ঢাকা ০৫:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

পিটিআইয়ের দাবি: বুলবুলের ওপর ক্ষুব্ধ আইসিসি বোর্ডের সদস্যরা


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০১:২৩:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২১০৮ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচ ভারত থেকে সরানোর শেষ মুহূর্তের চেষ্টা কার্যত ভেস্তে যেতে বসেছে। আইসিসির ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটিতে (ডিআরসি) বিসিবি চিঠি পাঠালেও, বিষয়টি ওই কমিটির এখতিয়ারের বাইরে পড়ায় শুনানিরই সুযোগ নেই বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি আইসিসি বোর্ড মিটিংয়ে ভোটাভুটির মাধ্যমে বাংলাদেশ দলের ম্যাচগুলো ভারতেই আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিসিবি ডিআরসি’তে আবেদন করে। তবে আইসিসির ডিআরসি’র টার্মস অব রেফারেন্স অনুযায়ী, আইসিসি বোর্ড বা কোনো সিদ্ধান্তগ্রহণকারী সংস্থার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শোনার ক্ষমতা এই কমিটির নেই।

ডিআরসি’র ধারা ১.৩–এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—এই কমিটি আইসিসি বোর্ড অব ডিরেক্টর্সের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আবেদন গ্রহণ করতে পারবে না। ফলে বিসিবির আবেদনের আইনগত ভিত্তি দুর্বল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘সব সম্ভাব্য আইনি পথ খোলা রাখতেই বিসিবি ডিআরসি’র দ্বারস্থ হয়েছে। যদি এখানে বিপক্ষে রায় আসে, তাহলে শেষ বিকল্প হিসেবে সুইজারল্যান্ডের কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস)-এ যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় থাকবে।’

তবে আইসিসির একটি সূত্র পিটিআইকে জানিয়েছে, ‘নিয়ম অনুযায়ী এই আবেদন শোনার কোনো সুযোগই নেই, কারণ এটি সরাসরি আইসিসি বোর্ড অব ডিরেক্টর্সের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।’

এদিকে আইসিসি বোর্ডের একাধিক সদস্য বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আইসিসিকে আগে অবহিত না করে সংবাদ সম্মেলন করার বিষয়টি তাদের মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আইসিসির কাঠামোর বাইরে থাকায় তার বক্তব্য আইসিসির বিবেচনায় না এলেও, বিসিবি সভাপতির এমন পদক্ষেপকে অনভিপ্রেত হিসেবে দেখছেন বোর্ড সদস্যরা।

ডিআরসি ব্রিটিশ আইনের অধীনে পরিচালিত একটি কমিটি। ২০১৮ সালে এই কমিটিই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) বিসিসিআইয়ের বিরুদ্ধে করা প্রায় ৭ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি খারিজ করে দিয়েছিল। ওই রায়ে ডিআরসি উল্লেখ করে, পিসিবি যে ‘মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’-এর কথা বলেছিল, সেটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক কোনো চুক্তি নয়; বরং এটি ছিল একটি ‘লেটার অব ইনটেন্ট’।

ডিআরসি মূলত যাচাই করে, আইসিসি বোর্ড সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজস্ব নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে কি না। এটি কোনো আপিল আদালত নয়।

ডিআরসি’র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইংল্যান্ডের প্রখ্যাত আইনজীবী মাইকেল বেলফ (কিংস কাউন্সেল)। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—মাইক হেরন (কিংস কাউন্সেল), বিচারপতি উইনস্টন অ্যান্ডারসন, ডিয়ন ভ্যান জিল (দক্ষিণ আফ্রিকা), গ্যারি রবার্টস (যুক্তরাষ্ট্র), গুও কাই (এশিয়া), অ্যানাবেল বেনেট, জঁ পলসঁ, পিটার নিকলসন (এথিক্স অফিসার), বিজয় মালহোত্রা (অডিট কমিটির চেয়ারম্যান) ও স্যালি ক্লার্ক (ম্যানেজমেন্ট সাপোর্ট)।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

