বিশ্বকাপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বহিষ্কারের দাবি তুললেন ব্রিটিশ এমপিরা
- আপডেট সময় : ০৭:১৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২০৯৪ বার পড়া হয়েছে
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের জেরে যুক্তরাষ্ট্রকে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে যুক্তরাজ্যে। দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একদল সংসদ সদস্য এ দাবি তুলেছেন।
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্ক, কিউবা ও কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ও গোপন সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দেন। এসব ঘটনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন ও বিভিন্ন দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা হয়েছে—এমন অভিযোগ এনেছেন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা।
এ প্রেক্ষাপটে ফিফাকে যুক্তরাষ্ট্রকে বহিষ্কারের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে একটি ক্রস-পার্টি গ্রুপ। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবার, লিবারেল ডেমোক্র্যাট, গ্রিন পার্টি ও প্লাইড কামরুর মোট ২৩ জন এমপি সংসদে একটি প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন। প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক আইন ও অন্যান্য দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বিশ্বকাপসহ বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসর থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বহিষ্কারের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ‘অপহরণ’ এবং ডেনমার্ক, কলম্বিয়া ও কিউবাসহ অন্যান্য সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দেওয়া হুমকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
এই প্রস্তাব উত্থাপনকারী লেবার এমপি ব্রায়ান লেইশম্যান দ্য মিররকে বলেন, “এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও ক্রীড়া সংস্থাগুলোর স্পষ্ট দ্বিচারিতা। ফিফা দাবি করে তারা রাজনৈতিক নয়, অথচ তারাই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পুরস্কৃত করছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, গত ডিসেম্বরে বিশ্ব ফুটবল সংস্থার সভাপতি ট্রাম্পকে প্রথম ফিফা শান্তি পুরস্কার প্রদান করেন। লেইশম্যান বলেন, “একটি সার্বভৌম দেশের ওপর হামলা এবং একজন প্রেসিডেন্টকে অপহরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি মাদুরোর তীব্র সমালোচক—এ কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই—তবুও যা ঘটেছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”
এদিকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনবিষয়ক বিশ্লেষক জন জেরাফা মনে করেন, সামনে ফিফা ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, “এই সংস্থাগুলোর সনদেই শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও বৈষম্যহীনতার কথা বলা আছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ন্যাটোভুক্ত ডেনমার্কের অধীন গ্রিনল্যান্ডে বলপ্রয়োগ করে, তখন কি একই নীতি কার্যকর থাকবে—সে প্রশ্ন উঠছে।”




























