ঢাকা ০৫:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার ৪ জনের মধ্যে ৩ জনকে রিমান্ডে পাঠাল আদালত


নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:১১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২০৯০ বার পড়া হয়েছে

প্রতিকী ছবি

সাভারের আশুলিয়ায় বেসরকারি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে অপহরণ, যৌন সহিংসতা, ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে গ্রেফতার চার শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ শুনানি শেষে দু’জনের তিন দিন করে ও একজনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে পাঠানো শিক্ষার্থীরা হলেন—ভুক্তভোগীর সহপাঠী তাজুল ইসলাম তাজ ও শ্রাবণ সাহা উৎস (প্রতি জন তিন দিন), এবং সিনিয়র শিক্ষার্থী অন্তু দেওয়ান (দুই দিন)।

অন্য আসামি দেলোয়ার ভূঁইয়ার রিমান্ড শুনানির তারিখ আগামী রোববার ধার্য করা হয়েছে। বুধবার আশুলিয়ার ফুলেরটেক এলাকার একটি মেস থেকে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আদালতে হাজিরের পর দেলোয়ার ভূঁইয়া শুরুতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানালেও পরে তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার পরিদর্শক সফিকুল ইসলাম সুমন প্রত্যেক আসামির সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত তিনজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং দেলোয়ারের শুনানি পিছিয়ে দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল পিকনিকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ছাত্রীটিকে ফুলেরটেক এলাকায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে অচেতন করে একটি মেসে নিয়ে যৌন সহিংসতা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। জ্ঞান ফেরার পর আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া ও অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে মোট ৯৬ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

গত ৪ ও ৬ নভেম্বর আবারও চাপ সৃষ্টি ও হুমকির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তাকে মারধর ও জোরপূর্বক নেশাজাতীয় পানীয় খাওয়ানোরও অভিযোগ রয়েছে। পরে অসুস্থ অবস্থায় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে তাকে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পরে পরিবারের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ জানালে আসামিরা আরও হুমকি দেয়। সর্বশেষ ২৬ নভেম্বর একটি কক্ষে আটকে রেখে অভিযোগ প্রত্যাহারের চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরে ২ ডিসেম্বর ছাত্রীটি আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার ৪ জনের মধ্যে ৩ জনকে রিমান্ডে পাঠাল আদালত

আপডেট সময় : ০৭:১১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

সাভারের আশুলিয়ায় বেসরকারি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে অপহরণ, যৌন সহিংসতা, ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে গ্রেফতার চার শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ শুনানি শেষে দু’জনের তিন দিন করে ও একজনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে পাঠানো শিক্ষার্থীরা হলেন—ভুক্তভোগীর সহপাঠী তাজুল ইসলাম তাজ ও শ্রাবণ সাহা উৎস (প্রতি জন তিন দিন), এবং সিনিয়র শিক্ষার্থী অন্তু দেওয়ান (দুই দিন)।

অন্য আসামি দেলোয়ার ভূঁইয়ার রিমান্ড শুনানির তারিখ আগামী রোববার ধার্য করা হয়েছে। বুধবার আশুলিয়ার ফুলেরটেক এলাকার একটি মেস থেকে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আদালতে হাজিরের পর দেলোয়ার ভূঁইয়া শুরুতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানালেও পরে তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার পরিদর্শক সফিকুল ইসলাম সুমন প্রত্যেক আসামির সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত তিনজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং দেলোয়ারের শুনানি পিছিয়ে দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল পিকনিকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ছাত্রীটিকে ফুলেরটেক এলাকায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে অচেতন করে একটি মেসে নিয়ে যৌন সহিংসতা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। জ্ঞান ফেরার পর আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া ও অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে মোট ৯৬ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

গত ৪ ও ৬ নভেম্বর আবারও চাপ সৃষ্টি ও হুমকির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তাকে মারধর ও জোরপূর্বক নেশাজাতীয় পানীয় খাওয়ানোরও অভিযোগ রয়েছে। পরে অসুস্থ অবস্থায় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে তাকে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পরে পরিবারের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ জানালে আসামিরা আরও হুমকি দেয়। সর্বশেষ ২৬ নভেম্বর একটি কক্ষে আটকে রেখে অভিযোগ প্রত্যাহারের চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরে ২ ডিসেম্বর ছাত্রীটি আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।