পিটিআইয়ের দাবি: বুলবুলের ওপর ক্ষুব্ধ আইসিসি বোর্ডের সদস্যরা

আপডেট সময় : ০১:২৩:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচ ভারত থেকে সরানোর শেষ মুহূর্তের চেষ্টা কার্যত ভেস্তে যেতে বসেছে। আইসিসির ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটিতে (ডিআরসি) বিসিবি চিঠি পাঠালেও, বিষয়টি ওই কমিটির এখতিয়ারের বাইরে পড়ায় শুনানিরই সুযোগ নেই বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি আইসিসি বোর্ড মিটিংয়ে ভোটাভুটির মাধ্যমে বাংলাদেশ দলের ম্যাচগুলো ভারতেই আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিসিবি ডিআরসি’তে আবেদন করে। তবে আইসিসির ডিআরসি’র টার্মস অব রেফারেন্স অনুযায়ী, আইসিসি বোর্ড বা কোনো সিদ্ধান্তগ্রহণকারী সংস্থার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শোনার ক্ষমতা এই কমিটির নেই।

ডিআরসি’র ধারা ১.৩–এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—এই কমিটি আইসিসি বোর্ড অব ডিরেক্টর্সের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আবেদন গ্রহণ করতে পারবে না। ফলে বিসিবির আবেদনের আইনগত ভিত্তি দুর্বল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘সব সম্ভাব্য আইনি পথ খোলা রাখতেই বিসিবি ডিআরসি’র দ্বারস্থ হয়েছে। যদি এখানে বিপক্ষে রায় আসে, তাহলে শেষ বিকল্প হিসেবে সুইজারল্যান্ডের কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস)-এ যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় থাকবে।’

তবে আইসিসির একটি সূত্র পিটিআইকে জানিয়েছে, ‘নিয়ম অনুযায়ী এই আবেদন শোনার কোনো সুযোগই নেই, কারণ এটি সরাসরি আইসিসি বোর্ড অব ডিরেক্টর্সের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।’

এদিকে আইসিসি বোর্ডের একাধিক সদস্য বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আইসিসিকে আগে অবহিত না করে সংবাদ সম্মেলন করার বিষয়টি তাদের মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আইসিসির কাঠামোর বাইরে থাকায় তার বক্তব্য আইসিসির বিবেচনায় না এলেও, বিসিবি সভাপতির এমন পদক্ষেপকে অনভিপ্রেত হিসেবে দেখছেন বোর্ড সদস্যরা।

ডিআরসি ব্রিটিশ আইনের অধীনে পরিচালিত একটি কমিটি। ২০১৮ সালে এই কমিটিই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) বিসিসিআইয়ের বিরুদ্ধে করা প্রায় ৭ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি খারিজ করে দিয়েছিল। ওই রায়ে ডিআরসি উল্লেখ করে, পিসিবি যে ‘মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’-এর কথা বলেছিল, সেটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক কোনো চুক্তি নয়; বরং এটি ছিল একটি ‘লেটার অব ইনটেন্ট’।

ডিআরসি মূলত যাচাই করে, আইসিসি বোর্ড সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজস্ব নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে কি না। এটি কোনো আপিল আদালত নয়।

ডিআরসি’র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইংল্যান্ডের প্রখ্যাত আইনজীবী মাইকেল বেলফ (কিংস কাউন্সেল)। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—মাইক হেরন (কিংস কাউন্সেল), বিচারপতি উইনস্টন অ্যান্ডারসন, ডিয়ন ভ্যান জিল (দক্ষিণ আফ্রিকা), গ্যারি রবার্টস (যুক্তরাষ্ট্র), গুও কাই (এশিয়া), অ্যানাবেল বেনেট, জঁ পলসঁ, পিটার নিকলসন (এথিক্স অফিসার), বিজয় মালহোত্রা (অডিট কমিটির চেয়ারম্যান) ও স্যালি ক্লার্ক (ম্যানেজমেন্ট সাপোর্ট)।