্রে মানুষ প্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করে, যা বদলাতে হবে।
পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ভালো প্রজন্ম গঠনের মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হলে সবার আগে নিজেদের ভেতরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। সমাজে বাড়তে থাকা নেতিবাচক প্রচারণার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই বৈষম্যহীন সমাজ; তাই রাজনীতি হবে মানুষের অধিকার ও ক্ষমতায়নের রাজনীতি।”
সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ, পরিশ্রম, মানবসেবা ও স্বপ্ন দেখার মানসিকতা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. ফারাহনাজ ফিরোজ, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. ইউনুছ মিয়া এবং রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আব্দুল মতিন।
সমাবর্তন ২০২৫-এ ৫টি অনুষদ ও ১৪টি বিভাগ থেকে ১,৪০৭ জন গ্র্যাজুয়েটকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। সর্বোচ্চ সিজিপি অর্জনের ভিত্তিতে পাঁচ অনুষদের ১০ শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক এবং ৪০ শিক্ষার্থীকে ভাইস চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক দেওয়া হয়।



























