রান তাড়ায় দ্রুততম সেঞ্চুরির বিশ্ব রেকর্ড গড়ে হেড; দুই দিনেই ইংল্যান্ডকে পরাজিত করল অস্ট্রেলিয়া
- আপডেট সময় : ০৬:০৪:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
- / ২১৪১ বার পড়া হয়েছে
সকালটা ছিল ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে। অস্ট্রেলিয়াকে ১৩২ রানে গুটিয়ে দিয়ে প্রথম ইনিংসে ৪০ রানের লিড নেওয়ায় অ্যাশেজের শুরুটা দারুণই লাগছিল বেন স্টোকসদের জন্য। তবে দিনের শেষে সেই ইংল্যান্ডই ডুবেছে বিব্রতকর রেকর্ডে। পার্থে সফরকারীদের সেই হতাশার খাতায় বড় দাগ টেনে দিয়েছেন ট্রাভিস হেড।
মাত্র ২০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হেড একাই করেছেন ৮৩ বলে ১২৩। বাঁহাতি এই ব্যাটারের ইনিংসটি এসেছে টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে রান তাড়ায় দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ে—মাত্র ৬৯ বলে। তাঁর তাণ্ডবে অস্ট্রেলিয়া জয়ের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে।
ইংল্যান্ড হারেছে শুধু ৮ উইকেটে নয়, হার মেনেছে দুই দিনের মধ্যেই। অ্যাশেজের ১০৪ বছরে এই প্রথম কোনো দল দুই দিনের টেস্টে পরাজিত হলো। শেষবার এমন হয়েছিল ১৯২১ সালে নটিংহামে, প্রতিপক্ষ তখনো অস্ট্রেলিয়া।
হঠাৎ ওপেনার, রেকর্ডের ঝড়
উইকেটকিপার হওয়ায় সাধারণত ওপেন করেন না হেড। কিন্তু নিয়মিত ওপেনার উসমান খাজার অস্বস্তি থাকায় কোচ–অধিনায়ক তাঁকেই ওপেনিংয়ে পাঠান। নবমবারের মতো ওপেন করতে নেমে শুরুটা ছিল ধীর—প্রথম ১৪ বলে ৩ রান। কিন্তু এর পরই বদলে যায় দৃশ্যপট। ইংলিশ পেসারদের ধারাবাহিক শর্ট বলে পুল, র্যাম্প, ড্রাইভে চার–ছক্কার বন্যা বইয়ে দেন তিনি।
৩৬ বলে ফিফটি, আর ৬৯তম বলে সেঞ্চুরি—রান তাড়ায় এত দ্রুত তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন এমন ব্যাটার ছিলেন না টেস্ট ইতিহাসে। ১৯০২ সালে গিলবার্ট জেসফের ৭৬ বলে করা রেকর্ডটি ১২৩ বছর পর ভাঙলেন হেড।
ব্যাট ঘুরিয়ে ১৪ চার ও ৪ ছক্কায় ১২৩ রান করে যখন মাঠ ছাড়েন, অস্ট্রেলিয়ার জিততে বাকি মাত্র ১৩ রান। লাবুশেন (৫১*) ও স্মিথ সেই কাজ সেরে নেন ৯ বলেই। অস্ট্রেলিয়া ২৮.২ ওভারে ২ উইকেটে ২০৫ রানে জয় নিশ্চিত করে।
স্টার্ক–বোল্যান্ডের আগুনে ইংল্যান্ডের ধ্বংস
প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া মিচেল স্টার্ক দ্বিতীয় ইনিংসেও নেন ৪ উইকেট। ইংল্যান্ড ৪০ রানের লিড নিয়ে শুরুটা ভালো করলেও স্কট বোল্যান্ডের টানা ৩ উইকেটেই তাদের দুরবস্থা শুরু। পরে স্টার্কের তোপে ৮৮ রানে ৬ উইকেট হারায় সফরকারীরা। শেষদিকে অভিষিক্ত ব্রেন্ডন ডগেট নেন আরও ৩ উইকেট। মোটে ১৬৪ রানে থামে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস। দুই ইনিংস মিলিয়ে স্কোর দাঁড়ায় ২০৪—যা একাই পেরিয়ে যান হেড প্রায়!
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড: ১৭২ ও ১৬৪ (অ্যাটকিনসন ৩৭, পোপ ৩৩; বোল্যান্ড ৪/৩৩, স্টার্ক ৩/৫৫)
অস্ট্রেলিয়া: ১৩২ ও ২০৫/২ (হেড ১২৩, লাবুশেন ৫১*; কার্স ২/৪৪)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মিচেল স্টার্ক
সিরিজ: পাঁচ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে




























